
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। আজ বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে এ কর্মসূচি কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার (০৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সারা দেশের পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের উদ্দেশে জারি করা এক নোটিশে সমিতি জানায়, সব কোম্পানির প্লান্ট থেকে এলপিজি উত্তোলনও বন্ধ রাখা হবে। এর আগে কমিশন বৃদ্ধি, জরিমানা বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে বুধবার সকালে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয় সংগঠনটি।
এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি সেলিম খান বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ থাকবে। তবে বিকেল তিনটায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সঙ্গে তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে দাবি মেনে নেওয়া হলে বিক্রি পুনরায় শুরু হবে, অন্যথায় বিক্রি বন্ধই থাকবে।
এদিকে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, এলপিজি পরিবেশকরা কমিশনের লাইসেন্সধারী আমদানিকারক নন। ফলে আইনিভাবে তাদের দাবি সরাসরি আমলে নেওয়ার সুযোগ নেই। আমদানিকারকরা প্রস্তাব দিলে তা যাচাই-বাছাই করে গণশুনানির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। গণশুনানিতে দাবির যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি দাবি করে, দেশে বর্তমানে এলপিজির সংকটময় পরিস্থিতি চলছে। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ২৭টি কোম্পানির বাজারে থাকা সাড়ে পাঁচ কোটি সিলিন্ডারের মধ্যে মাত্র এক কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডারে গ্যাস রিফিল হচ্ছে। বাকি চার কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডার খালি পড়ে থাকায় পরিবেশকদের খরচ বেড়েছে, যা বাজারে দাম বাড়ার অন্যতম কারণ।
প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে সভাপতি সেলিম খান বলেন, অধিকাংশ কোম্পানি কার্যত বন্ধ থাকায় পরিবেশকরা দেউলিয়া হওয়ার মুখে পড়ছেন। এ পরিস্থিতিতে পরিবেশক কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৫ টাকা করার দাবি জানান তারা।
অন্যদিকে, গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সাংবাদিকদের বলেন, দেশে এলপিজির কোনো ঘাটতি নেই। বাজারে যে সংকট দেখা যাচ্ছে, তা মূলত কারসাজির ফল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কাজ করছে এবং বিভিন্ন স্থানে জরিমানাও করা হচ্ছে।
বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশক সমিতির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বিইআরসি পরিবেশকদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই মূল্য সমন্বয় করেছে। এলপিজির প্রকৃত সংকট নিরসনে জোর না দিয়ে দাম বৃদ্ধি নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। ভোক্তা অধিকার অভিযান চালিয়ে বাজারে আতঙ্ক তৈরি করায় অনেক ব্যবসায়ী ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সহসভাপতি হারুন অর রশিদ, অর্থসম্পাদক আবু তাহের কোরেশিসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply