ঢাকা, ৭ মে ২০২৬: রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একমাত্র মোবাইল অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডকে ধ্বংসের দেশি-বিদেশি চক্রান্ত বন্ধের দাবিতে আজ ৭ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘রাষ্ট্র ও জনস্বার্থ রক্ষা জাতীয় কমিটি’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সংহতি প্রকাশ করেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, টেলিটক দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মোবাইল অপারেটর হিসেবে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে টেলিটকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্পেকট্রাম বরাদ্দসহ বিভিন্ন ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ বাস্তব উন্নয়নের ইঙ্গিত দিলেও, পর্দার আড়ালে প্রতিষ্ঠানটিকে পঙ্গু করার ষড়যন্ত্র চলছে। দীর্ঘদিন ধরে নীতিগত বৈষম্য,বিনিয়োগের অভাব এবং অব্যবস্থাপনার কারণে টেলিটককে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশি ও বিদেশি স্বার্থান্বেষী মহলের যোগসাজশে টেলিটককে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার যে অপচেষ্টা চলছে, তা দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের জন্য চরম উদ্বেগজনক। মানববন্ধনে প্রধান বক্তা হিসেবে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, “সরকার নিজে ব্যবসা না করলেও বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি অপরিহার্য। টেলিটকের কম মূল্যের সেবা আছে বলেই বেসরকারি অপারেটররা চাপে থাকে। আজ যদি চক্রান্ত করে টেলিটক ধ্বংস করা হয়, তবে বাজারে সিন্ডিকেট তৈরি হবে এবং ডাটা ও ভয়েস কলের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে।” তিনি টেলিটককে লাভজনক করতে সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। মানববন্ধন থেকে সরকারের কাছে নিম্নোক্ত ৫ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়: ১. টেলিটক ধ্বংসের দেশি-বিদেশি সকল চক্রান্ত অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। ২. একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও টেকসই পুনর্গঠন পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। ৩. বকেয়া পাওনা দ্রুত পরিশোধ করে আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে।৪. পেশাদার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে টেলিটককে একটি প্রতিযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে হবে। ৫. রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুরক্ষা ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে স্বাধীন নিরীক্ষা (অঁফরঃ) চালু করতে হবে। বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, টেলিটককে দুর্বল করা মানে দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে ঝুঁকির মুখে ফেলা। এই চক্রান্ত বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সংগঠনের আহ্বায়ক মুহাম্মদ আজিজ সরকারের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় স্বাধীনতা পার্টির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজু, গ্রিন পার্টির চেয়ারম্যান রাজু আহমেদ খান, বাংলাদেশ পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান, ছাত্রনেতা মিজান, মানবাধিকার কর্মী সাধনা মহল, শেরপুর জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান বাদল প্রমুখ।