
লিটন পাঠান, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার চা বাগান ও বনাঞ্চল গুলো বরাবরই পর্যটকদের মূল আকর্ষণের স্থান। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে এসব স্থানে কমছে পর্যটকের আসা-যাওয়া। স্থানীয় একটি অপরাধী চক্রের আতঙ্কে বন-বাগানের টানে ছুটে আসা পর্যটকরা আগের মতো স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন না বলে জানিয়েছেন। বনবাদাড়ে ওত পেতে থাকা এই ভয়ংকর শিকারিরা হানা দিয়ে পর্যটকদের সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, এই চক্রকে বাগে আনা না গেলে শিগগিরই পরিস্থিতির পরিবর্তন না ঘটলে সংকটে পড়তে পারে স্থানীয় পর্যটন ও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত শতাধিক মানুষের জীবন ও জীবিকা। কিছু অসাধু মানুষের কারণে পর্যটন খাতে ভাটা পড়লে তা মেনে নেওয়া কঠিন। এমন অবস্থায় অনেকেই বলছেন, প্রশাসন নিরাপত্তার কথা বললেও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা যে নিশ্চিত করা হয় না, এসব তারই প্রমাণ। বিশেষ করে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, সুরমা চা বাগান, তেলিয়াপাড়া চা বাগান এবং রামগঙ্গা চা বাগান এলাকায় বেড়াতে আসা দর্শনার্থীরা নানা ধরনের অপরাধের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এসব এলাকায় প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণির অপরাধী গোপনে তাদের অনুসরণ করে। চা বাগানের ঘন অরণ্য অথবা পাহাড়ি পথের নির্জন অংশে পেলেই দুর্বৃত্তরা ঘিরে ধরছে পর্যটকদের।
লুটে নিচ্ছে সবকিছু ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক সময় বনে যাওয়া পর্যটকরা বুঝতেই পারেন না যে তাদের ওপর নজর রাখা হচ্ছে। দূর থেকে অনুসরণ করে অপরাধীরা সুযোগ বুঝে নির্জন স্থানে হানা দেয়। এরপর মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নারীর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়ে বলেও অভিযোগ রয়েছে। মাধবপুরের পর্যটন স্পট গুলোতে এসব ঘটনা বেশ কয়েক বছর ধরে চললেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা প্রকাশ পায় না। ফলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ঈদের দু’দিন পর সুরমা চা বাগানে বেড়াতে গিয়ে এক পর্যটক তরুণী অপহরণ ও ধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে উপজেলার পরমানন্দপুর গ্রামের লেদু মিয়ার ছেলে জসিম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। এরপরও ওই এলাকা নিয়ে ভয় কাটছে না মানুষের। এ বিষয়ে সাতছড়ি টিপরা বস্তির হেডম্যান চিত্তরঞ্জন দেববর্মা জানান, জসিম একজন ভয়ংকর অপরাধী। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন যুবক রয়েছে; যারা দীর্ঘদিন ধরে এসব অপরাধ করে বেড়াচ্ছে।
গত বছরও সে একই ধরনের ঘটনায় জড়িত ছিল। তাদের কারণে এখানকার পর্যটন যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সেটি বোঝার মানুষ তারা নয়। বাইরের লোকজন সরল বিশ্বাসে এখানে বেড়াতে আসেন কিন্তু অপরাধীরা জঙ্গলে লুকিয়ে থেকে তাদের টার্গেটে পরিণত করে। এ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শাহজাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন চৌধুরী বলেন, তেলিয়াপাড়া রেললাইন থেকে চুনারুঘাট পর্যন্ত পুরাতন মহাসড়কের দুই পাশে মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিন অনেক মানুষ আসেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও কঠোর ভূমিকা পালন করা উচিত। এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন, মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহেল রানা। তিনি বলেন, ঈদের পরের ঘটনায় তারা দ্রুত অভিযান চালিয়ে জসিমকে আটক করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধু অভিযান চালালেই হবে না, স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাতছড়ি ও আশপাশের এলাকায় একটি পুলিশ ফাঁড়ি বা পর্যটন পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা জরুরি। এতে করে পর্যটকদের নিরাপত্তা বাড়বে এবং অপরাধীরা সহজে পালাতে পারবে না। প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে জনপ্রিয় এই এলাকা যেন অপরাধীদের অভয়ারণ্য না হয়ে ওঠে, এটাই দাবি স্থানীয়দের।
সম্পাদক: মোঃ শাহাব উদ্দিন, প্রকাশক: মোঃ শাহজাদা হোসাইন, নির্বাহী সম্পাদক : এম শহিদুল ইসলাম নয়ন
অফিস: ১৪/১৬ কাজলারপাড়, ভাঙ্গাপ্রেস, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২৩৬
@ Economicnews24 2026 | All Rights Reserved