ঢাকা: ১১ জুলাই, শনিবার ২০২৬
শিক্ষার্থীদের সচেতন করা গেলে নিরাপদ সড়ক বির্নিমানের পাশাপাশি সুশৃঙ্খল জাতী গঠন সম্ভব হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি আরো বলেন, মিরসরাই ট্রাজেডির পুনরাবৃত্তি রোধে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সচেতনতা তৈরীর মত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে নিয়মিত কর্মসূচি না থাকায় প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য শিক্ষার্থী প্রাণহানি ঘটছে। আহত হচ্ছে, অনেকে পঙ্গুত্ব বরন করছে। যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত শুধুমাত্র গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে দেখা গেছে ৩২০ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ জন শিক্ষার্থী নিহত ও ১০৯ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।
মিরসরাই ট্রাজেডির ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আজ ১১ জুলাই শনিবার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুুরী এমন চিত্র তুলে ধরে আরো বলেন, ২০১১ সালের ১১ জুলাই চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় কয়েকটি স্কুলের শিক্ষার্থী বহনকারী একটি মিনিট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে শিক্ষার্থীসহ ৪৫ জন নিহত হয়। দেশের ইতিহাসে এক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির এমন দুর্ঘটনার পরে সরকার শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তায় সচেতনতামুলক কোন কর্মসূচি নেয়নি। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যে সচেতনতা গড়ে উঠেনি। এমন বাস্তবতায় প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য শিক্ষার্থীর প্রাণ ঝড়ছে দাবী করে অনতিবিলম্বে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান জীবন রক্ষায় ৫ দফা দাবী নামা তুলে ধরেন।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জানুয়ারিতে ৫৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৭ শিক্ষার্থী নিহত ও ২২ জন আহত হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে ৩৯ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৭ শিক্ষার্থী নিহত ও ১১ আহত হয়েছে। মার্চ মাসে ৫৯ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬৭ শিক্ষার্থী নিহত ও ০১ জন আহত হয়েছে। এপ্রিল মাসে ৫১ টি সড়ক দুর্ঘটনা ৫৬ শিক্ষার্থী নিহত ও ২৫ জন আহত হয়েছে। মে মাসে ৬১ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭৩ শিক্ষার্থী নিহত ও ২৩ জন আহত হয়েছে। জুন মাসে ৫৩ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬০ শিক্ষার্থী নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছে।
এহেন প্রাণহানি রোধে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে নিম্নবর্ণিত সুপারিশ পেশ করছে।
১. পাঠ্যবইয়ে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচতেনতামুলক পাঠ্যসুচি অর্ন্তভুক্ত করা।
২. প্রতিমাসে কমপক্ষে ০১ বার কমন রুমে ঘন্টাব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে অভিজ্ঞদের সমম্বয়ে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতামুলক সভার আয়োজন করা।
৩. জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে প্রতিটি সড়ক পারপারের স্পটে, বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্র্থীদের পারাপার স্থানে জেব্রা ক্রসিং অংকন করা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড সাঁটানো।
৪. জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সড়ক পারাপারের ভেষ্ট পরিহিত “রোড সেইফটি গার্ড” দ্বারা লাল পতাকা হাতে নিয়ে যানবাহন থামিয়ে শিক্ষার্থীদের পারাপারের ব্যবস্থা করা।
৫. প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র ও শিক্ষকের সমম্বয়ে সড়ক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা।