১৪ জুন, ২০২২. জাতীয় প্রেস ক্লাব
বিগত ৯ জুন ২০২২ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী মহান জাতীয় সংসদে আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। বাজেটে তামাক পণ্যে কর প্রস্তাবনা বিশ্লেষণ করে তামাকবিরোধী সংগঠনসমূহের পক্ষ থেকে নিম্নলিখিত প্রতিক্রিয়া ও পেশকৃত কর প্রস্তাবনা পূণর্বিবেচনার জন্য আহবান করছি।
কর প্রস্তাবনা: সিগারেট
প্রস্তাবিত বাজেটে করহার অপরিবর্তিত রেখে নিম্ন, মধ্যম, উচ্চ এবং প্রিমিয়াম স্তর অর্থাৎ ৪ টি স্তরেই সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়েছে। নিম্নস্তরে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের দাম মাত্র ১ টাকা বাড়িয়ে ৪০ টাকা করা হয়েছে যা শতকরা হিসাবে বেড়েছে ২. ৫৬% মধ্যম স্তরে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের দাম ২ টাকা বাড়িয়ে ৬৫ টাকা করা হয়েছে যা শতকরা হিসাবে বেড়েছে ৩. ১৭%, উচ্চ স্তরে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের দাম ৯ টাকা বাড়িয়ে ১১১ টাকা করা হয়েছে যা শতকরা হিসাবে বেড়েছে ৮. ৮২% এবং প্রিমিয়াম স্তরে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের দাম ৭ টাকা বাড়িয়ে ১৪২ টাকা করা হয়েছে যা শতকরা হিসাবে বেড়েছে ৫. ১৮% হারে।
বর্তমানে সিগারেট বাজারের ৭৫ শতাংশই নিম্ন স্তরের দখলে যার প্রধান ভোক্তা মূলত দরিদ্র ও তরুণ জনগোষ্ঠী। প্রস্তাবিত বাজেটে এই বিপুল পরিমান জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকিকে উপেক্ষা করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে নিম্নস্তরে সিগারেটের দাম বেড়েছে মাত্র ২.৫৬% ( প্রতি শলাকা ১০ পয়সা মাত্র)। অন্যদিকে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ১০% এবং মূল্যস্ফীতি ৫.৬%। অতএব দেখা যাচ্ছে যে মাথাপিছু আয়বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় প্রকৃত অর্থে সিগারেটের দাম বিগত বছরের তুলনায় কমে গেছে। সঠিকভাবে কর ও মূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে ধূমপানে নিরুৎসাহিত করা ও জনস্বাস্থ্য রক্ষার একটি কার্যকর ও পরীক্ষিত কৌশল হওয়া সত্ত্বেও প্রস্তাবিত বাজেট সে লক্ষ্য অর্জনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে, যা অত্যন্ত হতাশাব্যঞ্জক। এই মূল্য পদক্ষেপ দরিদ্র ও তরুন জনগোষ্ঠীকে কোনভাবেই সিগারেটে নিরুৎসাহিত করবে না। সিগারেটের ব্যবহার আশংকাজনক হারে বেড়ে যাবে। এবং তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরো বহুগুনে বাড়বে। বরং সঙ্গ
বিবিএস এর Houseold Income & Expenditure Survey 2016 থেকে দেখা যায় যে, বাংলাদেশের দরিদ্রতম ২০
শতাংশ পরিবারগুলো তামাক পণ্যের পেছনে তাদের আয়ের ২১ শতাংশ ব্যয় করে থাকেন। যা দিয়ে তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও অন্যান্য ব্যয় ১১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। অন্যদিকে সম্পূরক শুল্ক ৫৭ শতাংশ অপরিবর্তিত রেখে কেবল খুচরা মূল্য বাড়ানোর কারণে বর্ধিত মূল্যের একটা অংশ কোম্পানির পকেটে চলে যাবে। ফলে বরাবরের মতোই বহুজাতিক তামাক কোম্পানিগুলোর কোন প্রকার অতিরিক্ত বিনিয়োগ ও উৎপাদন ব্যয় ছাড়াই এবারের বাজেটে ব্যাপকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে ।
তামাকবিরোধী সংগঠনসমূহের দাবি অনুযায়ী সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি এবং সম্পূরক শুল্কের একটি অংশ সুনির্দিষ্ট কর আকারে আরোন না করায় সরকার অতিরিক্ত রাজস্ব আয় থেকে আবারো বঞ্চিত হবে।
কর প্রস্তাবনা বিড়ি ঃ জ
জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বিড়ির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে কোনো কার্যকর উদ্যোগ প্রস্তাবিত বাজেটে নেই। সরকার এবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিড়ির তথ্য ও মূল্যে কোন পরিবর্তন আনে নি। ফলে বিড়ির প্রধান ভোক্তা নিম্ন পরিদ্র মানুষের মধ্যে বিড়ির ব্যবহার আরও বেড়ে যাবে। এতে করে দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যের উপর এর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। অন্যদিকে, টানা ৭ম বছরের মত ফিল্টারবিহীন বিড়ির সম্পূরক শুল্ক ৩০ শতাংশে বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা নিঃসন্দেহে জনস্বাস্থ্যবিরোধী।