স্টাফ রিপোর্টার, টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে এক গৃহবধূকে (২৩) দলবদ্ধভাবে যৌননিগ্রহ চালানোর দায়ে ৬ ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ- দিয়েছেন আদালত। একই সাথে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে অর্থদ-, অনাদায়ে আরও ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদ-ের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আনম ইলিয়াস ওই রায় ঘোষণা করেন। টাঙ্গাইলের সরকারি কৌশুলি (পিপি) ওমরাও খান দিপু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছেন- দেলদুয়ার উপজেলার মঙ্গহোড় গ্রামের হযরত আলীর ছেলে রাজন মিয়া, মঙ্গলহোড় মধ্যপাড়া গ্রামের মো. মজনু মিয়ার ছেলে মো. রিফাত, একই গ্রামের মো. মোবারকের ছেলে আব্দুর রউফ, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পয়লা পশ্চিমপাড়া গ্রামের মো. নিলু মিয়ার ছেলে মো. আমির হামজা, কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার পৌলি এলাকার মো. নুরুল ইসলামের ছেলে আল আমিন, দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল এলাকার মৃত সিরাজ মিয়ার ছেলে বিপ্লব মিয়া।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর ভুক্তভোগী গৃহবধূ দেলদুয়ার থানার আটিয়া গ্রামে তার ফুফু শিউলী বেগমের বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখানে পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যার কারণে ফুফুর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা তিনি ধার নেন। ওইদিন রাতে মাদারজানি যাওয়ার পথে উল্লেখিত আসামিরা জোরপূর্বক তাকে মোহন টেক্সটাইল মিলের অফিস রুমে নিয়ে যায়। এরপর দলব্ধভাবে পালাক্রমে তার উপর যৌননিগ্রহ চালায় এবং তার মোবাইল ও পার্স থেকে ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি পরিসেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগী বাদী হয়ে দেলদুয়ার থানায় মামলা দায়ের করেন। দেলদুয়ার থানার পরিদর্শক (নিরস্ত্র) আজিজুল হক হাওলাদার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
সরকারি কৌশুলি (পিপি) ওমরাও খান দিপু জানান, দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(৩) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসামিদের উপস্থিতিতে ওই রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা মূলে আসামিদের টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।