সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। বাজারে ডলার সংকটের সময় অনেকের মধ্যেই পুঞ্জীভূত করার প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। এতে নড়েচড়ে বসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ডলার সংকট কাটাতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে সরবরাহ করতে থাকে এতে ডলার সংকট দূর না হলেও ডলার সিন্ডিকেট কমেছে।
এদিকে সরকারের আমদানির দায় মেটাতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে ডলার বিক্রি করছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কাছে ডলার বিক্রির ফলে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে বুধবার (২ নভেম্বর) পর্যন্ত ৫ বিলিয়ন বা ৫০০ কোটি ডলার বিক্রি ছাড়িয়েছে। ডলার বিক্রির প্রভাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও কমেছে। রিজার্ভ কমে দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলারে।
বুধবার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কাছে ১ কোটি ৭ লাখ ডলার বা ১৭ মিলিয়ন ডলার বিক্রি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে নতুন অর্থবছরে শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আমদানি দায় মেটাতে ৫ দশমিক ১৪ বিলিয়ন বা ৫১৪ কোটি ডলার বিক্রি করেেছে। এর বিপরীতে ব্যাংকগুলো থেকে ৪৯ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা বাজার থেকে উঠে আসে বাংলাদেশ ব্যাংকে। এ কারণে তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে ব্যাংক খাতে। মূলত আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়া, রপ্তানি ও রেমিট্যান্সে নিম্নমুখী আর বিদেশি ব্যাংকে ঋণসীমা কমানোয় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়।
গত অর্থবছরে রিজার্ভ থেকে ৭৬২ কোটি ডলার বিক্রি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আগে কখনো এক অর্থবছরে এতে পরিমাণ ডলার রিজার্ভ থেকে বিক্রি করা হয়নি। অথচ ২০২০-২০২১ অর্থবছরে বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ায় দর ধরে রাখতে রেকর্ড প্রায় ৮ বিলিয়ন বা ৮০০ কোটি ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে ডলার বিক্রি করেছে ৯৭ টাকা দরে।
গতকাল বুধবার আন্তঃব্যাংক প্রতি ডলার গড়ে ১০১ টাকা ৩৮ পয়সা থেকে ১০৩ টাকা ৫০ পয়সায় কেনাবেচা হয়। গত বছরের ঠিক এই সময়ে প্রতি ডলারের দর ছিল ৮৫ টাকা ৫০ পয়সা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ডলারের দাম বেড়েছে ১৭ টাকা ৫০ পয়সা।
অবশ্য সাম্প্রতিককালে ডলারের সংকট নিরসন ও প্রবাসী আয় বাড়াতে ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ অথরাইজড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) যৌথ সভা করে। সভায় তারা নতুন দাম নির্ধারণ করে।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply