সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন

সিপিডি কেন শুধু বাংলাদেশের নেতিবাচকতাই তুলে ধরে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট : বুধবার, ৯ নভেম্বর, ২০২২
  • ১৬২ Time View

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) নামেই যার পরিচয়। ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত সংস্থাটি মূলত গবেষণা ও পলিসি ডায়ালগের মাধ্যমে দেশের নীতিনির্ধারণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে কাজ শুরু করে। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে সিপিডির পলিসি ডায়ালগের আলোচনা ও গবেষণার প্রতিবেদন দেখলে যে কারো মনে হবে, রাজনৈতিক প্রপাগান্ডা ও নেতিবাচক খবর ছড়াতেই যেন বেশি ব্যস্ত এই অ-লাভজনক প্রতিষ্ঠানটি।

চলতি বছরের ২০ অক্টোবর সিপিডি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পলিসি ডায়ালগটির শিরোনাম ছিল: ‘বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আভাস ও বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ উত্তরণ কোন পথে?’ আর মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তারা সাফ জানিয়ে দিল, দুর্ভিক্ষ আসছে আর এটাই সত্য। একই দিন বাংলাদেশের অবস্থা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আরও সাতটি সংকটের কথা তুলে ধরে সিপিডি। সিপিডির কণ্ঠে যখন হতাশার কথা, তখন দেশের অর্থনীতিবিদরা কিন্তু আশার কথাই শোনালেন।

এ বছর অক্টোবরে সিপিডি জানালো, বায়ুদূষণে প্রতিবছর মারা যাচ্ছে ২ লাখ মানুষ। সেপ্টেম্বরে বলল, শোভন কর্মপরিবেশের ঘাটতি রয়েছে পোশাক কারখানায়! আবার, ১৬ আগস্ট ২০২০ সালে তাদের প্রচারণা ছিল: মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি এখন নাকি একটি রাজনৈতিক সংখ্যায় পরিণত হয়েছে! এমনকি, করোনাকালীন মানুষ যখন এমনিতেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, তখন সিপিডি  ২০২০ সালের ১০ জুন প্রকাশিত তাদের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, করোনার কারণে আয় কমে যাওয়ায় দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে আর তা সার্বিকভাবে দারিদ্র্যের হারকে ৩৫ শতাংশে উন্নীত করেছে! ঘুরেফিরে একের পর এক এই নেতিবাচক প্রপাগান্ডা ছড়ানোতে সংস্থাটিকে নিয়ে হাজারো প্রশ্ন দানা বেঁধেছে জনমনে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই নেতিবাচকতায় দেশের ভাবমূর্তি তো নষ্ট হচ্ছেই, হতাশ হয়ে পড়ছে তরুণ সমাজ! দেশের সব সংকটে যেখানে তরুণ সমাজই হাল ধরেছে, সেখানে তাদের হতাশ করে মুষ্টিমেয় কিছু প্রতিষ্ঠানের কী লাভ–এমন প্রশ্ন খোদ অর্থনীতিবিদদেরই।

এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক রুমানা হক সময় সংবাদকে বলেন, ‘দেশ নিয়ে নেতিবাচক কথা ছড়ানোর সবচেয়ে খারাপ দিক হলো, দেশের তরুণ সমাজ হতাশ হয়ে পড়বে। আমরা যে মেধা পাচারের কথা বলি, তা কিন্তু এসব কারণেই হয়ে থাকে।’

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি বাংলাদেশ অপেক্ষাকৃত ভালো অবস্থানে আছে। রেমিট্যান্স বাড়বে-কমবে, তবে সার্বিকভাবে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে আছে।’

কিন্তু কেন এই নেতিবাচক তথ্যের ছড়াছড়ি! জনমনে প্রশ্ন: সিপিডি কি আদৌ বাংলাদেশের উন্নয়ন চায়? নাকি নিজেদের আখের গোছাতেই ব্যস্ত তারা! যার উত্তর খানিকটা হলেও মিলবে সংস্থাটির বোর্ড মেম্বার ও ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের লেখায়। গেল ২০১৮ সালের মার্চে ‘খোলা কাগজ’ দৈনিকের একটি লেখায় যার শিরোনাম ছিল: ‘উন্নয়নশীল দেশ হলে বিদেশি অনুদান কমে যাবে, সেটার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’ তবে কি অনুদাননির্ভর এই সংস্থার মূল ঝোঁকটা সেদিকেই? অচিরেই বাংলাদেশ উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে, কমে যাবে অনুদান। এরই মাঝে বিভিন্ন দাতা সংস্থা সরাসরি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে অনুদান না দিয়ে সরকারের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে উন্নয়ন সহযোগিতা। আর এই বৈদেশিক অনুদানের লোভেই বাংলাদেশকে বারবার নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করছে সিপিডি। যদিও অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ: শুধু অনুদানের জন্য পল্লবিত তথ্য নয়, সঠিক তথ্য উপস্থাপনের দিকেই গুরুত্ব দেয়া উচিত তাদের।

এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম এম আকাশ সময় সংবাদকে বলেন, ‘আমরা পোস্ট ট্রুথ সমাজে বাস করি। এখানে কথা বললে আধেক সত্যি বলি, আর বাকি আধেক অসত্য। আমাদের সত্য-অসত্যের মধ্য থেকে যেটা সত্য, সেটাকে ছেঁকে নিতে হবে।’

সিপিডির অর্থসংস্থান নিয়ে একই প্রশ্ন তুলেছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সেই ২০১৯ সালে। সে সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সিপিডি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু তাদের টাকা কোথা থেকে আসে? তারা কোথা থেকে টাকা পায়? এ প্রশ্নের জবাব চাই। এটা সম্পর্কে তাদের কাছ থেকে পরিষ্কার বিবৃতি চাই।’ কিন্তু সেই বিবৃতি মেলেনি আজও। সিপিডির ২০২১ সালের বার্ষিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনেও পরিষ্কার উল্লেখ নেই, কোন কোন দাতা সংস্থার কাছ থেকে কোন কোন খাতে সংস্থাটি অর্থ অনুদান পেয়েছে। নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার না করেই বাংলাদেশকে ‘সুতা কাটা ঘুড়ির’ সঙ্গে তুলনা করেন সিপিডি ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

সিপিডির এমন রহস্যময় আচরণে জনমনে সহজ প্রশ্ন: কার নুন খাচ্ছে সিপিডি? আর কারই-বা গুণ গাইতে ছড়ানো হচ্ছে বাংলাদেশ নিয়ে এত নেতিবাচকতা!

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর »

Advertisement

Ads

Address

© 2026 - Economic News24. All Rights Reserved.

Design & Developed By: ECONOMIC NEWS