
সত্যজিৎ রায়ের ‘হীরক রাজার দেশে’ সিনেমার উদাহরণ টেনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অনেকে হীরক রাজার দেশে ছবিটা দেখেছেন। ছবিতে বলছে- দড়ি ধরে মারো টান, রাজা হবে খান খান। সুতরাং দড়ি ধরে টান মারার সময় এসেছে। পদত্যাগ না করলে আ. লীগ সরকারের ফয়সালা রাজপথেই করা হবে।
বুধবার (৮ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১৭তম কারাবন্দি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। আমাদের নেতা তারেক রহমান সাহেব আমাদের খুব পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন যে, ফয়সালা হবে রাজপথে। রাজপথেই আমরা আছি, রাজপথেই এর মীমাংসা আমরা করব ইনশাল্লাহ। এখনও সময় আছে সরে যান।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এখনও সময় আছে, আমরা যে ১০ দফা দিয়েছি সেই ১০ দফা মেনে নিন। পদত্যাগ করুন, সংসদ বিলুপ্ত করুন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। তা না হলে পালাবার পথ খুঁজে পাবেন না। আপনারা বলেন, কোথায় পালাব। অতীতে তো পালিয়েছেন। কেউ পাকিস্তানে পালিয়েছেন, কেউ ভারতে পালিয়েছেন ১৯৭১ সালে। এবার কিন্তু সেই পথও খুঁজে পাবেন না। আবারও বলছি, দয়া করে পরিবর্তন নিয়ে আসুন। এই সংকট উত্তরণ করুন। নইলে কোথাও পালাবার পথ পাবেন না।’
‘রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনাস্টিউশন মিলনায়তনে বক্তব্য দিয়ে ফেরার পথে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোনায়েম মুন্নাকে গ্রেফতারের নিন্দা’ জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি অবিলম্বে মোনায়েম মুন্নাকে মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। রুহুল কবির রিজভীসহ আটক নেতাদের মুক্তির দাবি করছি। এভাবে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা, আটক করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে, এর জবাব আপনাদের দেয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘পঞ্চগড়ের হামলার ঘটনায় আমাদের জড়ানোর জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্য দিয়েছেন যে, বিএনপিও জড়িত আছে। আমাদের প্রায় দেড়শ’ মানুষকে সেখানে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্যটা কী? উদ্দেশ্য একটাই আবার সেই ষড়যন্ত্র করে বিএনপিকে সাম্প্রদায়িক ঘটনার জন্য দায়ী করে উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপাতে চায়। কিন্তু এখন আর জনগণ তাদের সেই কথা শুনবে না, তাদের সেই মিথ্যা মন্তব্য শুনবে না। তারা খুব ভালো করে জানে যে, আওয়ামী লীগ চক্রান্তমূলকভাবে নিজেরাই এই ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে।’
ফখরুল বলেন, ‘রেলমন্ত্রী যখন সেখানে গেছেন তখন আহমদীয়া সম্প্রদায়ের লোকেদের জিজ্ঞাসা করেছেন এর জন্য দায়ী কে? কারা করেছে? তখন তারা বলেছেন, আপনার (মন্ত্রী) পাশে যারা যারা আছে তারাই এজন্য দায়ী, আওয়ামী লীগের লোকেরা করেছে।’
সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কীভাবে দেশ চালাও? পর পর তিন দিন বিস্ফোরণ হলো। সায়েন্স ল্যাবরেটরির কাছে হলো, চট্টগ্রামে হলো, ঢাকায় গতকালের বিস্ফোরণে ১৯ জনের প্রাণ গেল। কারো কোনো দায় নেই। সরকার চালাচ্ছো তোমরা? তোমাদের সব প্রতিষ্ঠান আছে- যাদের দায়িত্ব হচ্ছে এগুলো দেখা যে, কোথায় ঠিকমতো আছে কি-না, সেগুলোর দিকে তোমাদের কোনো নজর নেই। নজর একটাই- চুরি করা, দুর্নীতি করা।’
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে এবং প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরীর সঞ্চালনায় আলোচনাসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লা্হ আমান, আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, আবদুস সালাম আজাদ, অঙ্গসংগঠনে মহিলা দলের হেলেন জেরিন খান, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক: মোঃ শাহাব উদ্দিন, প্রকাশক: মোঃ শাহজাদা হোসাইন, নির্বাহী সম্পাদক : এম শহিদুল ইসলাম নয়ন
অফিস: ১৪/১৬ কাজলারপাড়, ভাঙ্গাপ্রেস, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২৩৬
@ Economicnews24 2025 | All Rights Reserved