যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে পদ্মা সেতু। রোববার সকাল ৬টা থেকে টোল দিয়ে সেতু পার হচ্ছে বিভিন্ন যানবাহন। এ সময় বাস, ট্রাক, গাড়ি ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
এর আগে ভোর থেকেই ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে ভিড় জমতে শুরু করে। বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ছোট-বড় যানবাহন অপেক্ষা করতে থাকে সেতু পার হওয়ার জন্য।
সেতু বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তোফাজ্জল হোসেন বলেন, টোল প্লাজা খোলার পর প্রথম দিকে মোটরসাইকেলের চাপ ছিল বেশি। কিন্তু, পরে বাস-মিনিবাস-প্রাইভেটকার ও ট্রাকের দীর্ঘ সারি হয়ে যায়। তবে, পদ্মা সেতু পার হওয়া ও দেখার জন্য উৎসুক জনতার সংখ্যাই বেশি।
এদিকে, জ্যাম নিয়ে কিছুটা অভিযোগ ছিল যাত্রীদের। তারা বলছেন, টোলে কিছুটা সময় বেশি লাগছে হয়তো, তাই গাড়ি এগুচ্ছে না।
তবে কাউন্টারে দায়িত্বরতরা বলছেন, ‘আমরা সকাল ৬টা থেকে কাজ শুরু করেছি। সেতু উন্মুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত অনেক যানজট ছিল। কিন্তু, আমরা সামলে নিয়েছি। এখন সব আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সবাই অনেক খুশি। পুলিশ আমাদের সহযোগিতা করছে।’
এদিকে গত ২৩ জুন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের জারি করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পদ্মা সেতুর ওপর অনুমোদিত গতিসীমা ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার, পদ্মা সেতুর ওপর যেকোনও ধরনের যানবাহন দাঁড়ানো ও যানবাহন থেকে নেমে সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে ছবি তোলা/হাঁটা সম্পূর্ণ নিষেধ। তিন চাকাবিশিষ্ট যানবাহন (রিকশা, ভ্যান, সিএনজি অটোরিকশা ইত্যাদি), হেঁটে, সাইকেল বা নন-মটোরাইজড গাড়ি যোগে সেতু পারাপার হওয়া যাবে না। গাড়ির বডির চেয়ে বেশি চওড়া এবং ৫.৭ মিটার উচ্চতার চেয়ে বেশি উচ্চতার মালামালসহ যানবাহন সেতুর ওপর দিয়ে পারাপার করা যাবে না। সেতুর ওপরে কোনও ধরনের ময়লা ফেলা যাবে না বলেও জানানো হয়।
পদ্মা সেতু পারাপারে সরকার নির্ধারিত টোল হার অনুযায়ী- পদ্মা সেতু পারাপারে মোটরসাইকেলে ১০০ টাকা, গাড়ি ও জিপে ৭৫০ টাকা, পিকআপে এক হাজার ২০০ টাকা এবং মাইক্রোবাসে এক হাজার ৩০০ টাকা টোল পরিশোধ করতে হবে। বাসের ক্ষেত্রে ছোট বাস (৩১ আসন) এক হাজার ৪০০ টাকা, মাঝারি বাস (৩২ আসন বা এর বেশি) দুই হাজার টাকা, বড় বাস (থ্রি-এক্সেল) দুই হাজার ৪০০ টাকা, ট্রাককে (পাঁচ টন পর্যন্ত) এক হাজার ৬০০ টাকা, মাঝারি ট্রাকে (পাঁচ টনের বেশি ও সর্বাধিক আট টন পর্যন্ত) দুই হাজার ১০০ টাকা, মাঝারি ট্রাক (আট টনের বেশি এবং সর্বাধিক ১১ টন) দুই হাজার ৮০০ টাকা, ট্রাকে (থ্রি-এক্সেল পর্যন্ত) পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা এবং ট্রেইলারকে (ফোর-এক্সেল পর্যন্ত) ছয় হাজার টাকা টোল দিতে হবে।
এর আগে পদ্মা সেতুর দুয়ার খুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার (২৫ জুন) সেতুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
প্রসঙ্গত, সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় স্থাপনা পদ্মা সেতু। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার। দ্বিতল এই সেতুর এক অংশ পদ্মা নদীর মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্ত এবং অপর অংশ নদীর শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে যুক্ত। একইসঙ্গে ট্রেন ও গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা রয়েছে এ সেতুতে। চার লেনবিশিষ্ট ৭২ ফুট প্রস্থের এ সেতুর নিচতলায় রয়েছে রেল লাইন। এর মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্থাপিত হবে। পদ্মা সেতু নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply