রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
প্রাইম ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণা, ২৫% ক্যাশ ও ৫% স্টক সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষে নিউ লাইন ক্লোথিংস সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষে আরএফএল সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালক হলেন তাবিথ আউয়াল ও নাজনীন আহমেদ কালিয়ার যোগানিয়া আশ্রয়ন প্রকল্পের ৪০টি ঘর সংস্কারের দাবি স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক-এ মাসব্যাপী আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও গ্রাহক সম্পৃক্তি ক্যাম্পেইন-এর উদ্বোধন এই প্রথম রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে আধুনিক চোখের অস্ত্রোপচার কার্যক্রম উদ্বোধন করেন কৃষিবিদ কাজল তালুকদার নগরকান্দায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ: আহত – ১০ সুনামগঞ্জের মান্নারগাঁওয়ে দখলীয় ভূমি জবর দখলের পাঁয়তারা

স্বাধীনতা সুবর্ণ জয়ন্তী পুরস্কার চালু হচ্ছে পুঁজিবাজারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট : সোমবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২২
  • ৬৮ Time View

দেশের পুঁজিবাজারে কাজ করা মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে এ বছর থেকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ আ্যন্ড একচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পুঁজিবাজারের মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ‘স্বাধীনতা সুবর্ণ জয়ন্তী পুরস্কার’ নামে এবছর থেকে এ পুরস্কার চালু করছে বিএসইসি। মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর ২০২১ সালের যোগ্যতা ও মান যাচাই করে এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে।

বিএসইসি নির্ধারিত জুরিবোর্ডের মাধ্যমে এই মান যাচাই করা হয়েছে। মার্চে অনুষ্ঠিত জুরিবোর্ডের এক সভা থেকে পাঁচটি মার্চেন্ট ব্যাংককে যোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে যৌথভাবে প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দুটি করে মার্চেন্ট ব্যাংক। এই পুরস্কার শেয়ারবাজারে মার্চেন্টব্যাংকগুলোর ভূমিকাকে আরো শক্তিশালী করবে বলে মনে করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

আগামীকাল (মঙ্গলবার) বিএসইসির সাধারণ সভার পরে গেলো বছরের সেরা মার্চেন্ট ব্যাংকের নাম ঘোষণা করার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএসইসি কমিশনার অধ্যাপক শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ।

বিএসইসি থেকে পাওয়া তথ্যমতে এবছর যৌথভাবে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড ও ইউসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টকে সেরা মার্চেন্ট ব্যাংক হিসেবে পুরস্কার দেওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে। সন্ধানী লাইফ ফাইন্যান্স লিমিটেড এবং সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল রিসোর্স লিমিটেড যৌথভাবে দ্বিতীয় পুরস্কার পাবার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। তৃতীয় স্থানে থাকছে লংকা বাংলা ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

তালিকায় প্রথম হওয়া দুইটি মার্চেন্ট ব্যাংকের একটি ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। ২০২১ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার জন্য প্রাথমিক গণ প্রস্তাব বা আইপিওর জন্য পাঁচটি কোম্পানির প্রস্তাব উপস্থাপন করে বিএসইসির কাছে । কিন্ত একটি আইপওিরও অনুমোদন করাতে পারেনি।

এই মার্চেন্ট ব্যাংকটির গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীর সংখ্যা একশ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রাহকের হিসেবে দৈনিক গড় লেনদেন বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশ। ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ওই বছরে ব্যাংকের পোর্টফোলিওতে দৈনিক গড় লেনদেন বৃদ্ধির হার ১৭৩ দশমিক ২৬ শতাংশ।

পুঁজিবাজার উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য বরাদ্দকৃত পয়েন্ট পেয়েছে ব্যাংকটি। বিআইসিএম অথবা বিএসএসএমের থেকে কোর্স সম্পন্ন করার বরাদ্দকৃত ৫ নম্বর ব্যাংকটির নেই। তালিকায় প্রথম স্থানে থাকা আরেকটি মার্চেন্ট ব্যাংক হচ্ছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।গত বছরে পুঁজিবাজারে আনয়নের জন্য মার্চেন্ট ব্যাংকটি পাবলিক ইস্যুর অনুমোদন এনেছে দুটি।

ব্যাংকটির বিনিয়োগকারী অথবা গ্রাহক বৃদ্ধি পেয়েছে ১১৪ দশমিক ৬১ শতাংশ সে সময়ে।ওই বছরে গ্রাহকের হিসেবে গড় লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে ১৫৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ব্যাংকটির নিজস্ব পোর্টফোলিওতে গড় লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে ৯ দশমিক ০৬ শতাংশ। পুঁজিবাজার উন্নয়নে ব্যাংকটির ভূমিকা রয়েছে। বিআইসিএম থেকে কোর্স সম্পন্ন করেছে। যার কারণে বরাদ্দকৃত ৫ নম্বর পেয়েছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।

তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দুটি মার্চেন্ট ব্যাংক। একটি সন্ধানী লাইফ ফাইন্যান্স লিমিটেড। পাবলিক ইস্যুর জন্য আনুমোদন পেয়েছে ব্যাংকটির আনা ১টি কোম্পানি। ব্যাংকটির গ্রাহক বৃদ্ধি পেয়েছে ১২১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। গ্রাহকের হিসেবে গড় লেনদেন বিবেচ্য বছরে ১ হাজার ৪৯২ দশমিক ৭৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যাংকটির নিজস্ব পোর্টফোলিওতে লেনদেন বেড়েছে ৫২৬ দশমিক ২৪ শতাংশ। পুঁজিবাজার উন্নয়নের অবদানের বরাদ্দকৃত পয়েন্ট পেয়েছে ব্যাংকটি।বিআইসিএম অথবা বিএএসএমের কোর্স থেকে কোনো কোর্সে অংশগ্রহণ করেনি ব্যাংকটি। যার কারণে এই খাতের ৫ নম্বর নেই ব্যাংকটির।

সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল রিসোর্স লিমিটেডেরও অবস্থান তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে। গত বছর কোম্পানিটি একটিও ইস্যু আনেনি। ব্যাংকটি ওই বছর বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ৪১ দশমিক ১৯ শতাংশ। গ্রাহকের হিসেবে গড় লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে ৫০৫ দশমিক ৬০ শতাংশ। সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল রিসোর্স লিমিটেডের নিজস্ব পোর্টফোলিওতে গড় লেনদেন বৃদ্ধির হার ৫৩৪ দশমিক ১০ শতাংশ । মার্চেন্ট ব্যাংকটি পুঁজিবাজার উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য পয়েন্ট পেয়েছে।পাশাপাশি বিআইসিএমের কোর্স সম্পন্ন করার জন্য নির্ধারিত পয়েন্ট পেয়েছে ব্যাংকটি।

পুরস্কার পাওয়া ব্যাংকগুলোর তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছে লংকা বাংলা ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। ২০২১ সালে পাবলিক ইস্যুর অনুমোদন এনেছে ২টি।ওই বছরে ব্যাংকের গ্রাহক কমেছে ৮ দশমিক ৮০ শতাংশ। ব্যাংকের গ্রাহকের হিসেবে গড় লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে ১৮৫ দশমিক ৫২ শতাংশ।

সে বছরে ১৩৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ নিজস্ব পোর্টফোলিওতে দৈনিক গড় লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে। বিআইসিএমের কোর্স সম্পন্ন করার জন্য নির্ধারিত পয়েন্ট পেয়েছে ব্যাংকটি। পাশাপাশি পুঁজিবাজারের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার পয়েন্ট পেয়েছে ব্যাংকটি।

