বাংলাদেশ পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত সহকারী টাউন সাব-ইন্সপেক্টর (এটিএসআই) ও টাউন সাব-ইন্সপেক্টর (টিএসআই) সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি না হওয়ায় তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও বছরের পর বছর পদোন্নতি না পাওয়ায় তারা নিজেদেরকে বৈষম্যের শিকার বলে দাবি করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২০২৫ সালে কনস্টেবল ও নায়েক থেকে এএসআই (নিরস্ত্র ও সশস্ত্র) পদে প্রায় শতভাগ পদোন্নতি দেওয়া হলেও ট্রাফিক বিভাগে সেই অগ্রগতি দেখা যায়নি। একই সময়ে এটিএসআই পদে ৫৫৯ জন এবং টিএসআই পদে ৬০ জন সদস্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও তাদের অধিকাংশ এখনও পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন।
তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এটিএসআই পদে মাত্র ৩০ জন এবং টিএসআই পদে ৫ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি অল্প কয়েকজনের ক্লিয়ারেন্স চাওয়ায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের মধ্যে।
ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলোতে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে তারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও তাদের অবদান যথাযথ মূল্যায়ন পাচ্ছে না। দীর্ঘদিন একই পদে থাকায় অনেকের মধ্যে হতাশা ও কর্মস্পৃহা হ্রাস পাচ্ছে।
এদিকে ২০২০ সালে এটিএসআই পদকে “সহকারী সার্জেন্ট” এবং টিএসআই পদকে “সার্জেন্ট” হিসেবে পুনঃনামকরণের একটি প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রশাসনিক জটিলতায় বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে।
বর্তমানে দেশে প্রায় ২ হাজার ৮ জন এটিএসআই এবং ৪৪৭ জন টিএসআই সদস্য পদোন্নতি অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
সামনে ঈদুল আজহা উপলক্ষে মহাসড়কে যানজট ও সড়ক ব্যবস্থাপনা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, অভিজ্ঞ ট্রাফিক সদস্যদের দ্রুত পদোন্নতি ও কার্যকর পদায়ন করা হলে জনবল সংকট কমার পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সহজ হবে।
এটিএসআই ও টিএসআই সদস্যদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে—দ্রুত পদোন্নতি, পর্যাপ্ত শূন্যপদ সৃষ্টি, বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ এবং পদোন্নতি নীতিমালায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশ সংস্কারের অংশ হিসেবে ট্রাফিক বিভাগের দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান জরুরি। জনগণের প্রত্যাশা, নতুন বাংলাদেশে পুলিশ বাহিনী হবে আরও পেশাদার, মানবিক ও বৈষম্যমুক্ত।