সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সারি-৩ বালুমহালে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন সংক্রান্ত অভিযোগের কোন সত্যতা পাওয়া যায় নি। পুলিশ, বিজিবির উপস্থিতিতে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন জৈন্তাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি। সারী ৩ এলাকা থেকে বালু উত্তোলনে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বড়গাং থেকে সারী নদী পর্যন্ত পানিপথ হিসেবে নৌকা চলাচলে নেই কোন বাধা।
জৈন্তাপুর উপজেলার সারি-৩ বালুমহাল থেকে বড়গাং বালুমহালের ইজারাদার কর্তৃক অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে উঠে। এরই প্রেক্ষিতে ১লা আগস্ট উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনকালে দেখা যায়, সারি-৩ বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনের কোনো উপযুক্ত প্রমাণ নেই। শুধু মাত্র বড়গাং নদী থেকে আহরিত কিছু বালুবাহী নৌকা পানিপথ ব্যবহার করে সারীঘাট যাতায়াত করছে। পরিদর্শন দলে ছিলেন জৈন্তাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি), সহকারী পরিচালক (এডি), ১৯ বিজিবি ও জৈন্তাপুর মডেল থানার পুলিশ। এছাড়াও বালু মহালের ইজারাদার ও গণমাধ্যমকর্মী সহ এলাকার লোকজন উপস্থিত ছিলেন। এসময় তারা সারি-৩ বালুমহাল ও বড়গাং বালুমহালের বিভিন্ন স্হান ঘুরে দেখেন। এতে সরেজমিন দেখা যায়, সারি-৩ নদীর বালুমহাল থেকে কোনো বালু উত্তোলন করা হচ্ছে না। অন্যদিকে বড়গাং বালুমহালের ইজারাদার তাদের নির্ধারিত ইজারাকৃত এলাকা থেকে বালু উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এ সময় অভিযোগকারীদের মধ্যে কয়েকজনকে সারি-৩ বালুমহালের কোন স্থান থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, জানতে চাইলে তারা জানান, সারি-৩ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে না। তবে বড়গাং বালুমহালের বালুবাহী নৌকা গুলো এই নদীপথ ব্যবহার করে সারিঘাটে যাতায়াত করে। বড়গাং বালুমহালের ইজারাদাররা জানান, তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সিলেট থেকে বৈধ ভাবে বালুমহাল ইজারা নিয়েছেন এবং নির্ধারিত এলাকা থেকে বালু উত্তোলন ও পরিবহন করছেন। তাদের দাবি, বড়গাং বালুমহালের বালু সারিঘাটে পৌঁছানোর জন্য সারি-৩ নদীপথই একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম। তারা আরও বলেন, সারি-৩ বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনের উপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এই নদীপথে নৌযান চলাচলের জন্য কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়ায় তারা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ এবং নৌযান চলাচল বিষয়ে লিখিত নির্দেশনা চেয়েছেন। পূর্বেও একই বিষয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে নদীপথে নৌকা চলাচলে কোনো আপত্তি নেই বলে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। ইজারাদারদের অভিযোগ, কিছু দুষ্ট শ্রেণীর ব্যক্তি বিভিন œভাবে তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ দাবি করছেন এবং প্রশাসনকে ভূল তথ্য বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। বৈধ ভাবে ইজারা নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করলেও অযৌক্তিক ভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
জৈন্তাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মনিরুল ইসলাম জানান, প্রকাশ্যে বা গোপনে বালু উত্তোলন হয়েছে এরূপ কোন প্রমান পাওয়া যায় নি। তবে সারি-৩ নদীর বালুমহাল থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেলে উপজেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিক ভাবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, এর আগেও অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পানিপথে নৌযান চলাচলে বাধা প্রদান করার মত কোন সরকারী নির্দেশনা নেই। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ এবং অবৈধ কার্যক্রমের বিষয়ে সঠিক তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।