
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: দেশের বৃহত্তম পাইকারি ধানের বাজার হচ্ছে কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার মোকাম। প্রতি বছরের মত এবারও মৌসুমের নবান্নের ধানে জমজমাট হয়ে উঠেছে এই মোকাম। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বিক্রেতা, বেপারি ও ক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখরিত হয়ে উঠেছে বৃহৎ ধানের মোকাম।
ইতোমধ্যে বোরো ধান কাটা শুরু হলেও এখনও ৭০ শতাংশ জমির ধান কাটা শেষ হয়নি। বৈশাখের শুরুতেই ভৈরব বাজার আড়ত গুলোতে নতুন ধান আমদানি হচ্ছে।
বিশেষ করে সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, সিলেট,হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাওর অঞ্চল থেকে প্রতিদিন কৃষকরা হাজার হাজার মণ ধান নিয়ে আসে ভৈরব বাজার মোকামে। প্রতিদিন কেনাবেচা হচ্ছে কয়েক কোটি টাকার ধান যা আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আর ধানের সরবরাহ বাড়ায় ধানের বস্তা উঠা-নামানোর কাজে জড়িত শ্রমিকদের বেড়েছে দৈনন্দিন আয়।
বুধবার সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শতাব্দীর প্রাচীন এই মোকামে বিআর-২৮, ২৯, ৩৯ ও ৪৯ জাতের ধান কেনাবেচা হয়। এর মধ্যে বিআর ২৮ ও ২৯ জাতের ধানের চাহিদা থাকে সবচেয়ে বেশি। মোকামে ধান নিয়ে আসা বেপারী আব্দুল সাক্তার জানান, বর্তমানে মোকামে বিআর-২৮ জাতের ধান ১১৫০ টাকা, বিআর-২৯ জাতের ধান ১০৫০ টাকা এবং মোটা জাতের ধান ৯২০-৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও এসব জাতের ধান ভিজা হওয়ায় অন্তত ১০০ থেকে ১৫০ টাকা কমে বিক্রি হয়েছিল। বর্তমানে দাম কিছুটা বাড়ায় তাদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।
সময়ের ব্যবধানে নতুন ধানের সরবরাহ বাড়ায় সেই সংকট কেটে আবারও জমজমাট হয়ে উঠেছে ধানের বেচাকেনা। মোকামে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ধানের দাম প্রতি বস্তায় বেড়েছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা।
মিল মালিকরা জানান, ভিজা ধান থেকে চালের উৎপাদন কম হয় বলেই এর দামও কম থাকে। তবে, শুকনো ধানের ভাল দাম পাচ্ছে বেপারীরা। মোকামে ধানের আমদানি বেড়ে যাওয়ায় পুরো মোকামজুড়ে প্রতিদিনই বিশাল কর্মযজ্ঞের দেখা মিলে। ক্রেতা-বিক্রেতা, শ্রমিকসহ সকলকেই দিনব্যাপী ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে। বর্তমানে মোকামে আসা ধানের আদ্রতা খুবই ভাল। সময়ের সাথে সাথে ভাল ধানের আমদানির উপর নির্ভর করে ধানের দাম আরও বাড়বে।
সম্পাদক: মোঃ শাহাব উদ্দিন, প্রকাশক: মোঃ শাহজাদা হোসাইন, নির্বাহী সম্পাদক : এম শহিদুল ইসলাম নয়ন
অফিস: ১৪/১৬ কাজলারপাড়, ভাঙ্গাপ্রেস, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২৩৬
@ Economicnews24 2025 | All Rights Reserved