রক্তঋণের জনপদ
মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন লাভলু
শিশুর কান্না আজ আর কান্না নয়,
এ যেন জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরির ক্ষয়।
নিষ্পাপ মুখের নিথর চাহনি,
কাঁপিয়ে তোলে মানব-বিবেকবাণী।
মানুষরূপী হিংস্র অমানুষেরা,
ছিন্ন করে শৈশবের স্বপ্নঘেরা।
অমানবিক সেই বিষাক্ত থাবা,
ভস্ম করে মানবতার ভাষা।
একটি শিশুর রক্তাক্ত দেহ,
নীরব আকাশেও ওঠে আর্তনাদ।
মায়ের বুকের চাপা আর্তনাদ,
জাগিয়ে তোলে জমে থাকা প্রতিবাদ।
এক পিতা কবরের পাশে বসে,
ডাকে সন্তান ভাঙা নিশ্বাসে।
চোখের জলে প্রশ্ন জাগে—
“বিচার কি আর ফিরবে ভাগে?”
চারিদিকে নীরব মুখোশধারী,
বিবেক যেন মৃত শ্মশানচারী।
রক্ত শুকায় রাজপথজুড়ে,
অন্যায় হাসে বিষদাঁত মুড়ে।
শিশুর রক্ত মাটিতে ঝরে,
মানবতা আজ কাঁদে অন্তরে।
কোথাও লাঞ্ছনা, কোথাও খুন,
আতঙ্কে কাঁপে প্রতিটি গৃহকোণ।
রাত নামিলেই ভয় নেমে আসে,
মায়ের চোখে অশ্রু ভাসে।
কাঁপা কণ্ঠে বুক চিরে কয়—
“আমার সন্তান ফিরবে তো হয়?”
কিন্তু এবার নীরবতা শেষ,
জেগে উঠুক প্রতিটি পরিবেশ।
জনতার বুকের জমে থাকা ক্ষোভ,
হোক অন্যায়ের বিরুদ্ধে মহারোষ।
রাজপথ জুড়ে বজ্রধ্বনি,
প্রতিবাদ হোক অগ্নিবাণী।
“শিশুহত্যার বিচার চাই!”
“অত্যাচারের অবসান চাই!”
“নিরাপদ হোক প্রতিটি প্রাণ!”
“জেগে উঠুক মানবজ্ঞান!”
যারা রক্তের সিঁড়ি বেয়ে,
উল্লাসে হাসে মুখ লুকিয়ে—
ইতিহাস তাদের ক্ষমা করে না,
মানুষের অভিশাপ মরে না।
একদিন জমা কান্নার আগুন,
ভস্ম করবে অত্যাচারের আইন।
অসহায়ের চোখের অশ্রুধারা,
হয়ে উঠবে প্রলয়ের ইশারা।
এই অগ্নিবাণী থামবে না,
অত্যাচারের কাছে নামবে না।
প্রতিটি শব্দ বজ্রের ভাষা,
জাগিয়ে তুলুক নিভে যাওয়া আশা।
নীরব থাকা কাপুরুষতা,
প্রতিবাদই সত্য মানবতা।
যতদিন শিশুর রক্ত ঝরে,
ততদিন আগুন জ্বলুক স্বরে।
ততদিন এই রক্তধ্বনি,
জ্বলবে হয়ে বিদ্রোহবাণী।
একদিন মানুষ জেগে উঠবে,
অন্ধকারের প্রাচীর ভাঙবে।
সেদিন এই রক্তাক্ত ভুবন,
ফিরে পাবে মানব-জীবন।