রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ১২:৪২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
ভাসমান ১৭০ মিলিয়ন ব্যারেল ইরানি তেল, বাজারে স্বস্তির আভাস ঈদ উপলক্ষে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কবর জিয়ারত তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রীর পরিবার ও ড. ইউনূসের মধ্যে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় গোলাপগঞ্জের প্রথম সাপ্তাহিক গোলাপ পত্রিকার সম্পাদক আখতারুজ্জামান মারা গেছেন, বৃহত্তর সিলেট জেলা অনলাইন প্রেসক্লাবের শোক ইরানের কিছু তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করল যুক্তরাষ্ট্র উৎসবের দিনে আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জ, বৃষ্টি থাকতে পারে আরও একদিন ৮১ হাজার বন্দির ঈদ কারাগারে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভিআইপি ডক্টরস ক্লাব অব ভৈরবের নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি মাসুদ ও সম্পাদক নজরুল দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ ময়দানে দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাত অবকাঠামোয় হামলা হলে ‘জিরো টলারেন্স’, ইরানের হুঁশিয়ারি

খাতা চ্যালেঞ্জে ১১ হাজারের বেশি ফল পরিবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৩
  • ২২৫ Time View

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে সন্তুষ্ট না হয়ে বিভিন্ন বোর্ডে খাতা চ্যালেঞ্জ করা ১১ হাজার ৩৬২ পরীক্ষার্থীর ফলে পরিবর্তন এসেছে। এছাড়া নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন আরও ১ হাজার ৮১১ জন শিক্ষার্থী। ফেল থেকে পাস করেছেন ২ হাজার ২১২ জন গত কয়েক বছরের মধ্যে এবার সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে বলে জানা গেছে।

সোমবার (২৮ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে ১০টি সাধারণ বোর্ডের প্রকাশিত পুনর্নিরীক্ষণের ফল বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে। বাকি আছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ফল, এটি এখনো বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়নি। বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থীর ফলাফল পরিবর্তনের পেছনে পরীক্ষকদের গাফিলতি রয়েছে বলে মনে করছেন বোর্ড কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে আন্তঃবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর আবুল বাশার বলেন, ‘সব বোর্ডের তথ্য আমার কাছে নেই। তবে যে তথ্য দেখা গেছে, এটি আসলেই উদ্বেগের বিষয়।’

পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে ফল পরিবর্তন স্বাভাবিক ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সংখ্যাটি যদি নির্দিষ্ট পার্সেন্টেজের বাইরে চলে যায় তবে পরীক্ষকদের তথ্য সংগ্রহ করে তদন্ত করি। সব বোর্ডের তথ্য সংগ্রহ করে যদি নির্দিষ্ট পার্সেন্টেজের বাইরে যায় তবে চিহ্নিত পরীক্ষকদের বিভিন্ন ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়। অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী অভিযুক্ত বেশিরভাগ পরীক্ষককে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। অপরাধের মাত্রা বেশি হলে তাদের বেতন-ভাতা বন্ধ করার জন্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুনর্নিরীক্ষণে নতুন করে কোনো উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হয় না। শুধু উত্তরপত্রে শিক্ষার্থীর প্রাপ্ত নম্বরের যোগ-বিয়োগগুলো দেখা হয়। এতেই এত বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে। এটা শুধু পরীক্ষকদের গাফিলতির কারণেই হয়েছে।

২০১৯ সালে টানা তিন বছর ধারাবাহিক গাফিলতির কারণে ১ হাজার ২৬ পরীক্ষককে শাস্তির আওতায় আনে শিক্ষাবোর্ড। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বোর্ডের আইন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযুক্ত বেশিরভাগ পরীক্ষককে কালো তালিকাভুক্ত করা, কাউকে সারা জীবনের জন্য কোনো বোর্ডের পরীক্ষক হতে না পারার মতো শাস্তি দেওয়া হয়। তবে যে সব পরীক্ষক খাতা মূল্যায়নে কেলেঙ্কারি বা ক্রাইমে যুক্ত হন, তাদের বেতন-ভাতা বন্ধ এবং চাকরিচ্যুতির নজির রয়েছে।

পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন হওয়া উত্তরপত্রের চারটি দিক দেখা হয়। এগুলো হলো- উত্তরপত্রের সব প্রশ্নের সঠিকভাবে নম্বর দেওয়া হয়েছে কি না, প্রাপ্ত নম্বর গণনা ঠিক রয়েছে কি না, প্রাপ্ত নম্বর ওএমআর শিটে তোলা হয়েছে কি না এবং প্রাপ্ত নম্বর অনুযায়ী ওএমআর শিটের বৃত্ত ভরাট করা হয়েছে কি না?।

ঢাকা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার ৩ হাজার ৮৫ জন পরীক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে। প্রকাশিত ফলে অকৃতকার্য ছিল এমন খাতা চ্যালেঞ্জ করে পাস করেছেন ১০৪ জন। আর নতুন জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৬২ জন।

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে মোট ১০৮০ শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে। ফেল থেকে পাস করেছেন ১৩০ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৬২ জন।

বরিশাল বোর্ডের ১৭১ জন পরীক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে। ফেল থেকে পাস করেছেন ৩ জন শিক্ষার্থী, আর নতুন জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৯ জন পরীক্ষার্থী।

যশোর শিক্ষাবোর্ডে মোট ৫৩৪ জন পরীক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে ফেল থেকে পাস করেছেন ৫৪ জন শিক্ষার্থী। আর নতুন জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫২ জন পরীক্ষার্থী। ফেল থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ জন পরীক্ষার্থী।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের ৪৭২ শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে ফেল থেকে পাস করেছেন ৭৯ জন। আর নতুন জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৯ জন।

রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের ৩৬১ শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে ফেল থেকে পাস করেছেন ৪৮ জন শিক্ষার্থী। নতুন জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৬ জন।

দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের ৩৭৭ জনের ফলাফল পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে ফেল থেকে পাস করেছেন ৭৫ শিক্ষার্থী। আর নতুন জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭৩ জন।

কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের ৮৭৯ জনের ফল পরিবর্তন হয়। যার মধ্যে ৯৪ জন নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন আর ১৮০ জন ফেল থেকে পাস করেছেন। বাকি ৬০৫ জনের বিভিন্ন গ্রেডে ফল পরিবর্তন হয়েছে।

মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের ৪ হাজার ১৯৫ জনের ফল পরিবর্তন হয়েছে। আর ফেল থেকে নতুন করে পাস করেছে ১ হাজার ৫৩৪ জন, নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৯৭জন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর »

Advertisement

Ads

Address

© 2026 - Economic News24. All Rights Reserved.

Design & Developed By: ECONOMIC NEWS