1. econimicnews24@gmail.com : Nayan Sharkar : Nayan Sharkar
  2. economicnews24bd@gmail.com : Nurnnobi Sarker : Nurnnobi Sarker
  3. editor.econimicnews24@gmail.com : Fahim Fahim : Fahim Fahim
  4. jmitsolution24@gmail.com : support :
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০১:১৮ অপরাহ্ন

ভারতে অনুমোদন পেল ডেঙ্গুর টিকা ‘কিউডেঙ্গা’

  • আপডেট : বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১০.১৮ এএম
  • ৬০ Time View

ভারতে প্রথমবারের মতো ডেঙ্গুর টিকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দেশটির ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল (ডিসিজিআই) সম্প্রতি তাকেদা বায়োফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডিয়ার তৈরি ডেঙ্গুর টিকা ‘কিউডেঙ্গা’ বাজারজাতকরণের অনুমোদন দিয়েছে। কোম্পানিটির প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে গণমাধ্যম।

এর মাধ্যমে কিউডেঙ্গা ভারতে বাজারজাতকরণের অনুমোদন পাওয়া প্রথম ডেঙ্গুর টিকা হতে যাচ্ছে।

৪ থেকে ৬০ বছর বয়সী ব্যক্তিরা দুই ডোজের এই টিকা নিতে পারবেন। তিন মাসের ব্যবধানে দুটি ডোজ গ্রহণ করতে হবে। এই টিকা ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই সুরক্ষা দিতে সক্ষম।

এমন সময়ে এই টিকার অনুমোদন এলো, যখন ভারতে ডেঙ্গু একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত দুই দশকে দেশটিতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১১ গুণ বেড়েছে। বিশ্বব্যাপী ডেঙ্গুর মোট রোগীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ভারতীয়।

কোম্পানির দাবি, আগে কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে থাকুক বা না থাকুক, কিউডেঙ্গা টিকা নেওয়া যাবে। টিকা দেওয়ার আগে ডেঙ্গু সংক্রমণ হয়েছে কি না, তা জানতে কোনো প্রাক্-টিকাদান পরীক্ষার (প্রি-ভ্যাকসিনেশন স্ক্রিনিং) প্রয়োজন হবে না।

বিভিন্ন মডেলভিত্তিক গবেষণায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, প্রকৃত সংক্রমণের সংখ্যা সরকারি হিসাবে প্রকাশিত সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি।

ভারতে কিউডেঙ্গার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে তাকেদার বৈশ্বিক ক্লিনিক্যাল উন্নয়ন কর্মসূচির তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে। এ কর্মসূচির আওতায় ফেজ-১, ফেজ-২ ও ফেজ-৩-এর মোট ১৯টি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালিত হয়েছে, যেখানে ডেঙ্গুপ্রবণ ও ডেঙ্গু-অপ্রবণ অঞ্চলের ২৮ হাজারের বেশি ব্যক্তি অংশ নিয়েছেন।

ফেজ-৩-এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ডেঙ্গুপ্রবণ আটটি দেশের ২০ হাজারের বেশি ব্যক্তি অংশ নেন।

তাকেদার তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার ১২ মাস পর পরীক্ষাগারে নিশ্চিত (ভাইরোলজিক্যালি কনফার্মড) ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকাটির কার্যকারিতা ছিল ৮০ দশমিক ২ শতাংশ। আর ডেঙ্গুজনিত হাসপাতালে ভর্তি প্রতিরোধে ১৮ মাস পর এর কার্যকারিতা ছিল ৯০ দশমিক ৪ শতাংশ।

এ ছাড়া সাড়ে চার বছর পর্যন্ত ফলোআপ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডেঙ্গুজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি প্রতিরোধে টিকাটির কার্যকারিতা ছিল ৮৪ দশমিক ১ শতাংশ। আর সাত বছর পর্যন্ত ফলোআপে ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই ডেঙ্গু রোগ এবং ডেঙ্গুজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি প্রতিরোধে টিকাটি দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা দিয়েছে।

ভারতে এই অনুমোদনের পক্ষে ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সী অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে পরিচালিত একটি ফেজ-৩ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফলও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

ওষুধ কোম্পানির দাবি, ওই গবেষণায় দেখা গেছে, শিশু, কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে টিকাটি নিরাপদ, সহনীয় এবং শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা সৃষ্টি করতে সক্ষম।

তাকেদা জানিয়েছে, কিউডেঙ্গা এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপের ৪৩টি দেশে অনুমোদন পেয়েছে। সরকারি-বেসরকারি টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে এ পর্যন্ত টিকার ৩ কোটি ২০ লাখের বেশি ডোজ বিতরণ করা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ডেঙ্গুর উচ্চ সংক্রমণ রয়েছে—এমন ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকায় কিউডেঙ্গা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। এ ছাড়া টিকাটি ডব্লিউএইচওর প্রি-কোয়ালিফিকেশনও অর্জন করেছে।

বর্তমানে কিউডেঙ্গা ব্রাজিলের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়া আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার সরকারি টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমেও এটি পাওয়া যাচ্ছে।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, ভারতে টিকাটি পরিকল্পিতভাবে সরবরাহ ও সহজলভ্য করতে তারা দেশটির নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ, জনস্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং স্বাস্থ্যসেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর »
© 2026 - Economic News24. All Rights Reserved.
Economicnews24 .com