
করজাল সম্প্রসারণ ও রাজস্ব আদায়ে গতি আনতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে ভেঙে দুইভাগ করার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু।
রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের কার্নিভাল হলে রাজস্ব সম্মেলন-২০২৩ উপলক্ষে আয়োজিত ‘জাতীয় উন্নয়নে ভ্যাটের ভূমিকা: বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনারে এ দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এলডিসি থেকে গ্র্যাজুয়েট হওয়ার পর রাজস্ব আদায়ে গতি আনতে হলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ভেঙে দুইভাগ করতে হবে। এক্ষেত্রে রাজস্ব আহরণ এবং রাজস্ব সম্প্রসারণ নামের আলাদা দুটি বিভাগ গঠন করা যেতে পারে।’
এদিকে অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের পর কাস্টমস থেকে রাজস্ব কমে যাবে। এ কারণে মূল্য সংযোজন কর এবং আয়কর থেকে আরও রাজস্ব বাড়াতে এনবিআরকে দেন নির্দেশ বাণিজ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সবাইকে ইনকাম ট্যাক্স ও ভ্যাট দেয়ায় উৎসাহিত করতে হবে। যাদের ইনকাম ট্যাক্স দেয়ার সক্ষমতা হয়েছে, তারা ট্যাক্স দেবেন এবং পণ্য কেনার ক্ষেত্রে ভ্যাট দেবেন। তবেই দেশের উন্নয়ন আরও বৃদ্ধি পাবে।’
দেশের উন্নয়নে রাজস্ব অতি গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই রাজস্ব বাড়াতে ইনকাম ট্যাক্স ও ভ্যাট দিতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। অনুপ্রাণিত করতে হবে। তবেই দেশ এগিয়ে যাবে। দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের স্মার্ট হয়ে কাজ করতে হবে। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে ভ্যাট ও ট্যাক্স যথাযথভাবে দিতে হবে। এমনকি ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো মামলা ও অন্যান্য সমস্যায় পড়লে আমরা সহযোগিতা করবো।’
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, স্বাধীনতার পর ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে মাত্র ১৬৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার রাজস্ব আহরণের মধ্যদিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ। এর ৫০ বছর পর এসে ২০২১-২২ অর্থবছরে রাজস্ব আহরণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ১ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা।
অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে ভ্যাট। মোট রাজস্বের ৩৬ শতাংশ ভ্যাট থেকে আসে আর ৩৪ শতাংশ আসে আয়কর থেকে। এছাড়া কাস্টমসের অবদান ৩০ শতাংশ।
এনবিআর বলছে, বর্তমানে জিডিপির প্রায় ৫০ শতাংশ পণ্য ও সেবা ভ্যাট অব্যাহতির আওতাভুক্ত থাকায় দেশে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ছে না। দক্ষিণ এশিয়ায় জিডিপি অনুপাতে কর আদায়ে বাংলাদেশের নিচে রয়েছে একমাত্র শ্রীলঙ্কা। দ্বীপ দেশটির কর-জিডিপি অনুপাত ৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এর পরেই রয়েছে বাংলাদেশ। কর-জিডিপি অনুপাত ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ।
সম্পাদক: মোঃ শাহাব উদ্দিন, প্রকাশক: মোঃ শাহজাদা হোসাইন, নির্বাহী সম্পাদক : এম শহিদুল ইসলাম নয়ন
অফিস: ১৪/১৬ কাজলারপাড়, ভাঙ্গাপ্রেস, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২৩৬
@ Economicnews24 2026 | All Rights Reserved