এই পুরস্কার দেয়ার লক্ষ্যে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিয়ে বাছাই কমিটি এবং মূল্যায়ন কমিটি নামক দুইটি কমিটি করা হয়েছিলো বলে জানা গেছে। কমিটিগুলোর অধীনে তিনটি সাব কমিটি কাজ করেছিলো বলে জানা গেছে। বিএসইসি কমিশনার আব্দুল হালিমকে আহবায়ক ও যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম কে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্যের একটি বাছাই কমিটি করা হয়।

বাছাই কমিটি পুরস্কারের জন্য যোগ্য তালিকার নাম পাঠায় মূল্যয়ন কমিটির কাছে।বাছাই কমিটি ২৩টি মার্চেন্ট ব্যাংককে যোগ্য হিসেবে নির্ধারণ করে। মূল্যায়ন কমিটি ২৩ টি ব্যাংক যাচাই বাছাই করে ৫টি ব্যাংককে পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে সূত্রমতে।

পাঁচ সদস্যের এই মূল্যয়ন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করেছেন বিএসইসি কমিশনার অধ্যাপক শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ। এছাড়া কমিটিতে আরো ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণর ডক্টর আতিয়ার রহমান, ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি শারমীন রিনভী, আইসিএসবি প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুস্তাফিজ আহমেদ এবং সিডিবিএলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ শুভ্র কান্তি চৌধুরী।

প্রসঙ্গত, বিভিন্ন প্রেক্ষিতে যাচাই বাছাই করে এই পাঁচটি মার্চেন্ট ব্যাংককে পুরস্কারের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।বছরে ইস্যুর জন্য কমিশনে দাখিলকৃত প্রস্তাবের সংখ্যাকে পরিমাপক ধরা হয়েছে। প্রতিটি বৈধ প্রস্তাবের জন্য ২ নম্বর। পাবলিক ইস্যুর অনুমোদনের জন্য ২০ নম্বর ধরা হয়েছে।

অনুমোদন পাওয়া প্রতি ইস্যুর জন্য ৪ মার্কস বিবেচনা করা হয়। বিবেচ্য বছরে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য ১০ নম্বরে মার্কিং করা হয়েছে। আলোচ্য বছরে গ্রাহকের হিসেবে দৈনিক গড় লেনদেনের জন্য ১০ নম্বর। নিজস্ব পোর্টফোলিওতে গড় লেনদেন বৃদ্ধির হারের জন্য ১০ নম্বর।

পুঁজিবাজার উন্নয়নে ভূমিকা অবদানের জন্য ৪০ নম্বর ধরা হয়েছে। কোম্পানির জনবলের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের আয়োজনের মার্কস ১৫ ধরা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রশিক্ষণের জন্য পয়েন্ট ধরা হয়েছে ১৫। দেশব্যাপী বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য গৃহীত কর্মসূচির মার্কস ধরা হয়েছে ১০। বিআইসিএম থেকে কোর্স সম্পন্ন করার জন্য ৫ নম্বর মার্কিং করা হয়েছে জানা গেছে।

পুরস্কার দেওয়ার জন্য গঠিত মূল্যয়ন কমিটির চেয়ারম্যান এবং বিএসইসি কমিশনার অধ্যাপক শেখ শামুসুদ্দীন আহমেদ বলেন, “এ বছর থেকে শুরু করা হচ্ছে এই পুরস্কার। এই বছর থেকে প্রতি বছর দেয়া হবে এই পুরস্কার।” তিনি আরো বলেন, “সর্বোচ্চ যাচাই বাছাই করে এই তালিকা করা হয়েছে।” একেক ক্ষেত্রে একেক মার্কস দিয়ে এগিয়েছে একেকটি মাচেন্ট ব্যাংক। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড কমিশন মনে করে এই পুরস্কার মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর কার্যদক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর »

Advertisement

Ads

Address

© 2026 - Economic News24. All Rights Reserved.

Design & Developed By: ECONOMIC NEWS