অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের দায়ে ফতুল্লা থানা কৃষকদলের আহ্বায়ক জুয়েল আরমানকে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অপহরণের শিকার দেলোয়ার হোসেন দিলু। অপহৃত হওয়ার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, গত ২০ জুন ২০২৬ইং আনুমানিক রাত সাড়ে ৮ টায় আমি নারায়নগঞ্জ জেলাস্থ, ফতুল্লা থানাধীন তক্কার মাঠের জুয়েলের ফার্মেসীর সামনে অবস্থান করা অবস্থায় ফতুল্লা থানার পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোষাকের তিন জন আমাকে তুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আমাকে ফতুল্লা থানায় না নিয়ে থানর সামনে মাজার গলিতে গাড়িতে রেখে বলে যে ওসি স্যারের সাথে কথা বলে আসছি তোমরা থাক। আধা ঘন্টা পরে এসে আমাকে ডিআইটি মাঠে নিয়ে পুলিশের গাড়ি হতে নামিয়ে জুয়েল আরমানের আরেকটি সাদা নোয়া গাড়িতে উঠায় তখন, কৃষক দলের নেতা জুয়েল আরমান এর নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন এসে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ শুরু করে এবং বিভিন্ন প্রকার হুমকী ও প্রাণ নাশের হুমকী প্রদান করে। এক পর্যায়ে বলে এই মুহুর্তে দশ লক্ষ টাকা দিতে হবে না হলে তোর অনেক বিপদ হবে। তুই কিছুদিন সত্তর লক্ষ টাকা জমি বিক্রয়ের টাকা পেয়েছিস এর থেকে দশ লক্ষ টাকা কিছুইনা। জীবন বাঁচিয়ে সুষ্ঠভাবে ব্যবসা করতে হলে এ টাকা দিতেই হবে। পরে অনেক কথোপকথনের পর জীবন বাঁচাতে আমি আট লক্ষ টাকা দিতে রাজি হই। আমার পরিচিত প্রতিবেশী ব্যবসায়ী কুদ্দুস ভাইয়ের মাধ্যমে বাসা থেকে চেক ও টাকা আনিয়ে তাদেরকে নগদ তিন লক্ষ টাকা দেই এবং বাকী পাঁচ লক্ষ টাকা পূবালী ব্যাংকের চেক দেই যাহার চেক নং-০৯২৫১৩৩। পরে রাত সাড়ে ১১ টায় দিকে আমাকে ছেড়ে দিলে বাসায় চলে আসি। পরের দিন সকালে ব্যাংকে চেকের টাকা উত্তোলন করতে না পেরে আমার তক্কার মাঠ এলাকার বাসায় এসে আমাকে না পেয়ে আমার ছেলেকে তুলে নিয়ে যাবার হুমকী দেয়।
বর্তমান সরকার বহুকাঙ্খিত জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একটি গণতান্ত্রিক সরকার। এই সরকারের আমলে এমনভাবে আমাকে অপহরণের শিকার হতে হবে তা আমি কল্পনাও করতে পারিনি। আমি প্রকৃতপক্ষে একজন বিএনপি সমর্থিত ব্যাক্তি এবং আমি ২০২৩ইং সালে ঘোষিত কুতুবপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র একজন নির্বাহী সদস্য।
৫ই আগষ্টের পরে জুয়েল আরমানসহ স্থানীয় কিছু বিএনপি নেতা আমার ব্যবসায়ের প্রতিহিংসার কারণে আমার নিকট মোটা অংকের চাঁদা দাবী করে। আমি তাদের দাবী অনুযায়ী টাকা প্রদান না করিলে তারা আমাকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলায় আমাকে অন্তর্ভুক্ত করে। যাহা হইতে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য গত ২৩ অক্টোবর ২০২৪ সালে নারায়গঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য একটি পত্র দেই।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন দেলু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে ফতুল্লা থানা কৃষক দলের আহ্বায়ক জুয়েল আরমান ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান।