ঢাকা, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬: দেশের পর্যটন শিল্পের অন্যতম বৃহৎ আয়োজন ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার (ATF Dhaka) ২০২৬ উপলক্ষে প্লাটিনাম পার্টনার হিসেবে ক্রাউন প্লাজা বাই IHG ঢাকা এয়ারপোর্ট – এর সঙ্গে আজ একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় আসন্ন এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারে অংশগ্রহণকারী প্লাটিনাম পার্টনার হিসাবে ক্রাউন প্লাজা বাই IHG ঢাকা এয়ারপোর্ট অংশগ্রহণ করবে । একই সঙ্গে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের আন্তর্জাতিক প্রচার ও পর্যটন অংশীজনদের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধিতেও এ অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় পর্যটন বিচিত্রার আয়োজনে ক্রাউন প্লাজা বাই IHG ঢাকা এয়ারপোর্ট হোটেলে অনুষ্ঠাতব্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম নাইট ও অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার্ড বাই ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট লাক্সেরি হোটেল সার্বিক আতিথেয়তা প্রদান করবে।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট-এর জেনারেল ম্যানেজার জনাব আশেনি নায়ের এবং ডিরেক্টর অব সেলস জনাব নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পর্যটন বিচিত্রার সম্পাদক ও এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হেলাল, মেলা পরিচালক বোরহান উদ্দিন, পরিচালক (বিপণন ও উন্নয়ন) সালাউদ্দিন অটন এবং টিগাবের সভাপতি মাহবুব ইসলাম বুলু , কনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহেদী আমিন চৌধুরী ও টোয়াব এর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জনাব তানভীর আহমেদ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজন।
ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট-এর জেনারেল ম্যানেজার জনাব আশেনি নায়ের বলেন, এ ধরনের একটি কমপ্রিহেনসিভ পর্যটন মেলা শুধু পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ব্যবসায়িক ও পেশাগত যোগাযোগ বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করে না, বরং একটি দেশের পর্যটন সম্ভাবনা, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের চিত্র আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে।
তিনি এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মেলার প্লাটিনাম পার্টনার হিসেবে ক্রাউন প্লাজা বাই IHG ঢাকা এয়ারপোর্ট হোটেল প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন ও সার্বিক সাফল্য কামনা করেন। একই সাথে আসন্ন ‘বাংলাদেশ ট্যুরিজম নাইট ও অ্যাওয়ার্ড’ পাওয়ার্ড বাই ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট হোটেলে একটি লাক্সেরি উৎসব মুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশ ব্যক্ত করেন।
এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের চেয়ারম্যান ও পর্যটন বিচিত্রার সম্পাদক মহিউদ্দিন হেলাল বলেন, বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৭ উৎযাপনের অংশ হিসাবে “এবারের ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারকে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের একটি বৃহৎ মিলনমেলা ও পর্যটন উৎসবে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশ-বিদেশের পর্যটন প্রতিষ্ঠানগুলো এই মেলায় আসন্ন শীত মৌসুমের ভ্রমণ পরিকল্পনার জন্য বিভিন্ন আকর্ষণীয় হলিডে প্যাকেজ, ডিসকাউন্ট ও বিশেষ অফার নিয়ে অংশগ্রহণ করবে। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যে পর্যটকদের আগ্রহ ও ভ্রমণ প্রবাহ আরও বাড়বে বলে আমরা আশা করছি।”
তিনি আরও বলেন, “পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা আশা করি, দেশের সব গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারকে একটি সফল পর্যটন উৎসবে পরিণত করতে সহযোগিতা করবে।”
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও সার্বিক সহযোগিতায় আগামী ১৭, ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (ICCB), ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে তিন দিনব্যাপী ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এবারের মেলায় ৩০০-এর অধিক স্টলে দেশ ও বিদেশের পর্যটন প্রতিষ্ঠান, হোটেল, রিসোর্ট, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্সি, জাতীয় পর্যটন সংস্থা, বিনিয়োগকারী ও অন্যান্য পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করবে। বাংলাদেশ ছাড়াও পার্টনার দেশ হিসেবে থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, মালদ্বীপ অংশগ্রহণ করবে। এছাড়া মেলার ফিচার কান্ট্রি হিসাবে মালয়েশিয়া, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলংঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের পর্
মেলা উপলক্ষে তিন দিনজুড়ে থাকছে বিটুবি নেট ওয়ার্কিং, সেমিনার, গ্রুপ ডিসকাশন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পর্যটনবিষয়ক আলোচনা এবং আকর্ষণীয় র্যাফেল ড্র। দেশি-বিদেশি পর্যটন প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, পেশাজীবী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য মেলাটি একই সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগ, ভ্রমণ পরিকল্পনা, বিনোদন ও জ্ঞান বিনিময়ের একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে উঠবে।
এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার দীর্ঘদিন ধরে দেশের পর্যটন শিল্পের বিভিন্ন অংশীজন -হোটেল, রিসোর্ট, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্ট, এয়ারলাইনস, জাতীয় পর্যটন সংস্থা, বিনিয়োগকারী, দক্ষতা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ও পর্যটন উদ্যোক্তাদের একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার কাজ করে আসছে। এবারের আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে আরও শক্তিশালী, প্রতিযোগিতামূলক ও আন্তর্জাতিক বাজারমুখী করার পাশাপাশি দেশের পর্যটন গন্তব্যগুলোর প্রচার ও বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।