বৈশ্বিক তেলের বাজারে বড় ধরনের স্বস্তির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে চীনের জলসীমা পর্যন্ত বিভিন্ন জাহাজে ভাসমান অবস্থায় মজুত থাকা প্রায় ১৭ কোটি (১৭০ মিলিয়ন) ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল বিশ্ববাজারে আসার অপেক্ষায় রয়েছে।
শনিবার (২১ মার্চ) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল এখন বাজারে আসার পথে, যা বিশ্বজুড়ে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়ার দেশগুলো তাদের অপরিশোধিত তেলের চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। সম্প্রতি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হওয়ায় শোধনাগারগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল। এমন সংকটের মুহূর্তে এই ১৭ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে এলে উৎপাদন ঘাটতি অনেকটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
২০১৮ সালে নিষেধাজ্ঞার পর থেকে চীন ছিল ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা। তবে বর্তমানে ভারতসহ অন্যান্য এশীয় আমদানিকারক দেশগুলোও এই তেল কেনার বিষয়ে প্রবল আগ্রহ দেখাচ্ছে। ভারতের শোধনাগারগুলো ইতিমধ্যে সরকারের নির্দেশনা ও পেমেন্ট সংক্রান্ত স্বচ্ছতার অপেক্ষায় রয়েছে।
তবে এই তেল আমদানির ক্ষেত্রে এখনো কিছু কারিগরি ও আইনি জটিলতা রয়ে গেছে। বিশেষ করে অর্থ প্রদানের পদ্ধতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং সমুদ্রের এই তেলের একটি বড় অংশ পুরনো ‘শ্যাডো ফ্লিট’ জাহাজে বহন করা হচ্ছে। এ ছাড়া তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে তেল বিক্রির কারণে চুক্তির প্রক্রিয়াগুলো কিছুটা জটিল।
তবুও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এবং তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এই বিপুল পরিমাণ ইরানি তেল এখন বড় আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্পাদক: মোঃ শাহাব উদ্দিন, প্রকাশক: মোঃ শাহজাদা হোসাইন, নির্বাহী সম্পাদক : এম শহিদুল ইসলাম নয়ন
অফিস: ১৪/১৬ কাজলারপাড়, ভাঙ্গাপ্রেস, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২৩৬
@ Economicnews24 2025 | All Rights Reserved