1. econimicnews24@gmail.com : Nayan Sharkar : Nayan Sharkar
  2. economicnews24bd@gmail.com : Nurnnobi Sarker : Nurnnobi Sarker
  3. editor.econimicnews24@gmail.com : Fahim Fahim : Fahim Fahim
  4. jmitsolution24@gmail.com : support :
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৩ অপরাহ্ন
Title :
পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা করেছে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা করেছে সিকদার ইন্স্যুরেন্স পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা করেছে পদ্মা অয়েল ডি-থ্রি টুর্নামেন্টে তারকায় ঠাসা ওয়ালটনের চোখ শিরোপায় ‘এআই পাওয়ার ট্যুরিজম, সাসটেইনেবল ডেসটিনেশন’ প্রতিপাদ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার ২০২৬ টফিতে যুক্ত হলো ১,০০০-এর বেশি নতুন কনটেন্ট ”ছয় বছরে গীতিকবি সংঘ বাংলাদেশ: কপিরাইট আন্দোলন থেকে গীতিকবিদের কল্যাণ” টেককানেক্ট ২০২৬ সংযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর ডিজিটাল প্রবৃদ্ধির ওপর জোর হ্যান্ডহেল্ড গার্মেন্ট স্টিমারসহ নতুন পার্সোনাল কেয়ার ডিভাইস আনল শাওমি টামেক হাসপাতালে ‘স্বচ্ছ অভিযোগ বক্স’ স্থাপনের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর

টেককানেক্ট ২০২৬ সংযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর ডিজিটাল প্রবৃদ্ধির ওপর জোর

  • আপডেট : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৯.০০ পিএম
  • ৪৯ Time View

[ঢাকা, ২৭ অক্টোবর ২০২৬]: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সংযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে, এ বিষয়ে আলোচনার জন্য ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ টেককানেক্ট ২০২৬’। বাংলাদেশ সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং হুয়াওয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে অংশ নেন নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিসহ পাঁচ শতাধিক ব্যক্তি।

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ড. মো. কামরুজ্জামান, এনডিসি; তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব মোঃ মামুনুর রশীদ ভূঞা এবং হুয়াওয়ে দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট জেসন উ’র উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন ডাক,  টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের যুগ্ম সচিব সাইদা আফরোজ।

শক্তিশালী নেটওয়ার্ক, নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল অবকাঠামো এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ, বিনিয়োগনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, এমপি বলেন, “বাংলাদেশ ফার্স্ট’ রূপকল্পকে সামনে রেখে আমরা একটি সমৃদ্ধ ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে কাজ করছি। এ জন্য নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরি, বাংলাদেশকে তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা এবং আগামী পাঁচ বছরে ডিজিটাল খাতে ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। দেশের টেলিযোগাযোগ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের উন্নয়নে হুয়াওয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রাকে আরও এগিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি।”

শুভেচ্ছা বক্তব্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ড. মো. কামরুজ্জামান, এনডিসি বলেন, “বাংলাদেশ টেককানেক্ট এখন একটি জাতীয় পর্যায়ের প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে, যেখানে সরকার, শিল্পখাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী ও গণমাধ্যমের পাঁচ শতাধিক প্রতিনিধি একত্রিত হয়েছেন। আমাদের সবার লক্ষ্য হলো নীতিনির্ধারক ও শিল্পখাতের মধ্যে সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করা। কারণ, ডিজিটাল অবকাঠামো এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং একটি সমৃদ্ধ, বিনিয়োগনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।”

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব মোঃ মামুনুর রশীদ ভূঞা বলেন, “বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করতে সরকার পাঁচটি কৌশলগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে। এগুলো হলো শক্তিশালী আইনি ও নীতিগত কাঠামো, নির্ভরযোগ্য সংযোগব্যবস্থা, ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার নিরাপত্তা এবং দেশীয় উৎপাদন। আমরা ইতোমধ্যে একটি জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছি, যা আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার আশা করছি। সরকার ও শিল্পখাতের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই পাঁচটি অগ্রাধিকারের মাধ্যমে একটি সমন্বিত, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য, যা প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ, সরকারি সেবার মান উন্নয়ন এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।”

হুয়াওয়ে দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট জেসন উ বলেন, “বাংলাদেশের ডিজিটাল অবকাঠামোর উন্নয়ন ও প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণে হুয়াওয়ে সরকার এবং শিল্পখাতের অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংযোগব্যবস্থা, ক্লাউড এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তিতে আমাদের সক্ষমতার মাধ্যমে স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা বাড়াতে, নতুন সেবা উদ্ভাবনে এবং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি ডিজিটাল প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখতে আমরা কাজ করতে চাই।”

অনুষ্ঠানে ‘ভবিষ্যত প্রযুক্তি ও কানেক্টিভিটি’, ‘শিল্পখাতে দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রযুক্তির ভূমিকা’, এবং ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: বৈশ্বিক প্রবণতা, প্রভাব ও বাংলাদেশের প্রস্তুতি’ শীর্ষক তিনটি পৃথক প্যানেল আলোচনারও আয়োজন করা হয়। আলোচনা তিনটি সঞ্চালনা করেন বিটিআরসির কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ইকবাল আহমেদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা নওশিন পর্ণিনী, এবং জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমান। প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশগ্রহণ করেন টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) এবং প্রযুক্তিশিল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এসব আলোচনায় বাংলাদেশে ফাইভজি ও সংযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রযুক্তির মাধ্যমে শিল্পখাতের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের প্রস্তুতির বিষয়গুলো উঠে আসে। পাশাপাশি তৈরি পোশাক শিল্প (আরএমজি), বন্দর, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন খাতে ফাইভজি, ফিক্সড ওয়্যারলেস অ্যাকসেস (এফডব্লিউএ) এবং এন্টারপ্রাইজ কানেক্টিভিটির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

এছাড়া ক্লাউড কম্পিউটিং, অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক নিরাপত্তাব্যবস্থা ও স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, অপারেটিং খরচ কমানো এবং সরকারি সেবার মান উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক আলোচনায় ব্যাংকিং, উৎপাদন, পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ এবং সরকারি সেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে নির্ভরযোগ্য ক্লাউড অবকাঠামো, প্রয়োজনীয় তথ্যের প্রস্তুতি, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং সহায়ক নীতিমালার গুরুত্ব তুলে ধরেন বক্তারা।

সম্মেলনের প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল রূপান্তর, স্মার্ট গভর্নমেন্ট, স্মার্ট এডুকেশন, ডিজিটাল পাওয়ার, স্মার্টফোন প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন সমাধান তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ডিজিটাল পাওয়ার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও এন্টারপ্রাইজ এবং ডিজিটাল অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান নিয়ে উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ অভিজ্ঞতা ও মতামত বিনিময়ের পাশাপাশি ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর »
© 2026 - Economic News24. All Rights Reserved.
Economicnews24 .com