
ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও অন্তত ১০০ জন হতাহত হওয়ার পর দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বিশেষ করে নেগেভ, লাচিশ এবং মৃত সাগর (ডেড সি) এলাকায় এই বিধিনিষেধ কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে। ইসরায়েলি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক ঘোষণায় জানিয়েছে, সোমবার সারা দেশে কোনো ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বড় ধরনের কোনো জমায়েত কেবল তখনই করা যাবে যদি সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছানোর ব্যবস্থা থাকে।
শনিবার রাতভর চালানো এই হামলায় ইসরায়েলের অত্যন্ত কৌশলগত এবং পারমাণবিক কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত দিমোনা শহরকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত এই শহরটি ইসরায়েলের পরমাণু প্রকল্পের প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় সেখানে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও অন্তত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে সরাসরি আঘাত হেনেছে।
এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে আরও বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। হামলায় আহত ১০০ জনেরও বেশি মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইরানি পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রে চালানো হামলার প্রতিশোধ নিতেই এই নজিরবিহীন আক্রমণ চালানো হয়েছে।
ইসরায়েলের পক্ষ থেকে নাতাঞ্জ হামলার দায় অস্বীকার করে দাবি করা হয়েছে, সেটি ছিল একটি মার্কিন অপারেশন। তবে তেহরানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত পারমাণবিক অস্ত্র গবেষণা কেন্দ্রে সাম্প্রতিক হামলার দায় ইসরায়েল স্বীকার করে নিয়েছে। দিমোনা শহরে শনিবার সারাদিন অন্তত সাতবার বিমান হামলার সাইরেন বেজেছে এবং একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র সেখানে আঘাত হানার চেষ্টা করেছে।
ইসরায়েল সাধারণত তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উচ্চ কার্যকারিতা নিয়ে গর্ব করলেও, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই শহরে কীভাবে ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানতে সক্ষম হলো তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। এই ব্যর্থতা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ইরানের এই বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তেহরানের সরকারি অবকাঠামোগুলো লক্ষ্য করে ‘বড় ধরনের বিমান হামলা’ শুরু করেছে বলে নিশ্চিত করেছে। আইডিএফ জানিয়েছে, তাদের এই নতুন আক্রমণ মূলত ইরানের শাসন ব্যবস্থার মূল কাঠামোগুলো ধ্বংস করার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
ইরান এবং ইসরায়েলের মধ্যে পারমাণবিক স্থাপনা কেন্দ্রিক এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যকে এক পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্বনেতারা এই সংঘাতের ভয়াবহতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কারণ দিমোনার মতো স্পর্শকাতর এলাকায় সরাসরি আঘাত হানা আঞ্চলিক নিরাপত্তার সমীকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা লাইভ
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply