নিজস্ব সংবাদদাতা: ঢাকার সাভার ও আশুলিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত সচিবদের টার্গেট করে একটি কুচক্রী মহল ও ভুঁইফোড় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেইল ও হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ‘দৈনিক ঊষার বাণী’ পত্রিকার প্রতিনিধি মো. শুকুর আলী তথাকথিত কিছু ফেসবুক পেজ এবং নামসর্বস্ব প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে ভিত্তিহীন সংবাদের ভয় দেখিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই অপতৎপরতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কথিত ‘দৈনিক ঊষার বাণী’ পত্রিকার সাভার প্রতিনিধি শুকুর আলী এবং তার সহযোগিতায় গড়ে ওঠা একটি ভুঁইফোড় অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক পেজ পরিচালনাকারীদের সিন্ডিকেট।
চাঁদাবাজি ও হয়রানির অপকৌশল
স্থানীয় ও দাপ্তরিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ভিজিডি-ভিজিএফ কার্ড বিতরণ এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ফাইলপত্র নিয়ে অসত্য তথ্য প্রচারের হুমকি দিয়ে আসছে।
ভিত্তিহীন সংবাদের ভয়: ইউনিয়ন পরিষদ সচিবগণ যখন সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়ায় দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তখন এই চক্রটি নানা কৃত্রিম ত্রুটি খোঁজার চেষ্টা করে। ক্ষেত্রবিশেষে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয়।
মানসম্মান ক্ষুণ্নের ব্ল্যাকমেইল: সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার ভয় দেখিয়ে এবং দাপ্তরিক হয়রানি এড়াতে অনেক সময় বাধ্য হয়েই সচিবরা এই চক্রটির সঙ্গে সমঝোতায় যেতে বাধ্য হন—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্যও রয়েছে।
অনৈতিক চাপ সৃষ্টি: বিশেষ করে ‘দৈনিক ঊষার বাণী’র প্রতিনিধি শুকুর আলীসহ চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন অজুহাতে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়গুলোতে গিয়ে অহেতুক ভিড় জমান এবং দাপ্তরিক কাজে বাধা সৃষ্টি করে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা চালান।
সচিব ও সচেতন মহলের তীব্র ক্ষোভ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইউনিয়ন পরিষদ সচিব ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ”আমরা সম্পূর্ণ সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করে স্বচ্ছতার সাথে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিচ্ছি। অথচ কিছু হলুদ সাংবাদিক ও ভুঁইফোড় ফেসবুক পেজধারীরা নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সবসময় ফায়দা লোটার ধান্দায় থাকে। সামান্য বা মনগড়া বিষয় নিয়ে কাল্পনিক সংবাদ প্রকাশের হুমকি দিয়ে তারা প্রতিনিয়ত আমাদের মানসিকভাবে হয়রান করছে, যা স্বাধীন ও পেশাদার সাংবাদিকতার পরিপন্থী।”
সাভার ও আশুলিয়ার সচেতন মহল মনে করছেন, অপসাংবাদিকতা ও ব্ল্যাকমেইলের এই সংস্কৃতি রোধ করা না গেলে প্রকৃত সাংবাদিকতা পেশা কলঙ্কিত হবে। পাশাপাশি সরকারি সেবামূলক কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা
ভুঁইফোড় সাংবাদিকতা ও ব্ল্যাকমেইলের হাত থেকে সাভার ও আশুলিয়ার ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে মুক্ত রাখতে এবং অভিযুক্ত শুকুর আলী ও তার সহযোগীদের সব ধরনের অপতৎপরতা বন্ধ করতে জোরালো দাবি উঠেছে। ভুক্তভোগী সচিব ও স্থানীয় সৎ গণমাধ্যমকর্মীরা অবিলম্বে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রেস ক্লাবের ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
একইসঙ্গে হলুদ সাংবাদিকদের কোনো ধরনের প্রলোভন ও হুমকিতে আতঙ্কিত না হয়ে পারস্পরিক ঐক্যের মাধ্যমে আইনগতভাবে তাদের প্রতিহত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।