
নতুন বছর ২০২৬ শুরু হয়েছে এক চরম অনিশ্চয়তা আর সামরিক উত্তেজনার মধ্য দিয়ে। গত কয়েক দশকের মধ্যে বিশ্ব এখন সবচেয়ে ভয়াবহ ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখোমুখি। একদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান হুমকি-সব মিলিয়ে বিশ্বমঞ্চে এক নতুন মেরুকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মহাকাশ যুদ্ধের নতুন ফ্রন্ট:- ২০২৬ সালের সামরিক সক্ষমতার প্রধান মাপকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘এআই’ (AI) এবং ‘সাইবার ওয়ারফেয়ার’। সম্প্রতি চীনের ‘ডিপসিক’ (DeepSeek) মডেলের অভাবনীয় সাফল্য এবং আমেরিকার রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এই লড়াইকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। শুধু স্থলে বা জলে নয়, এখন পরাশক্তিগুলোর নজর মহাকাশ-ভিত্তিক অস্ত্রের দিকে।
এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল সহ উত্তপ্ত দক্ষিণ চীন সাগর:- তাইওয়ানকে ঘিরে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক মহড়া এবং ফিলিপাইনের সঙ্গে জলসীমায় সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা ২০২৬ সালের অন্যতম বড় ঝুঁকি। আমেরিকা তার মিত্র দেশগুলোর (জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া) সাথে মিলে এ অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি রেকর্ড পরিমাণে বাড়িয়েছে। অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এই অঞ্চলের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
নতুন জোটের উত্থানে ন্যাটো বনাম ব্রিকস:- বিশ্ব এখন দ্বিমেরু বিশিষ্ট রাজনীতির দিকে এগোচ্ছে। একদিকে পশ্চিমা সামরিক জোট ‘ন্যাটো’ (NATO) ইউরোপে তার প্রভাব ধরে রাখতে মরিয়া, অন্যদিকে ‘ব্রিকস’ (BRICS) অর্থনৈতিক জোট থেকে রাজনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতার দিকে মোড় নিচ্ছে। বিশেষ করে ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিশরের অন্তর্ভুক্তিতে ব্রিকস এখন বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারে পশ্চিমা আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের অমীমাংসিত সংঘাত:- গাজা ও লেবাননে চলমান অস্থিরতা ২০২৬ সালেও কমার লক্ষণ নেই। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের লোহিত সাগরে হামলা বিশ্ব বাণিজ্যে সরবরাহ সংকট তৈরি করেছে। অন্যদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার নতুন নতুন কৌশল এবং পশ্চিমা উন্নত অস্ত্রের ব্যবহার যুদ্ধকে দীর্ঘস্থায়ী ও রক্তক্ষয়ী করে তুলেছে।
গ্রিনল্যান্ড ও আর্কটিক দখল নেওয়া ট্রাম্পের নতুন সমীকরণ:- সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড নিয়ে পুনরায় আগ্রহ প্রকাশ এবং আর্কটিক অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লড়াই বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রাশিয়ার আর্কটিক আধিপত্যকে রুখতে আমেরিকা এখন উত্তর গোলার্ধে তাদের সামরিক নজরদারি বাড়াচ্ছে।
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে ২০২৬ সাল হবে এমন একটি বছর, যেখানে কূটনীতির চেয়ে সামরিক শক্তির প্রদর্শনীই বেশি গুরুত্ব পাবে। জ্বালানি নিরাপত্তা, সেমিকন্ডাক্টর চিপের নিয়ন্ত্রণ এবং এআই প্রযুক্তিই নির্ধারণ করে দেবে আগামীর বিশ্বনেতা কে হবে।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply