রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি হওয়ায় এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানিসহ বেশিরভাগ পণ্যের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম ৯ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলারে। বুধবার (৬ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্য ব্যালান্স অভ পেমেন্টসের (বিওপি) সাম্প্রতিক হিসাবে এমন তথ্য উঠে এসেছে
এতে দেখা যায়, গত ফেব্রুয়ারিতে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১৬ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। ফেব্রুয়ারির তুলনায় গত মার্চে এক মাসের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ২ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার। এক বছর আগে অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-মার্চে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১৫ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৩ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চে রপ্তানি হয়েছে ৩২ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার। রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ঋণাত্মক ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ৩৩ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, এ সময়ে আমদানি হয়েছে ৫১ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে আমদানি হয়েছিল ৪৯ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৬ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশের বেশি।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আমদানি প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক থাকলেও রপ্তানি আয় কমে যাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে। তাদের মতে, রপ্তানিতে প্রায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ছিল। অন্যদিকে, আমদানিতে ছিল ৪ দশমিক ৬ শতাংশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি। ফলে ঘাটতি বাড়াটা স্বাভাবিক। তবে রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী থাকায় এবং বাকিতে পণ্য আমদানির সুযোগ থাকায় দেশের সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি এখনও বড় চাপের মধ্যে পড়েনি।