1. econimicnews24@gmail.com : Nayan Sharkar : Nayan Sharkar
  2. economicnews24bd@gmail.com : Nurnnobi Sarker : Nurnnobi Sarker
  3. editor.econimicnews24@gmail.com : Fahim Fahim : Fahim Fahim
  4. jmitsolution24@gmail.com : support :
শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫৮ অপরাহ্ন
Title :
রাঙ্গামাটি জেলা আইনজীবী সহকারী সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে -সহ সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ কামাল পাশা কুমিল্লায় লবণবাহী ট্রাকে ইয়াবার বড় চালান, উদ্বার ১ লাখ ৬০ হাজার পিছ  নবীনগরে দুই অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশু নিহত, আহত ৩ সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসি. এর ৩৮তম বার্ষিক সাধারণ সভা সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে লেনদেনের শীর্ষে বেক্সিমকো ফার্মা যুক্তরাষ্ট্রে ওয়ালটন পিসিবিএ রপ্তানি উদ্বোধন করলেন তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা আইএফআইসি ব্যাংক ও বেস্ট ওয়েস্টার্ন প্লাস বে হিলস এর মধ্যে সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষর স্মার্টফোন বিক্রিতে দারাজ ও পিকাবুতে শীর্ষে রিয়েলমি বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতায় ভিভো ৯.৭ ইঞ্চির নতুন রেডমি প্যাড ২ নিয়ে এলো শাওমি

যারা গুম করেছেন তাদের বিচার এই মাটিতেই হবে- মায়ের ডাক

  • আপডেট : শনিবার, ২৭ মে, ২০২৩, ১.০৮ পিএম
  • ২৬০ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ২৭ মে ২০২৩, শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আর্ন্তজাতিক সপ্তাহ পালন উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে মায়ের ডাকের উদ্যোগে প্রতিবাদী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মায়ের ডাকের সমন্বয়কারী সানজিদা ইসলাম তুলি, মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসার সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন আফরোজা ইসলাম আখি।

তিনি বলেন, প্রতি বছর মে মাসের শেষ সপ্তাহে গুম হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গঠিত সংগঠনগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গুমের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সপ্তাহ পালন করে। গুমের বিরুদ্ধে এই সপ্তাহটি ১৯৮১ সালে গুম হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের নিয়ে গড়ে ওঠা  FEDEFAM অর্থাৎ ফেডারেশন অফ অ্যাসোসিয়েসনস ফর রিলেটিভস অফ দি ডিটেইন্ড ডিসএ্যাপিয়ার্ড নামের দক্ষিণ আমেরিকার একটি সংগঠন প্রথম পালন করা শুরু করে। এরপর থেকেই গুম হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে গণমানুষের সংগঠনগুলো পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই সপ্তাহটি পালন করে আসছে।

দক্ষিণ আমেরিকার বহু দেশে বিশেষ করে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, চিলি ও গুয়েতামালাতে ৬০ থেকে ৮০’র দশক পর্যন্ত একনায়কতান্ত্রিক শাসনের অধীনে হাজার হাজার মানুষ শুম হয়েছিলেন। তখন সপ্তাহটি পালন করার আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল গুমের বিরুদ্ধে প্রচারণাকে ত্বরান্বিত করা। ২৬ মে থেকে বাংলাদেশে গুমের বিরুদ্ধে আর্ন্তজাতিক সপ্তাহ পালন শুরু হয়েছে, যা ৩১ মে পর্যন্ত চলবে। আজকে মায়ের ডাক ভিকটিম পরিবারগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সমাবেশ ও মানববন্ধনের মাধ্যমে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ করছে এবং তাঁদেরকে নিজ নিজ পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানাচ্ছে।

গুম বা এনফোর্সড ডিঅ্যাপিয়ারেন্স একটি মানবতাবিরোধী অপরাধ যা আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে রোম সংবিধিতে উল্লেখিত হয়েছে। বাংলাদেশ রোম সংবিধিতে অনুস্বাক্ষরকারী একটি দেশ। ‘গুম’ একজন ব্যক্তির বাক স্বাধীনতা, চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা, জীবনের স্বাধীনতা, ধর্ম পালনের স্বাধীনতা এবং সংগঠনের স্বাধীনতাকে খর্ব করে। গুম জনিত অপরাধকে ধারাবাহিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ আটক বা অপহরণের পর এটি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে। গুম মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এটি রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের একটি বড় হাতিয়ার। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, জরুরী অবস্থা এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার নামে গুম জনিত অপরাধ মূলতঃ তাঁদেরই বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হয়; যাঁদেরকে সরকার শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করেছে। গুম হওয়া ব্যক্তিরা প্রায়শঃই নির্যাতনের শিকার হন এবং তাঁদের জীবন নিয়ে তাঁরা সব সময় ভীত সন্ত্রস্ত থাকেন। গুমের শিকার ব্যক্তি এবং তাঁদের পরিবারগুলোকে সব ধরনের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। এমনকি তাঁরা আইনি সুরক্ষা থেকেও বঞ্চিত হয়ে থাকেন। গুম হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের স্ত্রী-সন্তানরা আর্থিক ও সামাজিকভাবেও তাঁদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হন।

২০০৯ সাল থেকেই বাংলাদেশে গুমের ঘটনা ব্যাপক রুপ নিয়েছে। এই সময়ে সাধারণ মানুষ, বিরোধীদলের নেতা-কর্মী এবং ভিন্নমতের ব্যক্তিরা গুমের শিকার হয়েছেন, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য পরিচয় দিয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর অনেকেরই কোন খোঁজ পাওয়া যায় না। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরাই তাঁদের ধরে নিয়ে গেছে বলে ভিকটিমদের পরিবারগুলো সবসময় দাবি করছে। অথচ সরকার গুমের বিষয়টি অস্বীকার করছে।

বর্তমান এই পরিস্থিতিতে মায়ের ডাক মনে করে, সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং সব ধরনের অন্যায়- অবিচারের প্রতিকার করতে বাংলাদেশের জনগণকে সংগঠিত হয়ে এই অন্যায়ের এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো ছাড়া আর কোন বিকল্প নাই। অনুষ্ঠানে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ নেতা কমরেড সাইফুল হক, ঢাকা মহানগর উত্তরের জনতার মেয়র তাবিদ আওয়াল, মানবাধিকার সংগঠনের শীর্ষ নেতা নূর খান লিটন, অধিকারের পরিচালক নাসির উদ্দিন এলান, আন্তর্জাতিক চিত্রশিল্পী শহিদুল আলম, নারীনেত্রী ফরিদা আক্তার, ভিকটিম পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের গুম হওয়া সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন সবুজের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস জিনিয়া, গুম হওয়া সাজেদুল ইসলাম সুমনের ছোট মেয়ে আরোয়া ইসলাম, ড্রাইভার কাউসারের মেয়ে লামিয়া ইসলাম মীম, শিশু হৃদি, শিশু সাফা, মাহবুব হোসেন সুজনের ভাই সাকিল, বরিশালের গুম হওয়া ফিরোজ খানা কালুর স্ত্রী আমিনা আক্তার বৃষ্টি সহ প্রমুখ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রতি বছরই এই পরিবারগুলো তাদের স্বজনদের ফিরে পাওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় উপস্থিত হন তাদের চোখে পানি আর কষ্ট ছাড়া কিছুই পায়নি। বছরের পর বছর কেটে গেলেও তারা কোথায় আছে, কেমন আছে, বেঁচে আছে কিনা মরে গেছে কেউ জানে না। তাদের জন্মদিন থাকলেও কারো মৃত্যুদিন নেই। এখান থেকে উত্তরনের উপায় প্রধানমন্ত্রীকে খুজে বের করতে হবে। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, আপনাদের সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। যেটুকু সময় আছে সেই টুকু সময়ের মধ্যে অন্তত একটি ভালো কাজ করুন। তা না হলে পরিণিতির কথা চিন্তাও করতে পারবেন না।

ইতোমধ্যে দেখতে পাচ্ছেন, গাজীপুর সিটিসহ বিভিন্ন জায়গায় নৌকা ডুবতে শুরু করেছে। যে ঝড় শুরু হয়েছে তা চলতে থাকলে নৌকার অস্তিত্বও খুঁজে পাবেন না। আর প্রশাসনের যে সমস্ত ব্যক্তিরা কিছু সংখ্যক ব্যক্তির পরামর্শে এই অন্যায় কাজগুলো করেছেন, আপনারা যেখানেই থাকুন না কেন আপনাদেরকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। আইনের উর্ধে  কেউ না। এত বছর আপনারা যাদের গুম করে রেখেছেন, তাদের পরিবারের সদস্যরা কেউ ঘুিেময়ে নেই। তারা রাজপথে বছরের পর বছর প্রতিবাদ করছেই। এই প্রতিবাদ চলতেই থাকবে, যতদিন না তারা ফিরে আসবে। সভায় মিরপুরের কাঠ ব্যবসায়ী গুম হওয়া ইসমাইল হোসেন বাতেনের শাশুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয় এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর »
© 2026 - Economic News24. All Rights Reserved.
Economicnews24 .com