সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
১৮ দিনে দেশে এলো ১.৯৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স ব্যবসাবান্ধব পরিবেশে গতি আনতে ৫ ব্যাংকের সঙ্গে বিডার এমওইউ মাদকের টাকার জন্য বসতঘরে আগুন দিয়ে মাকে হত্যার চেষ্টায় আটক কুলাঙ্গার ছেলে, পুলিশে দিলো জনতা! প্রায় ০৩ লক্ষ টাকা মূল্যমানের ০৯ কেজি গাঁজাসহ ০৩ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০ ​দিরাইয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে মব কালচারের শিকার সংবাদকর্মী রিফাত: জামায়াত নেতা ইমরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা করেছে ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা করেছে মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা করেছে হাইডলবার্গ মেটেরিয়ালস পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা করেছে আনলিমা ইয়ার্ন পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা করেছে সিটি ইন্স্যুরেন্স

রপ্তানিতে সুবাতাস স্কয়ার ফার্মার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ২১৪ Time View

দেশের ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো রপ্তানির ক্ষেত্রে সু-সময় পার করছে। দেশের ওষুধ কোম্পানিগেুলোর প্রতি বছরই ওষুধ রপ্তানি থেকে আয় বেড়ে চলেছে। ২০১৫ সালে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) জন্য ২০৩২ সাল পর্যন্ত ওষুধের মেধাস্বত্বে ছাড় (মেধাস্বত্ব অধিকার-ট্রিপস) দেয়ার পর থেকে এ খাতের রপ্তানির পালে বাড়তি হাওয়া লাগে। এরপর করোনা চিকিৎসার ওষুধ রপ্তানি করে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে ওষুধ খাত।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ২০২১-২২ অর্থবছরে রপ্তানি প্রাপ্তিতে ১২.৫৮ শতাংশ বার্ষিক বৃদ্ধি করেছে। নীতিগত সহায়তা এবং মানসম্পন্ন ওষুধ তৈরির জন্য প্রযুক্তি-বুদ্ধিসম্পন্ন যন্ত্রপাতি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এমন প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এছাড়াও, রপ্তানি বাস্কেটে অ্যান্টি-কোভিড ওষুধের অন্তর্ভুক্তিও এর রপ্তানি আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানটির ২০২১-২২ অর্থ ছরে রপ্তানি আয় করেছে ১৭০ কোটি টাকার। যা আগের বছরে ছিল ১৫১ কোটি টাকা।

কোম্পানিটি তার বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, “তারা অভ্যন্তরীণ এবং বৈশ্বিক উভয় বাজারে শক্তিশালী অবস্থান তৈরী করতে মেশিন লার্নিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বায়োটেকনোলজি সহ আধুনিক প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করেছে।” একই সাথে বলা হয়েছে দেশের ওষুধ প্রস্তুতকারকদের বৈশ্বিক বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সময় উপযোগী নীতি সহায়তা অপরিহার্য।

স্কয়ার ফার্মার ওষুধ এখন ৪৫ টিরও বেশি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। ঔষধ প্রস্তুতকার প্রতিষ্ঠানটির বলছে তারা বিশ্ব বাজারে আরো শক্তিশালি অবস্থান তৈরি করতে কাজ করছে।

প্রতিষ্ঠানটি আমেরিকার বাজার দখলের জন্য আরও কয়েকটি পণ্যের অনুমোদন পাওয়ার বিষয়েও কাজ করছে।

২০২১-২২ অর্থবছরে ১৩.৮১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি সহ ৬,৬৪১ কোটি টাকা আয় করতে সক্ষম হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫,৮৩৫ কোটি টাকা আয় করেছিল।

প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা গত ২০২১-২২  অর্থবছরে ১৩.৯৮ শতাংশ বেড়ে ১,৮১৮ কোটি টাকা হয়েছে যা আগের ২০২০-২১ অর্থবছরে ১,৫৯৫ কোটি টাকা ছিল।
প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ২০২১-২২ অর্থবছর শেষে ২০.৫১ টাকায় দাঁড়িয়েছে যা আগের ২০২০-২১ অর্থবছরে ১৭.৯৯ টাকা ছিল।

স্কয়ার ফার্মার ম্যানেজিং ডিরেক্টর তপন চৌধুরী এই সাফল্যকে উৎসর্গ করেছেন তার কর্মচারীদের। যারা করোনভাইরাস এর মহামারী এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো কঠিন সময়েও কঠোর পরিশ্রম করেছে।

তিনি বলেছেন চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা মুদ্রা সংকট, তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং খাদ্য সংকট সহ অনেক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, যার ফলে ওষুধ প্রস্তুতকারকদের উৎপাদন খরচ বেড়েছে।

স্কয়ার ফার্মার পরিচালনা পর্ষদ ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়া বছরের জন্য ১০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ করেছে, যা কোম্পানির ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

আগামী ২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) থেকে লভ্যাংশ এর চূড়ান্ত অনুমোদন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কোম্পানিটি ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য শেয়ার প্রতি সমন্বিতি নেট এ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) ১১৬.৭ টাকা এবং  একত্রিত নেট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো (এনওসিএফপিএস) ১৪.৫২ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। যা আগের বছরে যথাক্রমে ১০২.৫৪ টাকা এবং ১২.৩৮ টাকা ছিল।

স্কয়ার ফার্মা ২০২০-২১ অর্থবছরে জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ৬০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ বিতরণ করেছিল। দেশের ৩.২ বিলিয়ন ডলারের ওষুধের বাজারে ১৭.২ শতাংশ বাজার শেয়ার নিয়ে স্কয়ার ফার্মা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান।

ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটি বিএমআরইতে (ভারসাম্য, আধুনিকীকরণ, পুনর্বাসন এবং সম্প্রসারণ) ১,০৫০ কোটি টাকার বিনিয়োগ করেছে। এটি বাস্তবায়ন করতে নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং সম্প্রসারণের জন্য জমি ক্রয় তে চার বছরে এটি পরিকল্পনা করেছে।

স্কয়ার ফার্মার একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, “বিনিয়োগ আমাদের নিয়মিত কার্যক্রম এবং সম্প্রসারণ পরিকল্পনার একটি অংশ। আমরা বিনিয়োগ পরিকল্পনার জন্য আমাদের লাভের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বরাদ্দ করি। কারণ পুরানো যন্ত্রপাতিগুলিকে আপগ্রেড করতে হবে এবং আরও অগ্রগতির জন্য নতুন সরঞ্জামগুলিও প্রয়োজন।”
নতুন ওষুধ উন্মোচন এর পাশাপাশি শক্তিশালী বিপণন কৌশলের উপর ভর করে ইতিমধ্যে ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটি তার ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি করেছে।

১৯৯৫ সালে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানিটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ট্রেডিং ফ্লোরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি ২০৯.৮ টাকায় লেনদেন হয়েছে।

১০০০ কোটি টাকার অনুমোদিত মূলধন সহ, ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটির পরিশোধিত মূলধন ৮৮৬ কোটি টাকা। এর মোট সিকিউরিটির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৮৫.৯৫ মিলিয়ন। ২০২১-২০২২ সালে কোম্পানির দাঁড়িয়েছে ৮,১১৭ কোটি টাকা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর »

Advertisement

Ads

Address

© 2026 - Economic News24. All Rights Reserved.

Design & Developed By: ECONOMIC NEWS