
ইমন মাহমুদ লিটন, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বাবার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ব্যবসার টাকা ও পৈতৃক সম্পদ থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলেছেন নিয়ামুল হোসেন মকুল নামে এক ব্যক্তি। নিজের আপন মা, ছোট ভাই ও বোনের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হিসাব গোপন করার এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে পৌর শহরে জগন্নাথপুর ৬নং ওয়ার্ডের জহুর আলী বাড়ির মৃত আব্দুল জলিল মিয়ার পরিবারের সদস্যের মাঝে।
রোববার (০৮মার্চ) সরেজমিনে গিয়ে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরহুম আব্দুল জলিল জীবদ্দশায় একটি 'প্লাস্টিক দানা'র ফ্যাক্টরি পরিচালনা করতেন। ২০২০ সালে তিনি স্ত্রী খাদিজা বেগম, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর সময় ব্যবসায়িক তহবিলে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা গচ্ছিত ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী বড় ছেলে নিয়ামুল হোসেন মকুল বলেন, আমার বাবা মরহুম আব্দুল জলিল মারা যাওয়ার পর ব্যবসার দায়িত্ব নেয় আমার ছোট ভাই মাকসুদ হাসান মুন্না। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও সে ব্যবসার ৩০ লক্ষ টাকার কোনো হিসাব আমাকে দেয়নি। উল্টো মা খাদিজা বেগম ও বোন মনিকা বেগমের যোগসাজশে পরিবারের অন্য সদস্যরা আমাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। আমার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠাই। আামর অপরাধ আমি বাবা মারা যাওয়ার পর ব্যবসার ৩০লাখ টাকা হিসাব ও আমাকে পৈত্রিক সম্প্রীতি বুঝিয়ে দিতে বলায় তারা বিভিন্ন সময় আমাকে হুমকি হামলা করে আসছে। আমি চাকরি সুবিধাতে পরিবার নিয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে ভৈরবের বাহিরে থাকি। আমার অনুপস্থিতিতে রুমের তালা ভেঙে আমার ব্যবহারের প্রয়োজনীয় জিনিস প্রত্র অন্য এক বাড়িতে রেখে আসে ও আমার তৈরি ফার্নিচার খাট ও সুফা তারা রেখে দেয়। আমাকে আমার ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করার পাঁয়তারা করছে তারা। আমি আমার বাবার রেখে যাওয়া সম্পদের সঠিক বণ্টন ও হিসাব চাই।
অভিযোগের বিষয়ে মা খাদিজা বেগমের জানান, যে টাকার বিষয়ে অভিযোগ করা হচ্ছে যেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার স্বামী জমানো কোনো টাকা বা ব্যবসা ছিলো না।
আমার স্বামী মারা যাওয়া পর বিভিন্ন সময় বড় ছেলে নিয়ামুল হোসেন মকুল আমাকে মারধর করে এ বিষয়ে আমি কোটে মামলা দায়ের করেছি। আমাদের কোন ব্যবসা ছিল না অন্যজনের ফ্যাক্টরিতে চাকরি করতেন আমার স্বামী। এলাকার দরবার শালিশের মাধ্যমে বসে বিল্ডিং এর রুমের মারফতে ৪ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে এবং তাকে সম্পত্তির বাগ হিসাবে আলাদা জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু এজ বদল দলিল হয় নাই।
স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহিম মিয়া বলেন, আব্দুল জলিলের বড় ছেলে নিয়ামুল হোসেন মকুল ও ছোট ছেলে মাকসুদ হাসান মুন্না দুই ভাইয়ের মাঝে জায়গা নিয়ে দন্ধ হয়। তারপর আমরা এলাকাবাসী গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে শালিশের মাধ্যমে বিল্ডিং রুম বাবদ ৪ লাখ টাকা ও আলাদা জায়গা বুঝিয়ে দেয়। কিন্তু সম্পত্তি এখনো বাবা চাচাদের নামে রয়েছে একেকজন আলাদা জায়গা বাড়ি করে বসবাস করছে। এজ বদল দলিল হয় নাই। তার দাবি জায়গা নিজের নামে এজবদল দলিল করে দেওয়ার জন্য। কিন্তু একেকজন একজায়গায় থাকায় এজ বদল দলিল করা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু জায়গা বিষয় সমাধান করেই যার যার জায়গায় তারা স্থাপনা তৈরি করে থাকছেন।
সব সমাধান করে দিলেও দুই পক্ষই এখনো মিমাংসায় যাচ্ছে না। এতে করে এই বিরোধ নিয়ে পরিবারটির মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নিয়ামুল হোসেন মকুল আরো অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা কোনো সঠিক সমাধানে আসতে রাজি হননি। তাছাড়া এসব বিষয় নিয়ে অভিযুক্তরা আমার শরীরে আঘাত পর্যন্ত করেছে। যার কারণে আমি আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। এরপরও তারা থেমে নেই আমাকে নানান ভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছে।
কোটের মাধ্যমে পরিদর্শনে আসা অভিযুক্তদের পক্ষের এডভোকেট মনির হাসান বলেন, মা তার ছেলে নিয়ামুল হোসেন মকুলের বিরুদ্ধে কোটে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় কোটের নির্দেশকর্মে উভয় পক্ষের দুজন এডভোকেট আমরা সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে তার মালামাল বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য আসা। তাই আমরা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মকুল কে তার মালামাল বুঝিয়ে দেয়।
সম্পাদক: মোঃ শাহাব উদ্দিন, প্রকাশক: মোঃ শাহজাদা হোসাইন, নির্বাহী সম্পাদক : এম শহিদুল ইসলাম নয়ন
অফিস: ১৪/১৬ কাজলারপাড়, ভাঙ্গাপ্রেস, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২৩৬
@ Economicnews24 2025 | All Rights Reserved