
ইমন মাহমুদ লিটন, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: চোর সন্দেহে এক যুবককে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় সংঘর্ষকারীরা রাস্তার পাশে থাকা দোকানপাট ও বাড়িঘর ভাঙচুর করে। সংঘর্ষে আহত হয় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জনের মতো।
আজ ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় পৌর শহরের চণ্ডিবের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রোড এলাকার শাহাদাত মেম্বারের বাড়ির যুবকদের সাথে সাত ভাইয়ের বাড়ির যুবকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ বাধে। এর আগে ৬ এপ্রিল রাত ১১টায় চোর সন্দেহে সাত ভাইয়ের বাড়ির যুবক শারফিনকে মারধরের জেরে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এদিকে থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থল থেকে উভয় পক্ষের ৭ জনকে আটক করে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ।
সংঘর্ষে বাবুল মিয়া (৫০), নুর মোহাম্মদ (৪৫), রিফাত (২০), শাহ আলি (৩৫), আইমন (১৬), বাচ্চু মিয়া (৪৫), রাহুল (২২), শারফিন (১৭) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন। এদের মধ্যে বাবুল মিয়া ও বাচ্চু মিয়াকে কিশোরগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়াও উভয় পক্ষ হাসপাতাল রোড এলাকার হওয়ায় আহতের অনেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে পারেনি। অন্যান্য আহতরা বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৬ এপ্রিল সোমবার রাত ১১টায় পৌর শহরের চণ্ডিবের এলাকার সাত ভাই বাড়ির শারফিন ও তাঁর বন্ধু শাহাদাত মেম্বারের বাড়িতে গেলে চোর সন্দেহে শারফিনের সাথে মেম্বার বাড়ির যুবকদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সাত ভাই বাড়ির শারফিনের সাথে মেম্বার বাড়ির যুবকদের মারামারি হয়। রাতে দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে ভৈরব থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এদিকে মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টায় শাহাদাত মেম্বার বাড়ির উদয় নামে এক যুবক সাত ভাই বাড়ির সামনে দিয়ে গেলে তাকে আটক করে মারধরের চেষ্টা করে। পরে বিষয়টি দুই পক্ষ মীমাংসা করতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার এক ফাঁকে মারামারি হয়। এরপরই উভয় পক্ষ দা, বল্লম, লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় সংঘর্ষে রাস্তার পাশে থাকা বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়। টানা ১ ঘণ্টা চলা সংঘর্ষে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় উভয়পক্ষের নারী-পুরুষসহ ২০ জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ৭ জনকে আটক করেছেন।
সাত ভাই বাড়ির আহত বাচ্চু মিয়া বলেন, আমার ছেলে শারফিন শাহাদাত মেম্বারের বাড়ির উপর দিয়ে যেতে চাইলে রাত ১১টায় আমার ছেলেকে মারধর করে। সকালে এটি হট্টগোল হলে মীমাংসার কথা বলে আমাকেও তাদের বাড়িতে যেতে বলে আমি শাহাদাত মেম্বারের বাড়িতে গেলে আমাকেও মারধর করে আহত করে।
শাহাদাত মেম্বারের বাড়ির শাহেদ আলি বলেন, রাতে সাত ভাই বাড়ির দুই যুবক আমাদের বাড়িতে চুরি করতে আসে। এর আগেও আমাদের বাড়ির পানির মোটরসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিস চুরি হয়েছে। রাতে আমার বাড়িতে উঁকিঝুঁকি করলে চোর সন্দেহে সাত ভাই বাড়ির শারফিনকে চর থাপ্পড় দেয়। পরে সে লোকবল নিয়ে এসে রাতে আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। সকালে আমার ভাতিজা উদয় ব্যাংকে জমা দেয়ার জন্য নগদ টাকাসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথিমধ্যে তাকে মারধর করে টাকাসহ তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেল রেখে দেয়। পরে বিষয়টি মীমাংসা করতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চণ্ডিবের এলাকায় সোমবার রাতে ও মঙ্গলবার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশসহ আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থল থেকে উভয় পক্ষের ৭ জনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সম্পাদক: মোঃ শাহাব উদ্দিন, প্রকাশক: মোঃ শাহজাদা হোসাইন, নির্বাহী সম্পাদক : এম শহিদুল ইসলাম নয়ন
অফিস: ১৪/১৬ কাজলারপাড়, ভাঙ্গাপ্রেস, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২৩৬
@ Economicnews24 2026 | All Rights Reserved