নিজস্ব প্রতিনিধিঃ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে স্মরণ করছি ৩০ লক্ষ শহীদকে যারা অকাতরে দিয়ে গেছে প্রাণ, ২ লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে পেয়েছি লাল সবুজের পতাকা বাংলাদেশ নামে স্বাধীন সার্বভোম একটি রাষ্ট্র। শ্রদ্ধার সাথে শরন করছি ছালাম, রফিক, বরকত, ভাষা শহীদ ও সখিনার মত বীরঙ্গনাকে।
জাতির জনকের স্বপ্ন ছিলো পরিবার ছোট রেখে ৫৫৫৯৮ বর্গমাইলে ছোট্ট ভূ-খন্ডে সোনার বাংলা গড়ার তাই তিনি বলেছিলেন বছর বছর যে হারে মানুষ বাড়ছে যদি পপুলেশন কন্ট্রোল করা না হয় তাহলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আবাদ যোগ্য কোন জমি থাকবে না- তাই পপুলেশন কন্ট্রোল করতে হবে। সেই থেকে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে “পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা পদের সৃষ্টি। সেই থেকে “পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা পদে পদ হতে তিন ধারায় পদোন্নতি প্রদান করা হতো, প্রদান করা হয়েছে সিলেকশন গ্রেড। যদিও আমরা তখন উন্নয়ন খাত ভুক্ত ছিলাম। আমরা রাজস্বখাতে স্থানান্তরি হওয়ার পর আমলা তান্ত্রিক জটিলতার জন্য শুধুমাত্র পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা” পদ ধারীগনের পদোন্নতি, সিলেকশন গ্রেড সহ সকল ন্যায্য পাওনা হতে বঞ্চিত করা হয়েছে।
অথচ পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অন্যান্য পদধারীগণ যথাযথ ভাবে পদোন্নতি পেয়ে এন ক্যাডার, কারিগরি ক্যাডার হয়েছে তাতে আমাদের সামাজিক মান ক্ষুন্ন সহ- অর্থনৈতিক ক্ষতি করা হয়েছে। যেহেতু অধিদপ্তর সহ মন্ত্রনালয়ের আমলাগণ আমাদের পদ, পদবি, পদোন্নতি, সিলেকশন গ্রেড নিয়ে জটিলতার সৃষ্টিকরেছেন, সেহেতু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আপনার হস্তক্ষেপ কামনা করে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আমাদের এই জটিলতা নিরসন করে ২০২৩-এর মূল বিলে সহযোগী পেশায় পদ মন্ত্রী পরিষদের মিটিংএ অনুমদোন সাপেক্ষে ২০২২-এর চূড়ান্ত নিয়োগ বিধি করলে আমাদের কোন আপত্তি থাকবেনা আমাদের এই “পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা প যেহেতু পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের জন্ম নগ্ন হতে অর্গানো গ্রাম মূলে রয়েছে এবং মহামান্য সুপ্রীম কোর্টেও মামলা রয়েছে সেই মর্মে আমার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানিয়ে দিচ্ছি আরও কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য হবে। আমরাও মানুষ। বাংলাদেশের এমন কোন আইন নাই যেখানে ২৪/৭ বলবৎ আছে অথচ আমাদের কে দিয়ে সেই ডিউটি পালন করানো হচ্ছে, অপরদিকে কোথাও কোথাও নার্সিং অ্যাটেনডেন্সদের, পরিদর্শিকার দায়িত্ব পালনের আদেশ করে আমাদের “পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকাগনের” পদের মান ক্ষুন্ন করা হয়েছে।
অপর দিকে ২০১৬ ইং সালে প্রধান মন্ত্রীর আদেশে সহযোগী পেশায় পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা” পদ বাদ পড়া অবস্থায় ২০১৭ইং সালে ২২৪ জন “পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার সার্কুলার দিয়ে ৩০৫ জন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা” নিয়োগ দিয়েছে। ২০২০ এ সার্কুলার দিয়ে ১০৮০ পদেরলিখিত পরীক্ষা আগামী ১৮/০২/২০২৩ইং তারিখে গ্রহন করা হবে মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, যা কিনা ২০২৩-এর মূল বিলে বাদ দেয়া হয়েছে। যা কিনা ১৯৯৬ইং সালের নিয়োগ বিধি এবং ২০১৬ ও ২০২৩ এর মূল বিলের সাথে সরাসরি সাংঘসিক। আমরা পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকাগন এই নিয়োগ বিধি এবং মূল বিলের সাংঘর্ষিকতা হতে পরিত্রান চাই। নইলে বিভিন্ন প্রেস মিডিয়া মাধ্যমে আবারও আবারোও জানাতে চাই আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকেছে তাই আগামী এক সপ্তাহ অর্থাৎ সাত দিন পর কঠিন পদক্ষেপ গ্রহনে বাধ্য হব। সর্বশেষ কথা মাননীয় প্রধান মন্ত্রী যে, বাংলাদেশে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আমরা নিষ্পেষিত, আমরা সরাসরি আপনার সাথে দেখা করে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা পদের গুরুত্বও বিশদ ব্যাখ্যা সহ সকল পাওনা না পাওয়ার নিরসন চাই ।
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু, জয় হোক “পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা সনের”।
পরিবার কল্যান পরিদর্শিকাগনের সংবাদ সম্মেলনে ৬ দফা দাবী সমূহ:
১। ২০১৬ ইং সালের ২২ শে ডিসেম্বর যে “পরিবার কল্যান পরিদর্শকা” পদ সৃষ্টি করা হয়েছে মুলতঃ এই পদ কোন পদের বিপরীতে বুঝানো হয়েছে? এই “পরিবার কল্যান পরিদর্শকা” পদ হতে পদোন্নতি হয়ে কোন পদ হবে এবং গ্রেড কত হবে তা স্পষ্টি করন নাই যেহেতু এই “পরিবার কল্যান পরিদর্শকা” পদ নতুন ভাবে ২০১৬ ইং সালে মূল আইনে সৃষ্টি করা হয়েছে তা যতদিন পর্যন্ত স্পষ্টি করণ করা হবেনা, ততদিন পর্যন্ত ২০২২ এর নিয়োগ বিধিমালা চুড়ান্ত হওয়ার ব্যাপারে পরিবার কল্যান পরিদর্শিকা পদধারীগনের আপত্তি রয়েছে। কারন ২০১৬ ইং সালের ২২ শে ডিসেম্বর মূল আইনে সহযোগী পেশায় “পরিবার কল্যান পরিদর্শিকা” পদ বাদ পড়েছে। যা ২০২৩ এর মূল বিলেও সংশোধ করা হয়নি। অতএব মূল গেজেটে “পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা পদ সংযুক্ত করা হোক।
২। সেহেতু পরিবার কল্যান পরিদর্শিকা পদ বহাল রেখে শিক্ষাগত যোগ্যতা ডিগ্রী/সমমান পাশ করা হোক এবং মৌলিক প্রশিক্ষন মেয়াদ ১৮(আঠারো) মাসের সঙ্গে ৬ মাসের ই ও সি/৬ মাসের মিডওয়াইফারী, ৬ মাসের আই.সি.টি. ৬ মাসের প্যাথলজি প্রশিক্ষন যুক্ত করে মোট প্রশিক্ষণ মেয়াদ মোট ৩৬ (ছত্রিশ) মাসে উন্নিত করা হোক। যার গ্রেড হতে হবে দশম।
৩। ১৯৯৩ইং সালের নিয়োগ বিধি অনুযায়ী প্রাপ্ত পদোন্নতি পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা পদ হতে “সিনিয়র পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা” পদোন্নতির ধারা অব্যাহত রেখে ২০০৮ এর গেজেটে সহকারী পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা (এম.সি.এইচ এন্ড এফপি) পদ পরিবর্তন করা হয়েছে তা অব্যাহত থাকবে এবং ১৯৯৩ ইং সালের শতকরা শতভাগ সিনিয়র ভিজিটর পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হবে তা স্পষ্টি করণ নাই, সেই মর্মে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে ১০% নির্ধারণ সাপেক্ষে পাওনা পদোন্নতির ক্ষেত্রে ১০% বহাল রাখতে হবে।
৪। ১৯৯৬ এর নিয়োগ বিধি অনুযারী পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা পদ হতে ৮% সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, ফিল্ড ট্রেনার পদ হতে ২% সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পদে পাওনা পদোন্নতি দিতে হবে।
৫। ২০০৫-এর জন প্রশাসন মন্ত্রনালয়ের এস.আর.ও এর সিদ্ধান্ত, স্বাস্থ শিক্ষা ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয় কর্তৃক আন্ত-মন্ত্রনালয় মিটিং কর্তৃক সিদ্ধান্ত এবং সংসদ সচিবালয় কর্তৃক ষ্ট্যান্ডিং বোডের সুপারিশ ক্রমে উন্নয়ন খাত হতে রাজস্ব খাতে স্থানান্তারিত শুধু মাত্র পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কর্মচারীগনের বেতন, টাইমস্কেল, সিলেকশন গ্রেড সমূদয় পাওনা অর্থ অবসরে যাওয়ার সাথে সাথে প্রদানের জন্য অনুরোধ সহ জোর দাবী জানাচ্ছি।
৬। যেহেতু সরকার ঘোষিত ২০১৫ সালের পর আর কোন টাইমফেল, সিলেকশন গ্রেড প্রদান করা হবে না। সেহেতু ২০১৫ ইং সালের পূর্বে পাওনা সাপেক্ষে শতভাগ সিলেকশন গ্রেড প্রদান করা হোক। যা আমাদের পাওনা অধিকার।