সরকার বেশকিছু শর্তে বন্ধ ঘোষিত সরকারি পাটকলের শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে ৫৭৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) অনুকূলে এই বরাদ্দ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ‘পরিচালন ঋণ’ খাত থেকে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর আগেও দুই দফায় শ্রমিকদের পাওনা বাবদ ২৯ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া শর্তে বলা হয়, বরাদ্দ করা অর্থ নির্ধারিত খাতের বাইরে অন্য কোনো খাতে ব্যয় করা যাবে না। বরাদ্দও ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শ্রমিকদের পাওনা বাবদ ৩২৭ কোটি টাকা। এ ছাড়া ১ হাজার ৯৮০ অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাওনাসহ ২ হাজার ২১৭ জন কাঁচা পাট সরবরাহকারীর পাওনা বাবদ ২৩৫ কোটি টাকা এবং স্টোর এবং পরিবহনে সংশ্নিষ্ট ১ হাজার ১১৯ জনের পাওনা বাবদ ১২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। নির্ধারিত এ অর্থ সংশ্নিষ্টদের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পরিশোধ করার শর্ত দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঋণ হিসেবে বিজেএমসিকে এ অর্থ দেওয়া হচ্ছে। পাঁচ বছরের রেয়াতকালসহ আগামী ২০ বছরে সরকারকে পরিশোধ করতে হবে। ৫ শতাংশ সুদে বছরে দুটি কিস্তিতে ঋণের অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
১০ মে বিজেএমসিকে দেওয়া এক চিঠিতে অর্থ মন্ত্রণালয় এসব শর্তের কথা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সংশ্নিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, খুব দ্রুতই সব পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা করা হবে। এ ব্যাপারে আগে থেকেই সব প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি জানান, তৃতীয় দফায় শ্রমিক এবং পাট সরবরাহকারীদের পাওনা পরিশোধের পর বিজেএমসির এ-সংক্রান্ত আর কোনো দায়দেনা থাকছে না।