1. econimicnews24@gmail.com : Nayan Sharkar : Nayan Sharkar
  2. economicnews24bd@gmail.com : Nurnnobi Sarker : Nurnnobi Sarker
  3. editor.econimicnews24@gmail.com : Fahim Fahim : Fahim Fahim
  4. jmitsolution24@gmail.com : support :
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন
Title :
বিআরবি হসপিটালস লিমিটেড-এ মেডিকেল জার্নাল HEALTH+ এর মোড়ক উন্মোচন হুয়াওয়ে কানেক্ট ২০২৬: বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন, সংযুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ গঠনে হুয়াওয়ের প্রতিশ্রুতি এবি ব্যাংকের স্থানান্তরিত জিঞ্জিরা শাখার উদ্বোধন কক্সবাজারের পেকুয়ায় ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি.-এর নতুন শাখার উদ্বোধন ইসলামী ব্যাংকের শরী’আহ সুপারভাইজরি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত ভৈরবে পুকুরে গোসলে নেমে বৃদ্ধের মৃত্যু উপায় এবং স্প্লিটপে-এর কৌশলগত অংশীদারিত্ব: বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিস্টার ফি পরিশোধ হবে আরও সহজ ব্যাংকিং বিভাগের দায়-সম্পদ ৪.২৬ লাখ কোটি, আমানত ১.১৮ লাখ কোটি ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ, জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তারেক রহমান ৬৪ জেলার সার চাহিদার শতভাগ বরাদ্দ, আগাম আমদানি-মজুতের পরিকল্পনা

ডিজিটাল স্ক্রিন ছেড়ে ফসলের মাঠে শিক্ষার্থীরা; টাঙ্গাইলের মহিষমারা কলেজে খুন্তি-কোদালে তরুণদের নতুন বিপ্লব!

  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০.০৩ পিএম
  • ১৭০ Time View

স্টাফ রিপোর্টার, টাঙ্গাইল: বর্তমান প্রজন্মে বিভিন্ন বয়সী ছেলে-মেয়ে ও শিক্ষার্থীদের মাঝে অতিরিক্ত ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার এবং স্ক্রিন টাইমের ফলে মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে অনলাইন ক্লাসের পর থেকেই নতুন প্রজন্মের একটি বড় অংশ চরম মোবাইল আসক্তিতে পড়েছে।

সারা দেশের শিক্ষার্থীরা যখন এমন ডিজিটাল ডিভাইসের স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে, ঠিক তখনই এর সম্পূর্ণ বিপরীত ও ব্যতিক্রমী এক চিত্র দেখা গেছে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মহিষমারা কলেজে। সেখানকার শিক্ষার্থীরা মোবাইল ছেড়ে হাতে তুলে নিয়েছে খুন্তি, কোদাল, কাস্তেসহ বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রপাতি। তারা ফসলি মাঠে নেমে হাতে-কলমে শিখছে বীজ থেকে চারা উৎপাদনের নানা কৌশল। খোঁ নিয়ে জানা যায়- ব্যতিক্রমী এই জীবনমুখী শিক্ষা কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে মধুপুর উপজেলার প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার মহিষমারা গ্রামে। ২০১৩ সালে গ্রামেরই এক আদর্শ কৃষক ছানোয়ার হোসেন বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ১৩৫ শতাংশ জমির ওপর এই ‘মহিষমারা কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করেন। টাঙ্গাইল শহর থেকে ৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং মধুপুর উপজেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এই মহিষমারা গ্রাম। অঞ্চলটি মূলত কৃষিনির্ভর এবং মধুপুরের বিখ্যাত আনারস চাষের অন্যতম প্রধান এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার বেশির ভাগ মানুষই দরিদ্র কৃষক। অর্থাভাব ও দূরত্বের কারণে স্কুল শেষ করার পর অনেক অভিভাবকই তাদের সন্তানদের কলেজে পড়ালেখার খরচ চালাতে পারতেন না। এলাকার দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষার আলো ছড়াতে এবং উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মোচন করতেই কৃষক ছানোয়ার হোসেন এই কলেজটি গড়ে তোলেন। বর্তমানে এই কলেজে ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। ডিজিটাল আসক্তি কাটিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঠপর্যায়ে উৎপাদনমুখী ও বাস্তবমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত করার এই উদ্যোগটি এখন সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই কার্যক্রম একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করছে, অন্যদিকে তেমনি দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তুলছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, টাঙ্গাইলের মধুপর উপজেলা সদর থেকেই পাকা সড়ক। অজপাড়াগাঁ পেড়িয়ে সোজা গারো বাজার। যাওয়ার পথে বিল সবুজ ধান ক্ষেতের অবারিত দিগন্ত। যেন চোখ জুড়ানো। গারো বাজারের পাশের বৃহত্তর গ্রামটির নাম মহিষমারা। মহিষমারা গ্রামের শুরুতেই কলেজটির অবস্থান। কলেজে প্রবেশ করে দেখা যায়, দুটি শ্রেণিতে ক্লাস চলছে। আর উৎপাদনমুখী শিক্ষা কর্ণারে অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী কাজ করছেন।

কলেজটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছানোয়ার হোসেন তাদের সবজি বীজ বোনার আগে মাটি তৈরি ব্যবস্থাপনা শেখাচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা তার নির্দেশনাতে মাটি তৈরির কাজ করছেন।

জাতীয় কৃষি পুরস্কার প্রাপ্ত আদর্শ কৃষক ছানোয়ার হোসেন জানান, ১৯৯২ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভের পর তিনি সিলেটের একটি স্কুলে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন। সেখানে প্রায় সাড়ে ৩ বছর চাকরি করে ফিরে আসেন গ্রামে। গ্রামের স্কুলে দুই বছর প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু কৃষির আকর্ষণে তিনি সেই চাকরিও ছেড়ে দেন। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আনারস, কলা, হলুদ, ভুট্টা, মাল্টা, ড্রাগন, পেয়ারা, কফিসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করে সফল হয়েছেন।

তিনি জানান, তার গ্রাম মহিষমারা এলাকার ২০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো কলেজ নেই। দরিদ্র কৃষক পরিবার তাদের সন্তানদের দূরে ছাত্রাবাসে রেখে পড়াতে পারে না। তাই সিদ্ধান্ত নেন, নিজ এলাকায় একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করবেন।

আদর্শ কৃষক ছানোয়ার হোসেন জানান, তার বাবার ৯৫ শতাংশ জমি আর তার নিজের ৪০ শতাংশ মিলে ১৩৫ শতাংশের উপর ২০১৩ সালে মহিষমারা কলেজটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিগত ২০২২ সালে কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে এই কলেজে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য ১৮ জন শিক্ষক রয়েছেন। সরকারের শিক্ষা বিভাগ থেকে একটি পাকা ভবনও এই কলেজে নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।

কলেজের শিক্ষক ও এলাকাবাসী জানায়, ২০১৮ সালে কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য উৎপাদনমুখী শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়। এ জন্য কলেজের পূর্ব দিকে ৪০ শতাংশ জায়গায় একটি কর্ণার গড়ে তোলা হয়। শিক্ষার্থীদের ছানোয়ার হোসেন পড়াশোনার ফাঁকে হাতে-কলমে বিষমুক্ত নিরাপদ ফসল উৎপাদন শেখান। সেখানে বিভিন্ন মৌসুমের সবজি, ফল, মসলার চারা তৈরিও শেখানো হয়। এখানে চাষবাস শিখে শিক্ষার্থীরা তাদের বাড়িতেও সবজি বাগান করতে পারেন।

কলেজের শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা কলেজের এই শিক্ষা কাজে লাগিয়ে কীটনাশকমুক্ত সবজি আবাদ শিখেছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তারা বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ করছেন। এ কারণে তাদের পিতা-মাতা অনেক খুশি হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন বড় হয়ে কৃষি অফিসার হবে।

কলেজের প্রভাষক শহিদুল ইসলাম জানান, কলেজের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে কৃষিতে উৎপাদনমুখী শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে। কলেজে ক্লাসের বিরতিতে এবং ছুটির পর বিভিন্ন গ্রুপ করে শিক্ষার্থীদের কৃষিকাজে সম্পৃক্ত করা হয়। শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে এ কাজে অংশ নেয়।

মহিষমারা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক হানান, কলেজের শিক্ষকরা অনেক পরিশ্রমী। পড়াশোনার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনমুখী শিক্ষা শিক্ষার্থীদের একদিকে মোবাইল ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর দিক থেকে যেমন রেহাই পাচ্ছে। অন্যদিকে বাড়িতেও মা-বাবাকে কৃষি কাজে সহযোগিতা করার মনোভাব সৃষ্টি তৈরি হচ্ছে।

কলেজের সভাপতি ও মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষকদের আন্তরিকতার ফলেই প্রান্তিক পর্যায়ের একটি কলেজ এত অল্প সময়ে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষাজীবন শেষ করলেই যে চাকরি পাবে এমন কোন নিশ্চয়তা নেই। তাই এসব শিক্ষার্থীরা যদি পড়াশোনার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনমুখী শিক্ষার প্রশিক্ষণ নিতে পারে তাহলে কৃষিনির্ভর এ দেশে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর »
© 2026 - Economic News24. All Rights Reserved.
Economicnews24 .com