শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
ডিএসইতে সূচকের উত্থান, তবুও কমল ৭৩৭ কোটি টাকার বাজার মূলধন বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে দর পতনের শীর্ষে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষে বিডি অটোকারস বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে খান ব্রাদার্স মায়ের ডাকের লাবনীর বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ফেসবুক কে নিরাপদ করতে সরকারের কাছে টিক্যাবের ৫ দাবি বাংলাদেশে এলো টেকনোর নতুন স্মার্টফোন সিরিজ ‘স্পার্ক ৫০’ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে বয়সসীমা বাতিল, সংসদে বিল পাস ইমাম আলী খামেনির মৃত্যুর ৪০তম দিনে ঢাকায় বিক্ষোভ সাম্রাজ্যবাদী মার্কিনী- ইহুদিদের পণ্য বর্জন করুন: মুহাম্মদ আতা উল্লাহ খান

ভৈরবে পচা চিনি ফিটকারী হাইড্রোজ দিয়ে তৈরি হচ্ছে ভেজাল গুড় 

ইমন মাহমুদ লিটন 
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৪
  • ২৯৬ Time View

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বিষাক্ত ও পচা চিনির সাথে ফিটকারী, হাইড্রোজ ও রং মিশিয়ে তৈরি করছেন ভেজাল গুড়। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠেছে কারখানাটি৷ আজ সোমবার (০৪ নভেম্বর) রাত ৯টায় স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পৌর শহরের রানীর বাজার শাহী মসজিদের সামনে মিশুক ট্রেডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানে ভেজাল গুড় তৈরি কারখানা দেখতে পায় সাংবাদিকরা। 

কারখানার মালিক সিন্দু বাবু। পরিচালনা দায়িত্বে রয়েছেন তার ছেলে শিমুল পোদ্দার। 

কারখানা ঘুরে দেখা যায় ইন্ডিয়া থেকে আনা পচা চিনি দিয়ে তৈরি করছে গুড়। সাথেই রয়েছে ফিটকারী, হাইড্রোজ ও রং। সত্যতা দেখে এসময় কয়েকজন সাংবাদিক উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবগত করলে তারা ঘটনাস্থলে আসতে রাজি হয়নি। প্রশাসনের গড়িমসি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অদৃশ্য কারণে প্রশাসনের অনুপস্থিতির রহস্য হয়ে রয়ে গেছে। এ বিষয়ে পৌরসভা স্যানেটারি ইন্সপেক্টরকে অবগত করলে তিনি কারখানায় এসে পরিদর্শন করেন। 

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, ভৈরব শহরের একটি ঐতিহ্যবাহী মসজিদ শাহী মসজিদ। পাশেই ভেজাল গুড় তৈরির কারখানা। এখানে কয়েক হাজার মানুষের বসবাস। নিয়মিত কারখানায় তৈরি হয় ভেজাল মসলা৷ স্থানীয় এক যুবলীগের নেতার শেল্টারে দীর্ঘদিন যাবত ভেজাল গুড় তৈরি হচ্ছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। যুবলীগ নেতার ভয়ে প্রতিবাদ করতে সাহস পায়নি বাসিন্দারা। 

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা রহিমা বেগম জানান, কারখানার পাশেই আমি পরিবার নিয়ে তিনতলা বিল্ডিংয়ে থাকি। কারখানা কালো ধোঁয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে গেছি আমরা। পচা বাসি গন্ধে বমি পর্যন্ত হয়। আবাসিক এলাকায় কারখানা কীভাবে চালায়। এসময় প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি। 

এ বিষয়ে ইয়াসিন মিয়া নামের এক হোটেল মালিক বলেন, আমরা ভয়ে কথা বলি না। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় তারা দীর্ঘদিন যাবত ভেজাল গুড় তৈরি করে আসছে৷ 

এ বিষয়ে কারখানা মালিক শিমুল পোদ্দার বলেন, চিনি দিয়েই আমি গুড় তৈরি করি। ইন্ডিয়া থেকে চিনি আসে। সারা বাংলাদেশেই চিনি দিয়ে গুড় তৈরি হয়। তাই আমিও তৈরি করি। আখের অনেক দাম আবার তা সারা বছার পাওয়া যায় না। তাই চিনিতেই ভরসা।

সে আরো জানায়, প্রতিদিন ১০০ পাটা গুড় বানাতে পারেন।  প্রতি বাটা গুড় বিক্রি হয় ১৫০০ থেকে ২ হাজার টাকায়। ভৈরবে এক প্রভাবশালী নেতাকে নিয়মিত গুড় বানিয়ে দিতেন তার প্রতিষ্ঠানে বিক্রির জন্য এবং নিজেও বিক্রি করতেন৷ 

এ বিষয়ে পৌরসভার স্যানেটারি ইন্সপেক্টর নাসিমা বেগম বলেন, আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে খবর পেয়ে কারখানায় এসেছি। এই কারখানাকে এর আগেও জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ৫ নভেম্বর সকালে অভিযান পরিচালনা করবেন নবাগত উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শবনম শারমিন। আমি তালা এনে কারখানাটি তালাবদ্ধ করে চাবি রেখে দিয়েছি। সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ভেজাল জিনিস পত্র দিয়ে তৈরি করছে গুড়। এই গুড় স্বাস্থ্য সম্মত নয়। 

এ বিষয়ে উপজেলা প.প. কর্মকর্তা ডা. বুলবুল আহমেদ বলেন, ভেজাল সব খাবারই মনব দেহের জন্য ক্ষতিকর। চিনি, ফিটকারী, হাইড্রোজ ও রং ব্যবহার করে তৈরি গুড় খেলে মানবদেহের অনেক ক্ষতি হবে।। প্রতিটি উপাদানই ক্ষতিকারক। এই ভেজাল গুড়  মানুষের পেটে বেশি সমস্যা হবে। এতে করে লিভার নষ্ট হতে পারে। ধীরে ধীরে মানবদেহে নানাবিধ সমস্যা দেখা দিবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর »

Advertisement

Ads

Address

© 2026 - Economic News24. All Rights Reserved.

Design & Developed By: ECONOMIC NEWS