বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
২০০৯-২০২৩ সময়ে বিপুল অর্থ পাচার, দাবি তারেক রহমানের পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের কাছে বড় অঙ্কের পাওনা দাবি ইসলামী ব্যাংকের ডিএসইতে দরপতনে শীর্ষে ফারইস্ট ফাইনান্স ডিএসইতে দর বৃদ্ধিতে শীর্ষে সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে লেনদেনে শীর্ষে ওরিয়ন ইনফিউশন গার্ডিয়ান লাইফ এর সহায়তায় ঋণমুক্ত হলো দুই পরিবারের সদস্যরা পহেলা বৈশাখ উদযাপনে ‘স্মুথনেস উইদাউট লিমিট’ প্রতিশ্রুতি নিয়ে উন্মোচিত হলো অপো এ৬কে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত নিটল ইন্স্যুরেন্সের ১০% নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা হরিপুরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমেলায় পুরুস্কার বিতরণ হয়েছে

খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২২
  • ১০৩ Time View

বাড়ছেই মূল্যস্ফীতি। মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ২২ শতাংশ। আগের মাস ফেব্রুয়ারিতে এই হার ছিল ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ। এসময় খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসওয়ারি) গত মার্চ মাসে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ২২ শতাংশ।

এর অর্থ হলো, ২০২১ সালের মার্চ যে পণ্য বা সেবার জন্য ১০০ টাকা খরচ করতে হতো, ২০২২ সালের মার্চে সেই পণ্য বা সেবার জন্য ১০৬ টাকা ২২ পয়সা খরচ করতে হয়েছে।

মার্চে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে বেশি ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ সার্বিক মূল্যস্ফীতির মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয় ৬ দশমিক ২২ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৬ দশমিক ১০ শতাংশ।

বিবিএসের তথ্যে দেখা যায়, মার্চ মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে গ্রামে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ১৫ শতাংশ।

আগের মাস ফেব্রুয়ারিতে গ্রামে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৬ দশমি ৬২ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ।

মার্চ মাসে শহর এলাকায় খাদ্যে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৯০ শতাংশ। আগের মাস ফেব্রুয়ারিতে শহর এলাকায় খাদ্যে মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৫ দশমিক ৩০ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৫ দশমিক ৯১ শতাংশ।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে টানা ছয় মাস বাড়ার পর জানুয়ারিতে কমেছিল এই সূচক। ফেব্রুয়ারিতে তা আবার বেড়েছে। যা মার্চেও অব্যাহত ছিল।

বিবিএসের তথ্য বলছে, মার্চে শহরের চেয়ে গ্রামে বেশি মূল্যস্ফীতি হয়েছে; গ্রামে মূল্যম্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ৫২ শতাংশ। আর শহরে হয়েছে ৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ। অর্থাৎ শহরের চেয়ে গ্রাম এলাকায় পণ্যমূল্য বেড়েছে বেশি।

তবে সরকার বা বিবিএসের দেয়া হিসাবের চেয়ে মূল্যস্ফীতির হার বাস্তবে অনেক বেশি বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সানেমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে মূল্যস্ফীতির প্রকৃত হার বিবিএসের হিসাবের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি। এতে বলা হয়েছে, শহর এলাকায় সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার এখন ১২ দশমিক ৪৭ শতাংশ। আর গ্রামে এই হার ১২ দশমিক ১০ শতাংশ।

সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, পণ্যমূল্য নিয়ে সরকারি সংস্থা বিবিএস যে তথ্য দিচ্ছে, তা বাস্তবের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। এ ক্ষেত্রে যদি সঠিক তথ্য তুলে আনা না হয়, তবে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া টেকসই হবে না। তিনি আরো বলেন, বিবিএস পুরোনো ভিত্তি বছর ধরে মূল্যস্ফীতির হিসাব করছে, যা বর্তমান সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য না। আরেক গবেষণা সংস্থা সিপিডিও এমন মূল্যস্ফীতি নিয়ে একই মতামত দিয়েছে।

চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, শাকসবজি থেকে শুরু করে মাছ-মুরগিসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় খাবারের দাম বৃদ্ধির কারণে মার্চে মূল্যস্ফীতি ১৭ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করার পর থেকেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, খাদ্যপণ্যসহ সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ছে। তার প্রভাব পড়েছে ছোট-বড় সব দেশে। বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ, এডিবিসহ বিভিন্ন আর্থিক সংস্থা পূর্বাভাস দিচ্ছে, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে গড় মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৩ শতাংশে আটকে রাখার লক্ষ্য ধরেছে সরকার। বর্তমান পরিস্থিতি বজায় থাকলে বাজেটের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি হবে মূল্যস্ফীতি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর »

Advertisement

Ads

Address

© 2026 - Economic News24. All Rights Reserved.

Design & Developed By: ECONOMIC NEWS