ব্যাংকখাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার চলতি বছরেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রাধিকারভিত্তিক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং কিছু কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো ব্যাংকভিত্তিক খেলাপি ঋণ কমানোর কার্যক্রম জোরদার করা, দীর্ঘদিনের অনিষ্পন্ন খেলাপি ঋণ দ্রুত নিষ্পত্তি, ব্যাংকের ব্যালেন্স শিট পরিষ্কার করা এবং ঋণ পুনরুদ্ধার ও সমস্যাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য আরও কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা।
তিনি বলেন, যেসব ব্যাংকে শ্রেণিকৃত ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি, সেসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা এবং নিবিড় তদারকির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব আলোচনায় খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির কারণ, ঋণ আদায়ের বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা এবং তা নিরসনে ব্যাংকভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন অগ্রগতিও নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে।
দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়ী এবং প্রচলিত পদ্ধতিতে পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা সীমিত এমন ঋণ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষ এককালীন এক্সিট সুবিধা চালু করা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতাদের ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত এ সুবিধার আওতায় ঋণ নিষ্পত্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অনিষ্পন্ন ও খেলাপি ঋণের কার্যকর সমাধান এবং ব্যাংকের ব্যালেন্স শিট থেকে সমস্যাগ্রস্ত সম্পদ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া সহজ হবে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, খেলাপি ঋণ ও সমস্যাগ্রস্ত সম্পদের ব্যবস্থাপনা, পুনর্গঠন ও নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত কাঠামো প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চলতি বছরের মধ্যেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সমস্যাগ্রস্ত ও অনাদায়ী সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনা, পুনর্গঠন এবং নিষ্পত্তির জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হবে।