লিটন পাঠান, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মার্কেট গুলোতে নতুন পণ্যের পসরা। ক্রেতাও রয়েছে বেশ। শেষ সময়ে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। এর ফলে বাজারে বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়। আর এই চাহিদাকে পুঁজি করে বাজারে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী নিজেরা স্টিকার লাগিয়ে। অতি মুনাফা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। শনিবার (১৪-মার্চ)২০২৬ইং ছুটির দিন হওয়ায়, পাল গার্মেন্টস, মীনা গার্মেন্টস, নরেশ গার্মেন্টস, সুরেশ প্লিজ, রাজীব ফ্যাশন, রনি জনি গার্মেন্টস, গৌরী বস্ত্রালয়, সৌভাগ্য বস্ত্রালয়, বিসমিল্লাহ বস্ত্রালয়, শেখ মেনশন, চৌধুরী শপিং সেন্টারসহ নানা মার্কেটে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, এবার ঈদ ঘিরে নারীর পোশাকে এসেছে নানা বৈচিত্র । ফারসি সালোয়ার কামিজ ৪-হাজার, পাকিস্তান ৩৫০০, -ভারতীয় ২৫০০, নকশা ও প্যাটার্নের নানা পোশাক, কুর্তি-সিঙ্গেল কামিজ, টু-পিস, সারারা, ঘারারার দেখা মিলেছে মাধবপুর বিভিন্ন মার্কেটে।
ঈদের সপ্তাহ আগেই ক্রেতার পকেট কাটতে পোলাওর চাল কেজি প্রতি ২০-৩০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। সরবরাহ থাকলেও এক দিনের ব্যবধানে ৫০-৬০ টাকা বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। সঙ্গে কেজিপ্রতি ৫০ টাকা বেড়ে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা। পাশাপাশি দুধ, চিনি, সেমাই ও কিসমিস বাড়তি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। সঙ্গে মসলা পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে বরাবরের মতো এবারও ঈদ ঘিরে পণ্য কিনতে বাজারে ঠকছেন ভোক্তা। উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এদিন প্রতি কেজি পোলাওর চাল মানভেদে বিক্রি হয়েছে ১৫০-১৬০ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এই এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতি কেজি পোলাওর চালে ২০-৩০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বাজারে প্রতি কেজি মুগ ডাল বিক্রি হয়েছে ১৫০-১৬০ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগে ১৪০-১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সেক্ষেত্রে সপ্তাহের ব্যবধানে কেজি প্রতি ১০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
মাংসের মধ্যে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা। যা ৭ দিন আগেও ১৫০-১৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা। প্রতি কেজি লেয়ার ৩৬০ টাকা ও দেশি মুরগি ৭৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা ৭ দিন আগেও ৭৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি কেজি খাসির মাংস বিক্রি হয়েছে ১২০০ টাকা। মাধবপুর বাজারে পণ্য কিনতে আসা মোঃ মাসুদ আলী বলেন, বাজারে কোনো স্বস্তি নেই। প্রতিদিনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বেচায় বিক্রেতারা কারসাজি করেন। রোজা এলেই বিক্রেতারা এমন কারসাজি করে থাকেন। আবার ঈদ আসার আগে বিক্রেতারা আরেক দফা পণ্যের দাম বাড়িয়ে ক্রেতার পকেট শূন্য করে দেয়। প্রতি বছরের মতো এবারও একই অবস্থার পুনরাবৃত্তি হয়েছে। এসব দেখার যেন কেউ নেই।
মাধবপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলাউদ্দিন আল রনি বলেন, রোজা-ঈদসহ কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান এলে দেশে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী অতি মুনাফা করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। এবারও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। ভোক্তাকে স্বস্তি দিতে হলে সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে বাজার মনিটরিং করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ভোক্তার স্বার্থ সংরক্ষণে আইন আছে। সেই আইন বাস্তবায়ন করতে হবে। এতে যদি ভোক্তা কিছুটা সুফল পান। সরজমিনে গিয়ে খুচরা বাজার ঘুরে ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা গেছে, বাজারে গুঁড়া দুধের মধ্যে প্রতি কেজি ডানো ৮৬০ টাকা, ডিপ্লোমা ৯২০ টাকা, ফ্রেশ ৮৯০ টাকা ও মার্কস ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি ২০০ গ্রামের প্যাকেটজাত লাচ্চা সেমাই বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা। যা আগে ৪৫ টাকাতেও পাওয়া গেছে। আর ২০০ গ্রামের প্যাকেটজাত চিকন সেমাই বিক্রি হয়েছে ৪৫ টাকায়। প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকা।
৭ দিন আগেও ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা। রসুন প্রতি কেজি সর্বোচ্চ ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি হলুদ বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা। আদা কেজি প্রতি সর্বোচ্চ ২২০ টাকা। পাশাপাশি প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ১৮৫ টাকা। বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ টাকা। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়। ঈদকে সামনে রেখে বাজারে যেন কোনো ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দাম আদায় বা প্রতারণা করতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত বাজার তদারকি করা হচ্ছে। অনিয়ম পেলেই আইনের আওতায় আনা হচ্ছে এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সম্পাদক: মোঃ শাহাব উদ্দিন, প্রকাশক: মোঃ শাহজাদা হোসাইন, নির্বাহী সম্পাদক : এম শহিদুল ইসলাম নয়ন
অফিস: ১৪/১৬ কাজলারপাড়, ভাঙ্গাপ্রেস, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২৩৬
@ Economicnews24 2025 | All Rights Reserved