
ঋণ কেলেঙ্কারি ও অযাচিত হস্তক্ষেপসহ নানা অনিয়মের প্রেক্ষিতে আরও চার ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পর্যবেক্ষক দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চারটি ব্যাংকই বেসরকারি খাতের। এগুলো হচ্ছে- ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক এবং আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক।
আজ সোমবার (৯ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এসব ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে পর্যবেক্ষককে সব ধরনের সহযোগিতা করতে বলা হয়।
তথ্য অনুসারে, ন্যাশনাল ব্যাংকে পর্যবেক্ষক করা হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংক সুপারভিশন বিভাগ-১২ এর পরিচালক মুনির আহমেদ চৌধুরীকে। আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে দেওয়া হয়েছে ইসলামিক ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, প্রিমিয়ার ব্যাংকে পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের পরিচালক এ.এন.এম. মঈনুল কবির এবং আইএফআইসি ব্যাংকে দেওয়া হয়েছে ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ-১ এর পরিচালক একেএম কামরুজ্জামানকে। পর্যবেক্ষকরা বৈঠকে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে মতামত তুলে ধরবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এসব কর্মকর্তা পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এখন থেকে পরিচালনা পর্ষদের সব বৈঠক, নির্বাহী ও অডিট কমিটির বৈঠকে তারা উপস্থিত থাকবেন। দায়িত্ব পালনের সুবিধার্তে প্রতিটি পর্ষদ বৈঠকের অন্তত তিন কার্যদিবস আগে এসব কর্মকর্তার কাছে পরিচালনা পর্ষদের এজেন্ডাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠাতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, কয়েকটি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক বসানোর বিষয়ে অনেক আগেই সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন গভর্নর সব দিক বিবেচনায় নিয়ে আপাতত চারটি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক দিয়েছেন।
ঋণ জালিয়াতি, নিয়োগ-পদোন্নতিতে স্বেচ্ছাচারিতাসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর মোট ১৪টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে পুনর্গঠন করে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই তালিকায় এই চার ব্যাংকও ছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এসব ব্যাংকের পরিচালনায় যুক্তরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পলাতক।
সম্প্রতি ঋণ ও বিনিয়োগের প্রকৃত শ্রেণিমান যথাযথভাবে রিপোর্ট না করায় বেসরকারি ব্যাংক-ওয়ান ব্যাংক পিএলসি ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসিকে পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply