দেশের নারীদের প্রকৃত মুক্তি, অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে হলে মাওলানা ভাসানীর শোষণমুক্ত সমাজের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে ভাসানী নারী মুক্তি পার্টিকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন ভাসানী জনশক্তি পার্টির মহাসচিব ড. আবু ইউসুফ সেলিম।
ভাসানী জনশক্তি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাসানী নারী মুক্তি পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত কর্মী সমাবেশে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
ভাসানী নারী মুক্তি পার্টির নেত্রী শাহানা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মী সমাবেশে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাসানী জনশক্তি পার্টির মহাসচিব ড. আবু ইউসুফ সেলিম। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ভাসানী জনশক্তি পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী, কমরেড বাবুল বিশ্বাস, বিলকিস খন্দকার, ভাসানী সাংস্কৃতিক পার্টির আহ্বায়ক মশিউর রহমান, নারী নেত্রী সিমা বেগম, তাসলিমা খাতুন, আফসানা আক্তার মিলি প্রমুখ।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে ড. আবু ইউসুফ সেলিম বলেন, “শেখ মুজিব, জিয়া কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তির চিন্তা-চেতনা দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের স্থায়ী পরিবর্তন করা যাবে না। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন এবং নারীদের প্রকৃত মুক্তি ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে এদেশের মাটি ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্কিত রাজনৈতিক দর্শনকে সামনে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।”
তিনি বলেন, মাওলানা ভাসানীর চিন্তা-চেতনা ছিল শোষিত, বঞ্চিত ও নিপীড়িত মানুষের মুক্তির দর্শন। তাঁর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে নারী সমাজকে অধিকার সচেতন ও সংগঠিত করতে হবে। নারীদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ নারী আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি।
ড. সেলিম আরও বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। নারীদের পিছিয়ে রেখে কোনো রাষ্ট্রের প্রকৃত উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। তাই নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠাকে কেবল সামাজিক ইস্যু হিসেবে দেখলে হবে না; এটিকে শোষণ-বৈষম্যের বিরুদ্ধে বৃহত্তর গণআন্দোলনের অংশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, “ভাসানীর আদর্শের মূল কথা ছিল মানুষের মুক্তি, শোষণ-বৈষম্যের অবসান এবং অধিকার প্রতিষ্ঠা। সেই আদর্শকে ধারণ করে ভাসানী নারী মুক্তি পার্টিকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে হবে। নারী সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে আরও বেগবান করতে হবে।”
সভায় এড. মোহাম্মাদ আলী বলেন বলেন, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। মাওলানা ভাসানীর আদর্শকে সামনে রেখে নারী সমাজের মধ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তৃণমূল পর্যায়ে নারী নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপর তারা গুরুত্বারোপ করেন।
কমরেড বাবুল বিশ্বাস বলেন, নারীদের আত্মমর্যাদা, নিরাপত্তা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এ লক্ষ্যে ভাসানী নারী মুক্তি পার্টিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী ও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
কর্মী সমাবেশে ভাসানী নারী মুক্তি পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মাওলানা ভাসানীর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে নারীর অধিকার ও মুক্তির আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়।