পুঁজিবাজারে প্রকৌশল খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি বাংলাদেশ অটোকারস কর্তৃপক্ষ তাদের সম্পদ ও মুনাফা বেশি দেখিয়েছে। কোম্পানির ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক হিসাবে এমন আপত্তির তথ্য উল্লেখ করেছে কোম্পানির সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষক।
নিরীক্ষক জানিয়েছে, বিডি অটোকারস কর্তৃপক্ষ ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সমাপ্ত হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) দেখিয়েছে ০.৪৯ টাকা। কিন্তু সঠিক হিসাব করলে শেয়ারপ্রতি লোকসান হতো ০.১৯ টাকা। একইসঙ্গে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ৭.০৬ টাকা দেখিয়েছে। কিন্তু সঠিক হিসাব করলে এনএভি আরো কমে আসত।
এদিকে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট রাখার জন্য ২০০৭ সালের ২৮ নভেম্বর ও ২০০৮ সালের ২২ আগস্ট সরকারের কাছে ১০ লাখ ৭০ হাজার টাকা দাবি করে। কিন্তু সরকার এখন পর্যন্ত তাতে কোন সাড়া দেয়নি। যাতে ওই দাবিকৃত অর্থ হিসাব থেকে বাদ দিয়ে প্রফিট অ্যান্ড লস হিসাবে ব্যয় দেখানোর দরকার ছিল। কিন্তু কোম্পানিটি তা করেনি। এদিকে কোম্পানিটি অগ্রিম আয়কর হিসাবে ১৬ লাখ ৯৫ হাজার ৯৭৪ টাকা ও অগ্রিম মূলধনী ব্যয় হিসাবে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৩১ টাকা দেখিয়ে আসছে। এই মোট ১৮ লাখ ৭৯ হাজার ৬০৫ টাকাও হিসাব থেকে বাদ দিয়ে প্রফিট অ্যান্ড লস হিসাবে দেখানোর দরকার ছিল। কিন্তু কোম্পানিটি তা করেনি।
নিরীক্ষক আরও জানিয়েছেন, ওসব অর্থ সঠিকভাবে হিসাব বহি থেকে বাদ দিলে কোম্পানির ২৯ লাখ ৫০ হাজার ৩৭৭ টাকার সম্পদ কমে আসবে। একইসেঙ্গে ২০২১-২২ অর্থবছরে সমপরিমাণ মুনাফা কমে আসত।
শ্রম আইন অনুযায়ী ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ডের (ডব্লিউপিপিএফ) অর্থ বছর শেষ হওয়ার ৯ মাসের মধ্যে বিতরণ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু কোম্পানিতে ২৯ লাখ ৫৪ হাজার ৬৪৮ টাকার ডব্লিউপিপিএফ রয়েছে। যার ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৯৫৬ টাকা পৃথক ব্যাংক হিসাবে রাখা হয়েছে।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে (সিএমএসএফ) অবন্টিত লভ্যাংশ হস্তান্তর করেনি বিডি অটোকারস কর্তৃপক্ষ। কোম্পানিতে ৩ বছরের বেশি পুরাতন অবন্টিত লভ্যাংশ রয়েছে।