নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)র কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কমরেড ডাঃ এম এ সামাদ ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাহিদুর রহমান আজ ১ মে ২০২৩ সংবাদপত্রে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেন, কৌশলগত অংশীদারিত্বের নামে ইন্দো—প্যাসিফিক স্ট্রাটেজি (আইপিএস) ও কোয়াড এর মতো সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ জোটে বাংলাদেশ যুক্ত হলে তা হবে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত সংবিধানের চরম লংঘন।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় আরও বলেন, বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের প্রভু মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আপন স্বার্থে বিশ্বের দেশে দেশে আগ্রাসন—লুণ্ঠন চালিয়ে আসছে। যুদ্ধ বাঁধিয়ে অস্ত্র বিক্রয় করছে অর্থনীতিকে সামরিক অর্থনীতিতে পরিণত করছে। লুটপাট চাঙ্গা রাখতে সমরাস্ত্র বিক্রি করতে দেশে দেশে যুদ্ধ—যুদ্ধোন্মদনা আঞ্চলিক ও খণ্ডযুদ্ধ বাধাচ্ছে।
নেতৃদ্বয় বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে বর্তমানে সংকট কাল চলছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর মার্কিন নেতৃত্বে এক কেন্দ্রিক যে বিশ্বব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল তা বর্তমানে ভাঙতে বসেছে। ব্যবসা—বাণিজ্যের বিনিময়ের প্রধান মাধ্যম মার্কিন ডলারের শ্রেষ্ঠত্ব কমতে শুরু করেছে। এখন চীনা অর্থনীতি মার্কিন অর্থনীতিকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার মোড়লিপনা ধরে রাখতে এবং ডলারের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে বিশ্বব্যাপী তান্ডব শুরু করেছে। ফলে চীনকে কোণঠাসা করতে এশিয়া—প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত অংশীদারিত্বের নামে বিভিন্ন সামরিক যুদ্ধ জোট গড়ে তুলছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ভৌগলিক দিক থেকে বাংলাদেশের গুরুত্ব সাম্রাজ্যবাদীদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেজন্য মার্কিন নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আইপিএস এবং কোয়াডে যোগ দিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্রমাগত বাংলাদেশকে চাপ দিয়ে আসছে। তাই সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার ১৫ দফা আইপিএস রূপরেখা ঘোষণা করেছে। আমরা মনে করি বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যে কোন সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ জোটে যোগদান হবে দেশের স্বাধীনতা—সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি স্বরূপ এবং সংবিধান বর্ণিত জোট নিরপেক্ষ পররাষ্ট্র নীতির চরম লংঘন। দেশ ও জনগণের সাথে বেঈমানী করে কৌশলগত অংশীদারিত্বের নামে কোন যুদ্ধজোটে যুক্ত না হওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই। কোন গোষ্ঠীকে ক্ষমতায় থাকার জন্য সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতি স্বীকার করে যদি কোন যুদ্ধজোটে যুক্ত হওয়ার জন্য সরকার অপচেষ্টা চালায় তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ—প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানাই।