1. econimicnews24@gmail.com : Nayan Sharkar : Nayan Sharkar
  2. economicnews24bd@gmail.com : Nurnnobi Sarker : Nurnnobi Sarker
  3. editor.econimicnews24@gmail.com : Fahim Fahim : Fahim Fahim
  4. jmitsolution24@gmail.com : support :
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০৭:৪০ অপরাহ্ন
Title :
দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা, চলছে উদ্ধার অভিযান টানা দুই দফা কমার পর ঊর্ধ্বমুখী সোনার বাজার, ভরি ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা বিদায়ী সপ্তাহে দর বৃদ্ধির শীর্ষে শ্যামপুর সুগার মিলস বিদায়ী সপ্তাহে দর পতনের শীর্ষে বেক্সিমকো বিদায়ী সপ্তাহে লেনদেনের শীর্ষে বেক্সিমকো ফার্মা আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান: মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ১০ই মহররম পবিত্র আশুরা দিবস কুমিল্লা নগরীর কাটাবিলে স্কুলছাত্র গুলিবিদ্ধের ঘটনায় ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা ঢাকায় সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংলাপ শুরু, ফিনিক্স সামিট ২০২৬ উদ্বোধন অবশেষে শাহজালালের মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১২ সদস্যের কমিটি

বিদেশি গাছের আগ্রাসনে ১২শ প্রজাতির দেশীয় গাছ বিপন্ন

  • আপডেট : শুক্রবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, ৪.৪৬ পিএম
  • ২৫৩ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পরিবেশবাদী সামাজিক সংগঠন সবুজ আন্দোলন’র ৬ষ্ঠ বর্ষে পদার্পন উপলক্ষে আজ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ইং শুক্রবার সকাল ১০ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনের “বিদেশি প্রজাতির গাছের আগ্রাসনে দেশীয় প্রজাতির গাছের বিলুপ্তি রোধে করণীয়, গ্রীনম্যান অ্যাওয়ার্ড—২০২৩ প্রদান ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন” অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

সভাপতির বক্তব্যে সবুজ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান বাপ্পি সরদার বলেন, সবুজ শ্যামল বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের ফলে হুমকির মুখে। একদিকে উন্নত রাষ্ট্রগুলি মাত্রাতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ করছে অন্যদিকে বাংলাদেশের উন্নয়নের নামে গাছপালাকে নির্বিচারে কর্তন করা হচ্ছে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে ৫ হাজার প্রজাতির দেশীয় গাছ থাকলেও এখন তা কমে এসে দাঁড়িয়েছে ৩৮২৮ প্রজাতিতে। এর অন্যতম প্রধান কারণ বিদেশী গাছ আমদানি এবং অপরিকল্পিত সবুজয়ান। কিন্তু বিদেশ থেকে গাছ (উদ্ভিদ ও উদ্ভিদজাত পণ্য) আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলার জন্য ২০১৫ সালে  ২৭ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) থেকে আমদানির অনুমতি পত্র নেওয়া কথা বললেও বিধি—নিষেধ কেউ মানছে না। ডেসট্রাকটিভ ইনসেক্টস অ্যান্ড পেস্টস রুলস—১৯৬৬ অনুযায়ী, উদ্ভিদ ও উদ্ভিদজাত পণ্য আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলার আগে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়।  ইদানীং লক্ষ করা যাচ্ছে যেকোনো আমদানিকারক অনুমতিপত্র ছাড়াই এলসি খুলে উদ্ভিদ ও উদ্ভিদজাত পণ্য আমদানি করছেন। এতে একদিকে আমদানি পণ্যের গুণগতমান বজায় রাখা কঠিন হচ্ছে, অন্যদিকে নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত কৃষিজাত পণ্য আমদানি কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যাঘাত ঘটছে।

তিনি বলেন, এছাড়াও বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়েছে দ্রুত বর্ধনশীল বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ। এগুলো জ্বালানি সংকট নিরসনে ভূমিকা রাখে ঠিকই, তবে ক্রমাগত মাটি ও পরিবেশের সর্বনাশ করে চলেছে। বিদেশী বৃক্ষগুলো বাংলাদেশের মানুষই যেমন এনেছে, আবার কিছু উদ্ভিদ নিজেই বাংলাদেশে ইকোসিস্টেমে বা বাস্তুসংস্থানের মধ্যে ঢুকে পড়েছে। বিদেশী প্রজাতির রেইনট্রি, সেগুন, আকাশমনি, আকাশি, শিশু, বাবলা, ইউক্যালিপটাস জাতীয় গাছের জন্য প্রচুর জায়গার দরকার হয়। এগুলো দেশী গাছের তুলনায় অনেক দ্রুততার সঙ্গে বেশি পরিমাণে পুষ্টি ও পানি শোষণ করে। তাই এসব বৃক্ষের আশেপাশে দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষ বাঁচতে পারে না। বৃটিশ আমলে বৈধভাবেই দেশে আসে রেইনট্রি, মেহগনি, চাম্বুল ইত্যাদি। আশির দশকে আসে আকাশমণি, ইউক্যালিপটাস, শিশু, ইপিল ইপিল, বাবলা ও খয়ের জাতীয় গাছ। আর বিভিন্ন সময় অনুমতি ছাড়াই প্রবেশ করেছে— রিফুজিলতা, স্বর্ণলতা, মটমটিয়া, পিসাইস, পার্থেনিয়াম, কচুরিপানা ইত্যাদি অন্যতম।

বাপ্পি সরদার আরো বলেন, অতীতে বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ হাজার প্রজাতির বৃক্ষ ছিলো। কিন্তু বর্তমানে এক হাজারের অধিক বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বিলুপ্ত হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে, বিদেশি এইসব আগ্রাসি বৃক্ষ। আমাদের চিরায়ত ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত দেশীয় বট, কদম, হিজল, জারুল, তমাল আর বাংলা মানেই বট, পাকুড়, ডুমুর, আম, জাম, শিমুল, পলাশ, হিজল, ছাতিম, কদম, শাল, তাল, তেঁতুল সহ অজস্র দেশী বৃক্ষে আচ্ছাদিত। বাংলা মানেই জুঁই, চামেলি, মালতি, গন্ধরাজ, ভাঁট ফুলসহ অজস্র লতাগুল্মের বাহার। বাংলার এসব গাছ গাছালি কে কেন্দ্র করেই বাস করে বহু প্রজাতির পশু—পাখি, কীটপতঙ্গ। মানুষ বেড়েছে ভারসাম্যহীনভাবে। চাহিদা বেড়েছে খাদ্য, বস্ত্র ও আবাসের। সেই সঙ্গে বেড়েছে ভোগ—বিলাস, বিত্ত—বৈভব, লালসা ও নগদ প্রাপ্তির অসীম চাহিদা। তাই চলছে প্রকৃতি লুণ্ঠনের অজগ্র আয়োজন। কলকারখানার জন্য উন্নয়নের নামে গাছগাছালি সাবাড় করে উজাড় হচ্ছে বন। তা আবার উদ্ধারের নামে রাষ্ট্রের লাখো কোটি টাকায় শত শত প্রকল্পে চলছে সবুজায়নের এক অদ্ভুত আয়োজন। রাষ্ট্র, সমাজ, ব্যক্তি সর্বস্তরে চলছে বাংলার বৃক্ষ—প্রকৃতি বিনাশের কাজ।

অনুষ্ঠানে বিদেশি প্রজাতির গাছের আগ্রাসন রোধ ও দেশীয় প্রজাতির গাছের প্রজনন বৃদ্ধিতে সবুজ আন্দোলনের পক্ষ থেকে বেশ কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো— (১) বিদেশি প্রজাতির গাছ আমদানির ক্ষেত্রে কোন কোন গাছ আমদানি করা যাবে উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের দ্বারা তালিকা প্রণয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী এল সি খোলার ক্ষেত্রে কয়েকজন পরিবেশবিদের সুপারিশ কর্ত জমা দিতে হবে। (২) দেশের সকল নার্সারিতে দেশীয় গাছপালা সংরক্ষণে বাধ্য করা এবং বাৎসরিক জেলা ও উপজেলার বন মেলায় নার্সারি মালিকদের ধারণা দিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা পাশাপাশি সহজ শর্তে ঋণ সুবিধার ব্যবস্থা করা। (৩) ইতোমধ্যে সারাদেশে ক্ষতিকর বিদেশি প্রজাতির গাছ কর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ এবং সরকারিভাবে বিনামূল্যে বন বিভাগ থেকে দেশীয় গাছ বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। (৪) দেশীয় ফলমূল ও বনজ বৃক্ষের মাদার ট্রি থেকে বীজ উৎপাদনে গবেষণা জোরদারের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়ভাবে সকল উদ্ভিদ ও প্রাণী বিজ্ঞানীদের সমন্বয়ে জাতীয় গবেষণা পরিষদ তৈরি করা। (৫) সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ও জেলা  পর্যায়ে পরিবেশবাদী সকল সংগঠনের সমন্বয়ে দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষ রোপনের উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি আগামী এক বছরে ২ কোটি দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষরোপণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সচেতনতায় বিশেষ ভূমিকা রাখায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুনতাসির আকাশ, নগর পরিকল্পনা ও সবুজায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ প্লানার্সের সাধারণ সম্পাদক নগর পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহাম্মদ মেহেদী আহসান, প্রাণ প্রকৃতির বৈচিত্র্যময় জীবন ও পরিবেশ সচেতনতায় বিশেষ ভূমিকা রাখায় চ্যানেল আইয়ের বিশেষ প্রতিনিধি ও প্রকৃতি নিউজ ডেস্ক ইনচার্জ আলীম আল রাজী, দেশীয় প্রজাতির গাছের বিলুপ্ত রোধে জনসচেতনতা তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রাখায় দ্যা ডেইলি স্টার এর স্টাফ করেসপন্ডেন্ট মোহাম্মদ মোস্তফা ইউসুফ এবং পানি দূষণ ও পরিবেশ সচেতনতায় বিশেষ ভূমিকা রাখায় দীপ্ত টেলিভিশনের ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সাদিয়া চৌধুরীকে গ্রীনম্যান অ্যাওয়ার্ড—২০২৩ প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ জসিম উদ্দিন, নগর পরিকল্পনাবিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আদিল মোহাম্মদ খান, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ প্লানার্সের সাধারণ সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ মেহেদী আহসান, মাতৃভূমি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সবুজ আন্দোলনের উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মাইনউদ্দিন মিয়া, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইবনুল সাঈদ খান, সবুজ আন্দোলন পরিচালনা পরিষদের মহাসচিব মহসিন সিকদার পাভেল, অর্থ পরিচালক নিলুফার ইয়াসমিন রুপা, পরিচালক অধ্যক্ষ নাদিয়া নূর তনু, শেখ এনামুল হক রনি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পরিচালক অভিনেতা উদয় খান এবং কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক সাহিন আরা সুলতানা।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর »
© 2026 - Economic News24. All Rights Reserved.
Economicnews24 .com