মামুন মোল্যা, নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলের কালিয়ায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের অফিস সহকারী (প্রসেস সার্ভার) মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে জমি সংক্রান্ত কাজ করে দেওয়ার কথা বলে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়া এবং পরে আরও ২ লাখ টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কালিয়া উপজেলার শীতলবাটি গ্রামের মো. জিল্লাল মোল্যা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) বরাবর পাঠিয়েছেন। অভিযুক্ত মাসুম বিল্লাহ নড়াগাতী থানার জয়নগর ইউনিয়নের পানিপাড়া গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলা ভূমি অফিসের অফিস সহকারী (প্রসেস সার্ভার) মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ দাতার জমি সংক্রান্ত বিষয়ে সুবিধা দেওয়ার কথা বলে প্রথমে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেন। পরে কাজ না করে আরও ২ লাখ টাকা দাবি করেন। এছাড়া পেড়লী বাজারের একটি দোকান থেকে কাজ করে দেওয়ার সূত্র ধরে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ২০ প্যাকেট বেনসন সিগারেট নিয়েছেন। যার মূল্য প্রায় ৮ হাজার টাকা। অভিযোগকারী বিষয়টির তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি যাতে ঘুষ দেওয়া টাকাটা ফেরত পান সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
এ দিকে চলতি বছরের ২৭ মে “দ্যা কালিয়া” নামের একটি ফেসবুক আইডিতে মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে পোষ্ট করা হয়- যা নিম্নে তুলে ধরা হলো-
কালিয়া উপজেলা ভুমি অফিসের অফিসের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী মাসুম বিল্লাহর অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে। জয়নগর ইউনিয়নের পানিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মাসুম প্রায় ১০ বছরের চাকরিজীবনে উপজেলার সামনে সামনে আলিশান ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণসহ নিজের ও বেনামে একাধিক সম্পত্তি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তার বিলাসবহুল জীবনযাপন ও আর্থিক সক্ষমতা নিয়েও আলোচনা চলছে। প্রশাসনকে বিষয়টি তদন্ত করে তার আয়, সম্পদ ও সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান আইডিধারী।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাসুম বিল্লাহর সাথে কথা হলে জানান, অভিযোগকারীকে তিনি চেনেন না এবং ফেসবুকে ফেইক আইডির পোষ্টের কোন সত্যতা নেই বলে তিনি জানান। তবে এ বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের নিউজ না করার অনুরোধ করেন।
এ বিষয়ে কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো জিন্নাতুল ইসলাম বলেন তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।