সিলেট প্রতিনিধি : সিলেটের গোয়াইনঘাট থানায় নিরীহ এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত ছাড়া মামলা রেকর্ডের অভিযোগ উঠছে। অভিযোক্ত ব্যক্তির নাম মো. কামাল হোসেন (৪৬), পিতা- মৃত মো. লাল মিয়া, সাং- নলজুরি, নেত্রকোনা এর বিরুদ্ধে ২৭ মে ২০২৬ইং এনজিও সংস্থা এআরডি (এসোসিয়েশন ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট), জাফলং শাখা ব্যবস্থাপক আইন উদ্দিন বাদী হয়ে কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে ওই এনজিও থেকে মোটা অংকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন মামলা নং-৩১/২৬।
এজহার সূত্রে জানা যায়, এআরডি ক্ষুদ্র ঋণ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানে আসামী মোঃ কামাল হোসেন অত্র এআরডি (এসোসিয়েশন ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট)-এর জাফলং শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ১৬ মে ২০২৬ইং পর্যন্ত ১৭৮ জন গ্রাহক কে ঋণ প্রদান ও সঞ্চয় আদায় না করে, এবং প্রতিষ্ঠানের তহবিলে জমা না দিয়ে আসামী মো. কামাল হোসেন ও তার সহযোগী ২ নং আসামী খন্দকার মাহমুদুল আলম সহ তাহাদের অপরাপর সহযোগিদের সহায়তায় ৬৪,৬১,৩৬৫/- ( চৌষট্টি লক্ষ একষট্টি হাজার তিন শত পয়ষট্টি) টাকা আত্মসাৎ করেন বলে উল্লেখ্য করা হয়। তদন্ত আন্তে প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী আত্মসাৎকৃত টাকার মধ্যে ঋণ আদায় ও সঞ্চয় বাবত সদস্যদের মধ্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত মোট ৫১,০৯,৯৮০/- (একান্নলক্ষ নয় হাজার নয়শত আশি) টাকা নিয়ে পালিয়ে যান বলে উল্লেখ্য করা হয়। ঘটনার বিবরণ নিয়ে গোয়াইনঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করলেই তদন্তপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এস আই ফায়াজ কোন তদন্ত না করে মামলাটি রেকর্ড করে নেন রাতেই। জানা যায়, এআরডি (এসোসিয়েশন ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট) নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ কাজি আলমের নিকট আত্মীয় হওয়াতে ক্ষমতার ধাপট খাটিয়ে মোটা অংকের টাকা বিনিময়ে মামলাটি রেকর্ড করিয়ে নেন। পুলিশকে দিয়ে বারবার হয়রাণী করছেন মো. কামাল হোসেনকে।
এদিকে মো. কামাল হোসেন জানান, তিনি জীবন জীবিকার তাগিতে এআরডিতে চাকুরি নিতে চাইলে তাদের নিয়ম অনুসারে নিজ নামীয় ব্যাংকের ৪টি স্বাক্ষরজনিত ব্ল্যাংক চেক জামা রাখেন এআরডি নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ কাজি আলমের কাছে। কয়েক মাস চাকুরির পর মাঠথেকে গ্রাহকদের নিকট ঋনের এর পরিবর্তে পূণ্য বিক্রির চাপ দৃষ্টি করা হলে বাধা হয়ে দাঁড়ান কামাল হোসেন, এছাড়া নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ কাজি আলম অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেন ঋনের টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে যেন বাড়তি কিস্তি আদায় করেন এবং এটি যেন ঋণগ্রহিতাকে ছয়- নয় করে হিসাব দেওয়া হয়। এসব এর প্রতিবাদ করেন মো. কামাল হোসেন এবং চাকুরি ছেড়ে চলে যান অফিসের হিসাব নিকাশ জামা দিয়ে দেশের বাড়ি নেত্রকোনায়। কামাল হোসেন চাকুরি ছাড়াতেই নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ কাজি আলম আরও ক্ষিপ্ত হয়ে একের পর এক মামলা দিতে থাকেন রক্ষিত চেক ও ভূয়া ১শত টাকার ৩টি স্টাম্পের উপর নিজের মত লিখে। পরবর্তীতে কামাল হোসেন হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে আবারও জাফলংয়ে এসে ব্যবসা বাণিজ্য খুজছেন, কিন্তু পুলিশের ভয়ে তিনি কিছুই করতে পারছেন।
সুত্রে জানা যায়, এনজিও সংস্থা এআরডি (এসোসিয়েশন ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট) সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে সামাজিক সংঠন হিসেবে রেজিষ্ট্রেশন করা হয়। কিন্তু এআরডি নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ কাজি আলম অবৈধ ভাবে মাইক্রোক্রেডিট হিসেবে পরিচালনা করে যাচ্ছেন। তিনির রয়েছে জাফলং সহ আরও ৪টি শাখা, প্রতিটি শাখা থেকে মাসিক আয় হয়ে থাকে কোটি কোটি টাকা। সরেজমিনের যার কোন বৈধতা খুজে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে এআরডি নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ কাজি আলমের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান (এমআর) থেকে অনুমোদন নিয়ে মাইক্রোক্রেডিট ব্যবসা পরিচালনা করছেন। অথচ তথ্য অনুসন্ধানে (এমআর) এর অনুমোদনে তার কোন অস্থিত খুজে পাওয়া যায়নি।