ইমন মাহমুদ লিটন, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের ভৈরবে চলন্ত মাহিন্দ্র ট্রাক্টর থেকে লাফ দিয়েও বাঁচলেন না নূর আলম সিকদার (১৫) নামে এক কিশোর। ১১ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৩টায় উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের খলাপাড়া এলাকায় পাকা রাস্তা থেকে কাঁচা রাস্তায় চলার সময় মাহিন্দ্র ট্রাক্টর উল্টে নিচে চাপা পড়ে সে নিহত হয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার এসআই শাখাওয়াত হোসেন।
নিহত নূর আলম উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের লুন্দিয়া খলাপাড়া এলাকার আজগর আলী সিকদারের ছেলে।
স্থানীয় ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নূর আলমের পরিবারে দুই ভাই ও তিন বোন রয়েছে। ভাই-বোনদের মধ্যে সে দ্বিতীয়। জীবিকার তাগিদে ইটবোঝাই মাহিন্দ্র ট্রাক্টরে হেলপারের কাজ করত। প্রতিদিনের মতো রোববার সকালে গাড়ির ড্রাইভার কাইয়ুম মিয়ার সাথে কাজে বের হয়। দুপুরে ইটবোঝাই মাহিন্দ্র ট্রাক্টর খলাপাড়া এলাকায় গ্রাহকদের বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে মূল সড়ক থেকে কাঁচা রাস্তায় নামতে গিয়ে মাহিন্দ্র ট্রাক্টর উল্টে যায়। সে বাঁচার জন্য লাফ দিলে গাড়ির নিচে পড়ে যায়। এ সময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. উম্মে হাবীবা জুঁই বলেন, বিকাল ৫টার দিকে নূর আলম নামে এক কিশোরকে স্থানীয় লোকজন নিয়ে আসলে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে মরদেহ নিয়ে যায়। যতটুকু বুঝতে পেরেছি, গাড়ির নিচে চাপা পড়েই তার মৃত্যু হয়েছে।
এ বিষয়ে নিহতের বাবা আজগর আলী সিকাদার বলেন, “আমার ছেলে লেবারি (শ্রমিকের কাজ) করে পরিবারের হাল ধরেছিল। কাঁচা রাস্তায় গাড়ি উল্টে নিচে পড়ে মরে গেছে। অসময়ে আমাদের ছেড়ে চলে গেল! আমি অসুস্থ থাকায় কাজ করতে পারি না, পুরো পরিবারটি ছেলের ওপরই নির্ভর ছিল।
ভৈরব থানার এসআই শাখাওয়াত হোসেন বলেন, খবর পেয়ে সন্ধ্যায় মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। লুন্দিয়া খলাপাড়া এলাকার কাঁচা রাস্তায় গাড়িটি উল্টে গেলে নূর আলম লাফ দিয়ে বাঁচতে চেয়েছিলেন। কিন্তু গাড়িটি উল্টে গিয়ে তার ওপরই পড়ে। ড্রাইভারসহ স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পরিবারের সাথে কথা বলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।