তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সিরিয়া ও তুরস্কে সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৩শ’র বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। দুই দেশে আহত হয়েছেন সহস্রাধিক।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টা ১৭ মিনিটে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় গাজিয়ান্তেপ প্রদেশের নূরদাগি শহরের পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী এই ভূমিকম্প। অঞ্চলটি সিরিয়ার সীমান্তবর্তী।
সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুসারে, এই ভূমিকম্পে সিরিয়ায় এখন পর্যন্ত ২৩০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তুরস্কে নিহত হয়েছেন ৭৬ জন। আহতদের মধ্যে ৫১৬ জন সিরিয়ার এবং বাকি ৪৪০ জন তুরস্কের।
উল্লেখ্য, তুরস্কের সিরিয়া সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক উদ্বাস্তুর বসবাস। তাই নিহত অনেকের পরিচয় অর্থাৎ তারা কোন দেশের, তা নিশ্চিত হতে সময় লাগছে। এরই মধ্যে সিরীয় সরকার দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভূমিকম্প কবলিত এলাকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে তুরস্কের ৭টি প্রদেশের অন্তত ১০টি শহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরগুলো হলো গাজিয়ান্তেপ, কাহরামানমারাস, হাতে, ওসমানিয়া, আদিয়ামান, মালাতিয়া, সানলিউরফা, দিয়ারবাকির এবং কিলিস। এ ছাড়া সিরিয়ার আলেপ্পো, হামা এবং লাকাতিয়া শহরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই ভূমিকম্পে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টা ১৭ মিনিটে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ২৪ দশমিক ১ কিলোমিটার গভীরে। এর প্রায় ১১ মিনিট পর আরও একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে তুরস্কের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের একটি এলাকায়। এ দফায় ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৭। দ্বিতীয় দফায় ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে।
সিরিয়ার সীমান্তবর্তী গাজিয়ান্তেপ তুরস্কের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প এলাকা। এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, তুরস্ক ও সিরিয়া ছাড়াও লেবানন এবং সাইপ্রাসেও এর ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছে। এমনকি মিসরের রাজধানী কায়রোতেও এর তীব্রতা টের পাওয়া গেছে।