রাজনীতি না করলেও আলোচনায় আছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন, নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ না থাকলেও রাজনীতি করতে বাধা নেই বিএনপি নেত্রীর। তবে বিএনপি নেতারা বলছেন, পরিবেশ সৃষ্টি হলে সক্রিয় হবেন বেগম জিয়া। অবশ্য তার রাজনীতি করা না-করা নিয়ে সরকারের বক্তব্যের পেছনে দুরভিসন্ধি দেখছেন তারা।
পাঁচ বছর ধরে রাজনীতির বাইরে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। নির্বাহী আদেশে সাময়িক মুক্তির তিন বছর পার হলেও তাকে রাজনীতিতে সক্রিয় হতে দেখা যায়নি। অবশ্য এ সময়ের মধ্যে প্রায় ছয় মাস হাসপাতালে ছিলেন তিনি। বর্তমানে গুলশানে নিজের বাসায় রয়েছেন বেগম জিয়া।
রাজনীতি না করার শর্তে বেগম জিয়ার মুক্তি মিলেছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিম। গত ২৬ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি করেন। তিনি বলেন, রাজনীতি করবেন না–এমন মুচলেকা দিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বাসায় নেয়া হয়েছে। তার এ দাবির পর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতারা।
এ নিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, রাজনীতি করতে বাধা নেই খালেদা জিয়ার, তবে অংশ নিতে পারবেন না আগামী নির্বাচনে।
কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন।
তিনি বলেন, রাজনীতি করতে বাধা নেই তার, তিনি জেলে থেকেও রাজনীতি করতে পারেন। তিনি তার দলকে নির্দেশনা দেবেন, তবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি পারবেন না, সেটা নির্বাচন কমিশন নির্ধারণ করবে। বুধবার সরকারের দুই মন্ত্রীও একই ধরনের কথা বলেন।
তাহলে কেন রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন না বেগম জিয়া? দলটির নেতারা বলছেন, অনুকূল পরিবেশ পেলে ফিরবেন তিনি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সময় সংবাদকে বলেন, চেয়ারপারসন রাজনীতিতে সক্রিয় হয়নি। কারণ, তাকে অন্যায়ভাবে বন্দি করে রাখা হয়েছে। রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি হলে অবশ্যই তিনি রাজনীতি করবেন। এ নিয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য লাগে না। আইনমন্ত্রীর কথা যদি যদি সৎ হয়ে থাকে, তাহলে আমানউল্লাহ আমান একটা বক্তব্য দিয়েছিলেন, তারপর রাস্তা বন্ধ করে রাখা হয়েছিল কেন?
বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আব্দুল আউয়াল মিন্টু জানান, রাজনীতি করা ও দল পরিচালনা করার মতো শারীরিক সক্ষমতা রয়েছে বিএনপি নেত্রীর।
মিন্টু আরও বলেন, ‘মনে করুন তাদের (ক্ষমতাসীন) কথার ওপর ভিত্তি করে বেগম জিয়া অফিসে গেল, ওরা বলবে তো বেগম জিয়ার রাজনীতি করার কথা না। আমাদের কাছে তো কোনো কাগজ নেই, তাকে আবার ধরে নিয়ে গেল।’
তিনি আরও বলেন, দল পরিচালনা করার জন্য তার যথেষ্ট সাহস, শক্তি ও মানসিক মনোবল সবকিছু বিদ্যমান ও পুরোপুরি আছে।
সরকারবিরোধী আন্দোলন থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে নিতেই বেগম জিয়ার রাজনীতি করার বিষয়টি ইস্যু বানানো হচ্ছে বলে দাবি করেন বিএনপি নেতারা।
প্রসঙ্গত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয় খালেদা জিয়ার।
বিএনপি নেত্রীকে মুক্ত করতে দলটির নেতারা উচ্চ আদালতে যত চেষ্টা করেছেন, তার সবই বিফলে গেছে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে ‘মানবিক আবেদন নিয়ে’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে যান খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার। তার স্বজনদের আবেদনে প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক সাড়া দেন। ২০২০ সালের ২৪ মার্চ শর্ত সাপেক্ষে সরকার নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত করে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেয় খালেদা জিয়াকে। পরের দিন তিনি মুক্তি পান। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠবারের মতো ছয় মাসের জন্য সাময়িক মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। ফলে আগামী ২৫ মার্চ পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে কারাগারে যেতে হচ্ছে না। খালেদা জিয়া থাকছেন গুলশান-২-এর ৭৯ নম্বর সড়কের বাসভবন ফিরোজায়। পাশেই ৮৩ নম্বর সড়কে তার রাজনৈতিক কার্যালয়। কিন্তু প্রায় তিন বছরে তিনি একবারের জন্যও সেখানে যাননি।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply