লিটন পাঠান, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ুয়া ৯ বছরের এক স্কুলছাত্রীকে মুখে গামছা বেঁধে নির্জন বাঁশঝাড়ে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত আফরোজ মিয়া (৩৫)-কে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা। গতকাল সোমবার রাতে নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের বড়চর বাজারে এই গণপিটুনির ঘটনা ঘটে। আটক আফরোজ মিয়া উপজেলার বড়চর গ্রামের মৃত কনর মিয়ার ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার বিকালে তৃতীয় শ্রেণীর ওই ছাত্রীটি বাড়ির পাশের একটি দোকানে যাচ্ছিল।
পথিমধ্যে আফরোজ মিয়া ও তার এক সহযোগী মিলে শিশুটির মুখে গামছা বেঁধে জোরপূর্বক পাশের একটি নির্জন বাঁশঝাড়ে নিয়ে যায় এবং তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীকে ফেলে পালিয়ে যায়। পরদিন গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে প্রথমে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক ছিল।
সোমবার রাতে পার্শ্ববর্তী বাহুবল উপজেলার দিগম্বর বাজারে মূল অভিযুক্ত আফরোজ মিয়াকে দেখতে পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে ধরে ফেলেন। পরে তাকে বড়চর বাজারে নিয়ে আসা হলে শত শত জনতা জড়ো হয়ে তাকে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত আফরোজকে আটক করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোনায়েম মিয়া প্রধান অভিযুক্তকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগী শিশুকে বর্তমানে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনায় নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।