
[ঢাকা, মার্চ ০৩, ২০২৬] স্পেনের বার্সেলোনায় চলমান টেলিযোগাযোগ খাতের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক আয়োজন মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস (এমডব্লিউসি)–২০২৬–এ অংশ নিয়েছে দেশের শীর্ষ ডিজিটাল অপারেটর বাংলালিংক।
বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি ও টেলিকম প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের দ্রুত অগ্রসরমান ডিজিটাল খাতের চিত্র তুলে ধরেছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা–নির্ভর ডিজিটাল রূপান্তরের পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা করেছে বাংলালিংক।
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক নাসডাক–তালিকাভুক্ত বৈশ্বিক ডিজিটাল অপারেটর ভিওন–এর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বাংলালিংক। ভিওন গ্রুপ বর্তমানে বিশ্বের পাঁচটি উদীয়মান বাজারে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব বাজারের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৫৩ কোটি।
জিএসএমএ আয়োজিত এমডব্লিউসি টেলিযোগাযোগ খাতের বিশ্বের বৃহত্তম আয়োজন হিসেবে স্বীকৃত। প্রতি বছর ২০০–এর বেশি দেশ থেকে এক লাখেরও বেশি অংশগ্রহণকারী এতে যোগ দেন। এবারের প্রতিপাদ্য ‘দ্য আইকিউ এরা’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সমন্বিত আর্থিক সেবাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে—সেই প্রেক্ষাপটেই নির্ধারণ করা হয়েছে এ প্রতিপাদ্য।
চার দিনব্যাপী এই আয়োজনে বাংলালিংক ও ভিওনের শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈশ্বিক প্রযুক্তি অংশীদার ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করছেন। বিশ্বব্যাংক ও ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি)–এর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে। ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং এআই–নির্ভর উদ্ভাবনী কাঠামো নিয়ে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
এমডব্লিউসি–২০২৬–এ ভিওন গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কান তেরজিওগ্লু ‘ট্রান্সফর্মিং টুমরোজ কানেক্টেড ওয়ার্ল্ড’ (আগামী দিনের সংযুক্ত বিশ্বকে নতুনভাবে গড়ে তোলা) শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, টেলিকম অপারেটরদের দীর্ঘমেয়াদি প্রাসঙ্গিকতা শুধু সংযোগসেবা দেওয়ার ওপর নির্ভর করে না। বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি স্তরে কতটা কার্যকর ও অর্থবহ ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দেওয়া যাচ্ছে, সেটিই এখন মূল বিষয়। এই দর্শনই ভিওনের ডিও১৪৪০ কৌশলের ভিত্তি, যার লক্ষ্য দিনের ২৪ ঘণ্টার প্রতিটি মুহূর্তে গ্রাহকের কাছে প্রাসঙ্গিক থাকা।
তিনি বলেন, “আমাদের মূল দর্শন খুবই সহজ, গ্রাহক সবার আগে। এআইনির্ভর ডিজিটাল সমাধান কাজে লাগিয়ে ভিওন আর্থিক সেবা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, বিনোদন ও চলাচলসংক্রান্ত সুবিধা একীভূত করে হাতের নাগালে নিয়ে এসেছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও সমন্বিত ডিজিটাল অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ মানুষের জীবনকে আরও সহজ করার পাশাপাশি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে।
বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইওহান বুসে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তিনি বলেন, “নেটওয়ার্ক ও সেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংযোজন টেলিকম খাতকে প্রচলিত সংযোগসেবার সীমা ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে অপারেটররা ডিজিটাল ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বিস্তারে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এআই, সংযোগ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সমন্বয় এক নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করেছে। অংশীদারিত্ব ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে আমরা অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি সম্প্রসারণ করতে এবং একটি স্থিতিশীল ও ভবিষ্যৎ উপযোগী ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারব।”
বৈশ্বিকভাবে শিল্পখাত দ্রুত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ইকোসিস্টেমের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সেই ধারার সঙ্গে তাল মিলিয়েই বাংলালিংক তাদের কৌশল পুনর্গঠন করেছে। নেটওয়ার্ক পরিকল্পনা ও অপ্টিমাইজেশনে এআই ও মেশিন লার্নিং সংযোজনের ফলে সেবার মান ও দক্ষতা দুটোই উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রাহক অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করতে চালু করা হয়েছে এআইচালিত কাস্টমার সাপোর্ট টুল। একই সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে আর্থিক ও লাইফস্টাইলভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ করছে বাংলালিংক, যা দেশের ডিজিটাল ইকোসিস্টেমকে আরও সমৃদ্ধ করছে।
গত দুই দশকে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে এবং জাতীয় কোষাগারে অবদান রেখেছে ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে তারা। বর্তমানে সারা দেশে ৩ কোটি ৮০ লাখের বেশি গ্রাহককে সেবা দিচ্ছে বাংলালিংক।
সম্পাদক: মোঃ শাহাব উদ্দিন, প্রকাশক: মোঃ শাহজাদা হোসাইন, নির্বাহী সম্পাদক : এম শহিদুল ইসলাম নয়ন
অফিস: ১৪/১৬ কাজলারপাড়, ভাঙ্গাপ্রেস, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২৩৬
@ Economicnews24 2025 | All Rights Reserved