
লিটন পাঠান, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা জুড়ে দিন-রাত অবাধে চলছে মাটি, সাধারণ বালু ও সিলিকা বালু উত্তোলন। স্থানীয়দের ভাষায়, এটি যেন এক প্রকার “মহোৎসব” যেখানে পরিবেশ আইন, বিধি-বিধান এবং প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পাহাড়ি ছড়া, খাল, নদী ও ফসলি জমি থেকে নির্বিচারে সম্পদ লুট করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার ও এসকেভেটর ব্যবহার করে রাতের আঁধারে বালু ও মাটি উত্তোলন করছে। পরে ট্রাক্টর ও ট্রাকে করে তা বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ছাতিয়াইন, বাঘাসুরা,নোয়াপাড়া, জগদীশপুর, বুল্লা, আন্দিউড়া, বহরা ও চৌমুহনী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এ কার্যক্রম চোখে পড়ছে। বুল্লা ইউনিয়নের গাগড়াবাড়ি শত শত বিঘা ফসলি জমি খনন করে বালু তোলা হয়েছে। আইনজীবী মনোহার আলী বলেন, আইন অনুযায়ী ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি থেকেও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মাটি উত্তোলন করা যায় না। তিনি উল্লেখ করেন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ৬ ধারায় প্রাকৃতিক টিলা ও পাহাড় নিধন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
উর্বর কৃষিজমির টপসয়েল কেটে শ্রেণি পরিবর্তন করা এবং পরিবেশের ক্ষতি করা দন্ডনীয় অপরাধ। অথচ বাস্তবে এসব আইনের কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। সরেজমিনে দেখা গেছে, সোনাই নদী-এর পাড়জুড়ে চৌমুহনী ইউনিয়নের আলাবক্সপুর, মঙ্গলপুর, অলিপুর, মহব্বতপুর ও হরিণখোলা এলাকায় অন্তত ১৫টি বিশাল বালুর স্তুপ গড়ে তোলা হয়েছে। বহরা ইউনিয়নের রাবার ড্যাম এলাকাসহ বিভিন্ন স্পট থেকে সিলিকা ও সাধারণ বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় নদীর বাঁধ কেটে নেওয়ায় রাবার ড্যাম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বলেও জানান স্থানীয়রা। ৮নং বুল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, কৃষিজমির টপসয়েল কেটে নেওয়ার ফলে জমির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে গ্রামীণ অবকাঠামো ভেঙে তছনছ হয়ে যাচ্ছে। ১১নং বাঘাসুরা ইউপি চেয়ারম্যান শাহাবউদ্দিন আহমেদ বলেন, এভাবে অবৈধ উত্তোলন চলতে থাকায় সরকার বিপুল রাজস্ব হারিয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ি ছড়ার স্বাভাবিক গতিপথ নষ্ট হচ্ছে, পাহাড়ে ভাঙন দেখা দিচ্ছে এবং জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।
এ বিষয়ে মাধবপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুজিবুল ইসলাম জানান, মাধবপুরে সরকারিভাবে কোনো সিলিকা বা সাধারণ বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়নি। অবৈধ উত্তোলনের খবর পেলেই তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে জেল-জরিমানা ও গাড়ি জব্দ করা হচ্ছে। জড়িতদের তালিকাও প্রস্তুত করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ বিন কাশেম বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে এবং নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply